বিয়ের পরে বৌ দেখানো নাজায়েয

মুফতী মীযানুর রহমান কাসেমী সাহেব (রাহমানিয়া)১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫বিবাহ তালাক

প্রশ্ন

মেয়ের বিয়ের পর নতুন বৌ দেখানো হয়ে থাকে। এতে অনেক সময় পুরুষরাও উপস্থিত হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় যদি বৌ মুখ না দেখায় বা বাইরের পুরুষদের সাথে দেখা না করে, তাহলে বিভিন্ন রকম কটুক্তি শুনতে হয়, অহংকারী, লাট সাহেবের মেয়ে ইত্যাদি গালিগালাজ বা মন্তব্য করা হয় এ পরিস্থিতিতে কি করা উচিত?

উত্তর

এ ব্যাপারে স্বামীর ভূমিকা পরিবেশ-পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক করে তুলতে পারে। স্বামী নিজেই পরিবার, প্রতিবেশী আত্মী-স্বজনকে শরী‘আতের মাসআলা বুঝিয়ে দিয়ে ঘোষণা করে দিবে, “নতুন বৌ-এর মুখ দেখানোর কোন প্রথা এখানে পালিত হবে না, পুরুষ গাইরে মাহরামদের সামনে নতুন বৌ যাবে না, দেখা ও দিবে না।” তাহলে বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে নতুন বৌ নিষ্কৃতি পেতে পারে, আবার শরী‘আত ও পালিত হয়। স্বামীর মনে রাখতে হবে-নিজের বৌকে গাইরে মাহরাম পুরুষদের সামনে বেপর্দায় হাজির করা মারাত্মক গুনাহ। এমন মহিলার অভিভাবক- পিতা, স্বামীকে হাদীসে ‘দাইয়্যুস’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে-দাইয়্যুস বেহেশতে যাবে না। এছাড়াও মনে রাখা উচিত নিজের বৌকে পরপুরুষকে দেখানো কোন গৌরবের বিষয় নয়, বরং তা আত্মমর্যাদা বোধের পরিপন্থী ও বিকৃত রুচির গর্হিত কাজ। বরঞ্চ গৌরব হলো-এ রত্নকে সঠিকভাবে হিফাজত করা। কোন কারণে যদি স্বামী-বা স্বামীর পরিবার গাফেল থাকার কারণে পর পুরুষদের মুখ দেখানোর আবেদন আসে, তাহলে নতুন বৌ-এর জন্যে তা উপেক্ষা করা কর্তব্য। কেননা হাদীসে রয়েছে সৃষ্টিকর্তার অবাধ্য হয়ে সৃষ্টজীবের কোন আনুগত্য করা জায়েয নয়। তাই বিরূপ মন্তব্য সহ্য করে হলেও মুখ না দেখানো উচিত। কারণ, প্রথম দিনেই বেপর্দা হয়ে পড়লে, আর কোন দিন সহজেই পর্দা রক্ষা করা সম্ভব হবে না। তাই প্রথম দিন থেকেই পর্দার ব্যাপারে কঠোর হতে হবে। পর্দা রক্ষা করার মাধ্যমে নিজের ইজ্জত নিজেই রক্ষা করতে হবে। (ইমদাদুল আহকাম-২০২)

বিয়ের পরে বৌ দেখানো নাজায়েয | ইসলামী যিন্দেগী