পালক পুত্রের মীরাস ও তার সাথে পর্দার বিধান
প্রশ্ন
রহিমা নামী এক ভদ্র মহিলা রমজান নামক একজন ইয়াতীম ছেলেকে পালক পুত্র হিসাবে নিজের কাছে রাখে। পালক পুত্র হিসেবে নেয়ার সময় এফিডেভিটের মাধ্যমে অঙ্গীকার করে সে, রহিমা রমজানকে নিজ সন্তানের মত করে লালন-পালন করবে এবং তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির অংশীদার হবে। উল্লেখ্য যে, রহিমার আরো চারটি সন্তান রয়েছে এবং এখনো, সে রমজানকে লালিত-পালিত করে চলছে। এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছেঃ
(ক) রমজান রহিমার অথবা তার স্বামীর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মালিক হবে কি-না? যদি মালিক হয় তবে কতটুকু সম্পত্তির মালিক হবে? আর যদি মালিক না হয় তাহলে কেন হবে না? (খ) তেমনিভাবে রমজান নিজে চেষ্টা করে যদি ধন-সস্পদের মালিক হয় তবে রহিমার পরিবারের সদস্যরা তার সম্পত্তির অংশ পাবে কি-না? (গ) রহিমার ভাতিজীর সাথে রমজানের বিবাহ বৈধ হবে কি-না?
উত্তর
(ক) শরী‘আতের দৃষ্টিতে পালিত পুত্র মিরাস বা মৃত ব্যক্তির পরিত্যক্ত সম্পত্তির অংশীদার হয় না। সুতরাং রহিমা অথবা তার স্বামীর কোন সম্পত্তির ওয়ারিশ বা অংশীদার রমজান হবে না।
(খ) তেমনিভাবে রহিমা বা তার পরিবারের সদস্যরা রমজানের নিজের সম্পত্তিরও অংশীদার হবে না।
(গ) পবিত্র কুরআনে যাদের সাথে বিবাহ হারাম করা হয়েছে পালিত পুত্র তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। প্রশ্নে উল্লেখিত রমজানকে পূত্র হিসেবে গণ্য করা সত্বেও সে রহিমার জন্য গাইরে মাহরাম তথা বেগানা ও পরপুরুষ হিসেবে গণ্য হবে এবং রমজানের বিবাহ রহীমার ভাতিজীর সঙ্গে তো বৈধ হবেই এমনকি সরাসরি রহীমার সাথেও রমজানের বিবাহ বৈধ হবে। যদি রহীমার স্বামী মারা যায় বা তালাক দিয়ে দেয়। সুতরাং, প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে থাকলে উভয়ের জন্য পর্দা করা ফরয।
[প্রমাণঃ সিরাজীঃ ৬, সিরাজী ২৭, #সূরা আহযাবঃ ৪, #সূরা নিসাঃ ২৪]