মসজিদ সম্পর্কিত মাসাইল

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব১ জানুয়ারি, ২০২৬মসজিদ মাদরাসা

প্রশ্ন

ক. হিংসা বা জিদের বশবর্তী হয়ে গ্রামে একটি মসজিদ বিদ্যমান থাকা সত্বেও আরেকটি মসজিদ নির্মাণ করে সেখানে নামাযের আদায় করলে তা সহীহ হবে কি?

খ. খাস জমি বা পত্তনী জমির উপর মসজিদ নির্মাণ করা যাবে কি?

গ. পুরাতন মসজিদের জন্য আদায়কৃত টাকা বা ক্রয়কৃত বস্তু সামাগ্রী জিদের বশবর্তী হয়ে নব নির্মিত মসজিদের কাজে খরচ করা যাবে কিনা?

ঘ. পুরাতন মসজিদের জন্য ইট, বালু সিমেন্ট দেওয়াওয়ালা মসজিদে বসে করলে সেই ইট, বালু, সিমেন্ট নতুন মসজিদের কাজে ব্যবহার করা যাবে কি?

উত্তর

ক. প্রশ্নে বর্ণিত গ্রামের নতুন মসজিদটি যদি ওয়াকফকৃত জমিতে প্রয়োজন ব্যতীত হিংসা-বিদ্বেষ আর জিদের বশবর্তী হয়ে নির্মাণ করা হয়ে থাকে, তাহলে তা মাকরূহ হয়েছে। আর যদি এতে পুরাতন মসজিদেটি অনাবাদ হওয়ার আশংকা থাকে তাহলে আরো বড় গুনাহ হবে এবং এর দ্বারা মসজিদ নির্মাণকারীর কোন সাওয়াব তো হবেই না, বরং গুনাহ হবে। কেননা, মসজিদ নির্মাণ করতে হবে প্রয়োজনের কারণে এবং একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে।

তবে নতুবা মসজিদটির ভিত্তি যদিও নাজায়িযও মাকরূহ তরীকায় হবে, তথাপি তাতে ইখলাসের সাথে নামায পড়েলে নামায আদায় হয়ে যাবে এবং পূর্ণ সাওয়াবও পাওয়া যাবে, ইনশাআল্লাহ।

জ্ঞাতব্যঃ যদি কোন শর‘ঈ কারণে (যথাঃ পুরাতন মসজিদে মুসল্লীদের স্থান সঙ্কুলান না হওয়া অথবা মসজিদ দূরে হওয়ার দরুন মসজিদে আসা মুসল্লীদের জন্য কষ্টকর হয় ইত্যাদি) নতুন মসজিদ নির্মাণ করায় কোন অসুবিধা নেই। বরং এমন অবস্থায় শরী‘আতের মসজিদ নির্মাণ করা প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে।

তাফসীরে কাশশাফে উল্লেখ্য যে, হযরত উমর রা. এর যুগে যখন মুসলমানদের বিজয়ের ধারা চলছিল, তখন তিনি ফরমান জারী করেছিলেন যে, তোমরা নিজ নিজ মহল্লায় মসজিদ নির্মাণ করো না, যা একটির অপরটির জন্য ক্ষতিকারক হয়।

উল্লেখ্য, নির্মাণকারীর ভ্রান্ত নিয়্যতের কারণে মসজিদ তৈরীর বিশাল সাওয়াব থেকে মাহরূম হওয়া সত্ত্বেও এ ধরণের মসজিদকে মসজিদে যিরার বলা যাবে না। কেননা, যদিও জিদ করে এসব মসজিদ তৈরি করা হয়, কিন্তু এমন মসজিদ দ্বারা ইসলাম ধ্বংস করার কোন পরিকল্পনা থাকে না। [প্রমাণঃ সূরা জ্বিন ১৮ আত-তাফসীরাতুল আহমাদিয়াহ ৩১২; ফাতাওয়ায়ে মাহমূদিয়া ৬:১৭৮; ইমদাদুল ফাতাওয়া ২:৬৭০; আযীযুল ফাতাওয়া ৬১০]

