বাড়ীতে কুকুর বা অন্যান্য স্মৃতি রাখা
প্রশ্ন
আজকাল অনেকে সখ করে বাড়ীতে দেশী বিদেশী কুকুর পালে এবং তার জন্য অনেক টাকা পয়সা খরচ করে। আবার অনেকে ঘর সাজানোর জন্য কুকুর বা অন্য প্রাণীর ছবি ও মূর্তি রাখে। শরী‘আতের দৃষ্টিতে এগুলোর হুকুম কি?
উত্তর
আমাদের দেশের তথাকথিত আধুনিকতাবাদীদের কুকুর প্রীতির সৌখিন ষ্টাইল মূলতঃ ইউরোপিয়ান বন্য সভ্যতা থেকে আমদানীকৃত। মহানবী ﷺ এর আবির্ভাবের আগে আইয়ামে জাহিলিয়্যাতে আরবদেরও অন্যতম একটি অপসংস্কৃতি ছিল এই কুকুর প্রীতি। কিন্তু মানুষ মাত্রই অবগত যে, কুকুরের চরিত্রে স্বভাবগতভাবেই কি পরিমাণ খারাপ গুনাবলী বিদ্যমান। যেমন, নোংড়ামী, হিংসা ও বিশেষতঃ স্বজাতির প্রতি তার চরম বিদ্বেষ ও শত্রুতা ইত্যাদি। বর্তমান ইংরেজ ও ইউরোপিয়ান সমাজ কুকুর প্রেমের এত নিকৃষ্টতম পর্যায় পৌঁছেছে যে, কুকুরের ন্যায় নোংরা জানোয়ার তাদের অনেক মহিলাদের জৈবিক চাহিদা পূরণের অত্যন্ত প্রিয় মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। সে সব দেশে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে যে, কুকুরে প্রতি অত্যাধিক ভালবাসার পরিণামে একজন বিবাহিতা নারীর নিকট তাদের বাড়ীর পোষ্য কুকুরটিই তার স্বামী অপেক্ষা অধিক প্রিয় হয়ে উঠেছে। এই পশু সভ্যতার অন্ধ অনুকরণে আমাদের এই মুসলিম দেশের অভিজাত এলাকার অনেক বড় লোকদের কুকুর নিয়ে স্বগর্বে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় বা ড্রয়িংরুম ইত্যাদি কুকুরের মুর্তি দ্বারা সাজাতে দেখা যায়। কুকুরের খাবাসাতের কারণে ইসলাম কখনই কুকুর প্রীতির এই নোংড়ামীকে সমর্থন করে নাই। বরং তৎকালের নও মুসলিম আরবদের অন্তর থেকে কুকুর প্রেম উৎপাটনের উদ্দেশ্যে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা‘আলার ওহী আসার পর প্রথমে সাহাবায়ে কিরাম রাযি.-কে কুকুর দেখলেই হত্যার নির্দেশ দেন এবং সাথে সাথে কুকুর পালনে জঘন্যতম একটি দ্বীনী ক্ষতির কথা উল্লেখ পূর্বক ইরশাদ ফরমান, যে ঘরে কুকুর এবং প্রাণীর মূর্তি বা ছবি থাকে তথায় রহমতের ফেরেস্তাগণ প্রবেশ করেন না। তিনি আরো ইরশাদ করেন যে, ব্যক্তি শিকার বা পাহারাদারীর উদ্দেশ্য ব্যতীত (শুধু সৌখিনতা বশত ) কুকুর প্রতিপালন করবে, প্রতিদিন তার আমলের একটি বিরাট অংশ নষ্ট হয়ে যাবে। বলা বাহুল্য নেক আমল কোন বড় ধরণের গুণাহের কারণই নষ্ট হয়। সুতরাং বুঝা গেল যে, শরী‘আত সম্মত উযর ব্যতীত কুকুর পালনই যখন একটি জঘন্য গুনাহ, তাহলে কুকুরের প্রতি ভালবাসা পোষণই বা কার্যতঃ তা প্রদর্শন যে কত বড় জঘন্য