নামাযী ব্যক্তি মাকে কষ্ট দেয়া

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব১৩ আগস্ট, ২০২৫বান্দার হক, সামাজিকতা আচার ব্যবহার ও রাজনীতি

প্রশ্ন

জনৈক চাকুরীজীবি নামাযী ছেলে বিবাহের আগে মাসিক বেতন উঠিয়ে বিধবা মায়ের হাতে টাকা দিত। কিন্তু বিবাহের পর স্ত্রীর উপর ভার দিয়ে মা ও ভাই-বোনকে বলে, আজ থেকে তোমরা আমার কাছে কোন কিছুই চাইতে পারবে না। যা প্রয়োজন, আমার স্ত্রীর কাছে চাইবে। স্ত্রী দীর্ঘ দিন যাবত সকলের হাজত পূর্ণ করেছে। বর্তমানে ছেলেটির মাসিক ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকা আয় ও ব্যাংকে জমাকৃত টাকা থাকা সত্ত্বেও ছেলেটি মায়ের চাহিদা পূরণ করে না। মা ছেলেকে কষ্টে লালন-পালন করায়, সেই ছেলের এহেন আচরণে মা এখন দুঃখ প্রকাশ করছে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, উক্ত ছেলে শুধু নামাযী হওয়ার দরুন কি পরকালীন শাস্তি থেকে নিষ্কৃতি পাবে?

উত্তর

শরী‘আতের দৃষ্টিতে সামর্থ্য অনুযায়ী- মাতা-পিতার ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করা ছেলের জন্য জরুরী। আর সমস্ত বৈধ কাজে মায়ের কথার অনুসরণ করা কর্তব্য। তবে আল্লাহ ও তার রাসূলের বিরোধিতা হয়, এমন কাজে নয়। প্রশ্নে বর্ণিত সুরতে যেহেতু তার সামর্থ্য রয়েছে, সে জন্য তার করণীয় হচ্ছে, তার মাতাকে খুশী রাখা এবং নিজের পক্ষ থেকে মায়ের প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরা করা। কারণ, আল্লাহ রাসূল ﷺ বলেছেন, আল্লাহর সন্তুষ্টি মাতা-পিতার সন্তুষ্টির মধ্যে নিহিত। প্রশ্নে বর্ণিত ব্যক্তি শুধু নামাযী হওয়ার দরুন পরকালীন শাস্তি থেকে মুক্তি পাওয়া তো দুরের কথা দুনিয়াতেই বিভিন্ন শাস্তি ভোগ করতে হবে। অন্য হাদীসে বলা হয়েছে, মাতা-পিতার অবাধ্য ছেলে বেহেশতে যাবে না।

অবশ্য সংসার পরিচালনার দায়িত্ব স্ত্রীর উপর অর্পণ করা দোষের কিছু নয়। নিজে না পারলে এটা করা যেতে পারে। হাদীসে এদিকে ইংঙ্গিত রয়েছে যে, উত্তম স্ত্রী-স্বামীর মাল যথাযথভাবে হিফাজত করে। অবশ্য সাধ্যানুযায়ী পিতা-মাতার খিদমত ছেলে নিজের জিষ্মায় করবে। [প্রমাণঃ বাদায়িউস সানায়ি ৪৩০ পৃঃ, #মা‘আরিফুল কুরআন ৫:৪৬৪ পৃঃ, #তাফসীরে মাযহারী ৫:৪৩২ পৃঃ, #মিশকাত শরীফ ২:৪২১]

নামাযী ব্যক্তি মাকে কষ্ট দেয়া | ইসলামী যিন্দেগী