একসাথে কুরআন ও গীতা পাঠ করা

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব৩ জানুয়ারি, ২০২৬কুরআন ও তাফসীর, বিবিধ, কুফর শিরক বিদ‘আত কুসংস্কার অপসংস্কৃতি

প্রশ্ন

কোন এক মাসিক শিক্ষা সংক্রান্ত সভায় শতকরা প্রায় ৭৫ জন মুসলমান শিক্ষক এবং শতকরা প্রায় ২৫ জন হিন্দু শিক্ষক উপস্থিত থাকেন। সভার শুরুতে প্রথমে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের পর সঙ্গে সঙ্গেই গীতা পাঠ করা হয়। এটা নিয়ম হিসাবে বিগত কয়েক বছর যাবৎ চালু রয়েছে। ইসলামের শরী‘আতের দৃষ্টিতে এমনটা করা মুসলমানদের জন্য বৈধ হবে কি-না? এ জাতীয় অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা, কুরআন তিলাওয়াতকারী, শ্রবনকারী ও যোগাদানকারী মুসলমানদের সাওয়াব হবে, না-কি গুনাহ হবে?

উত্তর

ঈমান আর কুফর এক সাথে চলতে পারে না। অথচ এখানে উভয়টাকে সমান মর্যাদা দেয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, এ ধরনের মাহফিলে কুরআন তিলাওয়াত সুন্নাত-মুস্তাহাব কিছুই নয়। শর্তের সাথে অনুমিত (জায়িয) আছে। এখন জায়িয করতে যেয়ে যদি আরেক নাজায়িয করতে হয় এবং সেটা বন্ধ করার ক্ষমতা না থাকে বা বিশ্বংখলা দেখা দেয়, তা হলে এক্ষত্রে উত্তম হলো জায়িযকে তরক করা এবং উভয়টারকোনটাই পাঠ না করা। যারা এ ধরনের পদ্ধতি চালু করেছে, তারা গুনাহ্গার হবে। তারা তাওবা করে শুধু কুরআন তিলাওয়াতের ব্যবস্থা রাখবে। সেটাও লোক জমা করার জন্য নয়। বরং অনুষ্ঠান শুরু করার আগে বরকতের জন্য পড়তে পারে যদি উক্ত অনুষ্ঠানে কুরআন-সুন্নাহের খিলাফ কোন আলোচনা না হয়। আর যদি শুধু একটা চালু রাখতে সমস্যা হয়, তাহলে কোনটাই পাঠ করার দরকার নেই। আল্লাহর কালাম উক্ত অনুষ্ঠানে পাঠ না করলে ইসলামের কোন ক্ষতি হবে না। [প্রমাণঃ মিশকাত শরীফ ২:৪৩৬, সূরা মায়িদা ২]