খ. সরকারী খাস জমিতে সরকারের অনুমতি ব্যতীত মসজিদ নির্মাণ করা জায়িয হবে না। কেননা, শর‘ঈ মসজিদ হওয়ার জন্য মসজিদের জমি ওয়াকফকৃত হওয়া শর্ত। এ জন্যে সরকারী জায়গায় মসজিদ করতে হলে আগে বা পরে সরকারী অনুমোদন নিতে হবে। অতএব, খাস জমিতে যদি সরকারের অনুমতি নিয়ে মসজিদ বানানো হয় তাহলে তা জায়িয হবে এবং শরী‘আত সেটা মসজিদ বলে গণ্য করবে, অন্যথায় নয়। সরকারী খাস জমি জদি পত্তনী অর্থাৎ সরকারের কাছ থেকে অস্থায়ী ভিত্তিতে লীজ নেয়া হয়, তাহলে উক্ত লীজ নেয়া জমিতেও শর‘ঈ মসজিদ নির্মাণ করা যাবে না। তবে সরকারীভাবে স্থায়ী অনুমোদন পাওয়া গেলে সেখানে মসজিদ নির্মাণ করা যাবে। আর সরকারীভাবে স্থায়ী অনুমোদন না পাওয়া গেলে অস্থায়ীভাবে মসজিদ নির্মাণ করে নামায আদায় করলে জামা‘আতের সাওয়াব পাওয়া যাবে এবং জুমু‘আও পড়া যাবে। কিন্তু শর‘ঈ মসজিদের সাওয়াব পাওয়া যাবে না। [প্রমাণঃ ফাতাওয়ায়ে মাহমূদিয়া ১০:১৯৭; আযীযুল ফাতাওয়া ৬০০; আদ-দুররুল মুখতার ৪: ৩৯১]

গ. এক মসজিদের টাকা-পয়সা বা ক্রয়কৃত ইট, সিমেন্ট তথা ওয়াকফকৃত যে কোন সম্পত্তি অন্য কোন মসজিদে স্থানান্তর করা জায়িয নয়। কেননা, কোন মসজিদে কোন জিনিস ওয়াকফ করলে তা ঐ মসজিদের জন্যই চিরস্থায়ী হয়ে যায়। তবে বেশী প্রয়োজন হলে এবং পুরাতন মসজিদের জিনিস প্রয়োজনাতিরিক্ত হলে, অর্থাৎ ভবিষ্যতে কখনো প্রয়োজন না পড়লে তা নতুন মসজিদের জন্য ব্যবহার করতে পারবে। [প্রমাণঃ আদ-দুররুল মুখতার ৪:৩৫৯; আযীযুল ফাতাওয়া ৫৮৫; ফাতাওয়ায়ে মাহমূদিয়া ৬:১৯১]

ঘ. কোন মুমিন ওয়াদা করে বিনা উযরে ওয়াদা ভংগ করতে পারে না। কেননা, ওয়াদা ভঙ্গ করা কবীরা গুনাহ। তাছাড়া নতুন মসজিদটি যদি প্রয়োজন ছাড়া শুধু জিদের বশবর্তী হয়েই নির্মাণ করা হয়ে থাকে, তাহলে সেক্ষেত্রে টাকা-পয়সা, ইট সিমেন্ট দ্বারা তাদের সহযোগিতা করাও ঠিক হবে না। আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন,

তোমরা সৎকর্ম ও খোদা ভীতির কাছে একে অপরের সহযোগিতা কর। পাপ ও সীমা লঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অপরে সহযোগিতা কর না। [প্রমাণঃ সূরা মায়িদাহঃ ২]

মসজিদ সম্পর্কিত মাসাইল | ইসলামী যিন্দেগী