মান্নত পুরা করতে অসমর্থ হলে করণীয়?

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব৫ জানুয়ারি, ২০২৬কসম ও মান্নত

প্রশ্ন

আমি নিম্নলিখিত মান্নতগুলো করেছিঃ

(১) আমি যদি প্রয়োজনের বেশী একটি বাক্য বলি, তবে একটি রোযা রাখবো।

(২) মিথ্যা, গীবত করলে, একটি রোযা রাখবো।

(৩) ইচ্ছাকৃত কোন মহিলার দিকে দৃষ্টিপাত করলে ১০ টি রোযা রাখবো।

(৪) হিংসা, অহংকার, রিয়া, ক্রোধ বিরক্তি এর বশবর্তী হয়ে কোন কিছু বললে বা কোন কিছু করলে, একটি রোযা রাখবো।

(৫) হুককুল ইবাদ সংক্রান্ত গুনাহ হয়ে গেলে, নফসকে শাস্তি দেয়ার জন্য, একটি রোযা রাখবো।

(৬) হারাম উপার্জন করলে, হারাম মাল ছদকা করে দিবো ও একটি রোযা রাখবো।

(৭) ইচ্ছাকৃত কোন মাকরূহে তাহরীমী গুনাহ করলে (বা ওয়াজিব তরক করলে ), ১টি রোযা রাখবো।

মান্নতগুলো সারা জীবনের জন্য করেছি বলা

মান্নত করার পর যখন আমি দেখলাম যে, আমি এগুলোর উপর আমল করতে পারতেছি না, তখন তা‘আলার কাছে মাফ চাইছি। “আল্লাহ আমার মান্নতগুলো মাফ করে দিন।”

এখন প্রশ্ন হলো এ মান্নতগুলো আমার দায়িত্ব থেকে উঠিয়ে দেয়ার উপায় কি? কোন কাফফারা দিলে বা তাওবা করলে হবে কি?

উত্তর

বর্ণনা অনুযায়ী উক্ত ব্যক্তি রোযা রাখার যে মান্নত করেছে, তা পূরণ করাই তার জন্য কর্তব্য। কিন্তু শরী‘আতের বিধান হলো- প্রতিটি রোযার পরিবর্তে একটি করে ফিদিয়া প্রদান করবে। তাও যদি সম্ভব না হয়, তাহলে তার প্রতিটি বিষয়কে একটি করে কসম ধরে প্রত্যেক কসমের জন্য একটি করে কাফফারা আদায় করবে।

প্রশ্নে ৭টি বিষয়ের উল্লেখ আছে। সুতরাং, ৭ টি কাফফারা দিবে। কসমের কাফফারা হলো- দশ জন মিসকিনকে দুই বেলা পেট ভরে খাওয়ানো, অথবা দশ জন মিসকীনকে শরীর ঢাকার মত দুইটি করে কাপড় দেয়া। এটার সংগতি না থাকলে, প্রতিটি কসমের জন্য একাধারে তিনটি করে রোযা রাখা।

আর যদি এটাও সম্ভব না হয়, তাহলে আল্লাহ পাকের নিকট তাওবা-ইস্তিগফার করে নিবে। (প্রমাণঃ ফাতাওয়া শামী ৩:২৭৫, জাওয়াহিরুল ফাতাওয়া ১:১৪১, আহসানুল ফাতাওয়া৫:৪৫)

মান্নত পুরা করতে অসমর্থ হলে করণীয়? | ইসলামী যিন্দেগী