অন্যায়, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এজন্য মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুর প্রেম সমূলে উৎপাটনের জন্য দেখামাত্রই কুকুর হত্যার নির্দেশ দেন। ক্রমান্বয়ে যখন কুকুর প্রীতি কমে আসে, তখন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধু কালো কুকুরই হত্যার নির্দেশ দেন এবং ইরশাদ করেন যে, সেটা শয়তান অর্থাৎ মানুষের ক্ষতিকারী।
হাদীসে এরূপ দ্ব্যর্থহীন ও স্পষ্ট ঘোষণার কারণে কোন মুসলমানের জন্য সৌখিনতা বশতঃ কুকুর পালন সম্পূর্ণরূপে হারাম ও নাজায়িয। তাছাড়া এটা বিজাতীয় সংস্কৃতি হওয়ার কারণেও মুসলমানদের জন্য তা গ্রহণ করা হারাম। কেননা, মহানবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি কোন বিজাতীয় সংস্কৃতী গ্রহণ করবে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।
তবে শিকার ও চোর-ডাকাতের উপদ্রব থেকে আত্মরক্ষা ও সম্পদের পাহারাদারী বা অন্য কোন শরী‘আত সম্মত প্রয়োজনের ক্ষেত্রে কুকুর পালন করা জায়িয। যার স্পষ্ট ঘোষণা পূর্বোল্লিখিত হাদীসেই বিদ্যমান রয়েছে।
মূর্তি বানান, প্রাণীর ছবি অংকন এগুলো দ্বারা ঘর সাজানোও ইসলামে নিষিদ্ধ। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে সতর্কবাণী উচ্চারণ পূর্বক উল্লেখ করেন, আল্লাহর নিকট সবচেয়ে কঠিন শাস্তি প্রাপ্ত হবে প্রাণীর মূর্তি নির্মাতা ও প্রাণীর ছবি অংকনকারী। অন্য এক হাদীসে উল্লেখ আছে, কিয়ামতের দিন তাদের নির্মিত মূর্তি বা ছবিতে রূহ দিতে বলা হবে। আর যতক্ষন না তারা তাতে রূহ স্থাপন করতে পারবে, ততক্ষন তাদের শাস্তি হতে থাকবে। কিন্তু তারা কখনো রূহ স্থাপনে সক্ষম হবে না।
এক ব্যক্তি হযরত ইবনে আব্বাস রা. এর নিকট এসে উযর পেশ করলো যে, আমার জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন হচ্ছে মূর্তি বা ছবি নির্মাণ। তখন হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. তাকে প্রাণবিহীন বস্তুর ছবি বানিয়ে জীবিকা নির্বাহের পরামর্শ দেন।
হযরত আয়িশা রাযি. বর্ণনা করেন, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছবি স্থাপিত বা অংকিত কোন কাপর বা বস্তুর ঘরে পেলে তা ভেঙ্গে ফেলতেন, ছিঁড়ে ফেলতেন বা নষ্ট করে ফেলতেন।
এজন্য কোন স্থানে প্রাণীর মূর্তি স্থাপন বাছবি টাঙ্গানো হারাম। কিন্তু তাই বলে ইসলাম ঘর সাজানো ও সৌখিনতাকে নিষিদ্ধ করে নাই। প্রাণী মূর্তি বা ছবি বাদ দিয়ে ফুল, ঝর্ণা, গাছপালা, বাগান ও সুন্দর নির্মাণ শৈলী ইত্যাদির ছবি বা ক্যালিওগ্রাফী ইত্যাদি দিয়ে ঘর সাজাতে কোন নিষেধাজ্ঞানেই। [প্রমাণঃ মিশকাত শরীফঃ ৩৫৯ ও ৩৮৫]