সরকারী জায়গায় নির্মিত (কমিটি পরিচালিত) মসজিদের চৌহদ্দী নির্ধারণ

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব১ জানুয়ারি, ২০২৬মসজিদ মাদরাসা, আযান ইক্বামাত ও ইমাম মু‘আযযিন

প্রশ্ন

সরকারী জায়গায় নির্মিত কমিটি পরিচালিত কোন মসজিদের চৌহদ্দী নির্ধারণ করা এই মর্মে যে, এই চৌহদ্দীর ভিতরে যারা থাকে তারাই এই মসজিদের পরিচালনা পরিষদে থাকতে পারবে; এর বাইরের কোন লোক পরিচালনা পরিষদের থাকতে পাড়বে না। অথচ উক্ত চৌহদ্দীর বাইরের কোন লোক পরিচালনা পরিষদে থাকতে পারবে না। অথচ উক্ত চৌহদ্দীর বাইরে বহু লোক রয়েছে, যারা নিয়মিতভাবে এই মসজিদের মুসল্লী ও দানকারী। উল্লেখ্য যে, এ চৌহদ্দী নির্ধারণের বৈধতা প্রসঙ্গে হারাম শরীফের বরাত দেয়া হয় যে, হারাম শরীফেরও তো চৌহদ্দী রয়েছে। এতদসম্পর্কে শরী‘আতের সিদ্ধান্ত জানতে ইচ্ছুক। সরকারী জায়গায় নির্মিত মসজিদ, যার চতুর্দিকে পাড়া রয়েছে এবং সবদিক থেকেই ঐ মসজিদ লোকজন নামায আদায় করতে আসে। এমতাবস্থায় মসজিদের কোন এক দিকের পাড়ার লোকদের দাবী যে, এই মসজিদ আমাদের। কাজেই এই মসজিদের পরিচালনা পরিষদে সর্বদা আমরাই থাকবো। অথচ সকলে নিয়মিত নামাযী-ই নয়, আর যারা নামাযী তারাও সকলে নিয়মিত নামায পড়ে না তারা মসজিদের দান-খয়রাত, মাসিক অথবা এককালীন চাঁদা প্রদানে অনুৎসাহী। পক্ষান্তরে অন্য তিন পাড়ার লোকদের মধ্যে নিয়মিত মুসল্লীও বেশী এবং প্রকৃত দান খয়রাত তারাই করে থাকে। এই প্রেক্ষিতে ঐ এক পাড়ার লোকদের মসজিদের সত্বদখল ও পরিচালনা পরিষদে জোরপূর্বক থাকতে চাওয়া শরী‘আতের দৃষ্টিতে কেমন?

উত্তর

মসজিদ আল্লাহ তা'আলার ঘর, এর জন্য কোন সীমানা নির্ধারণ করা, পরিচালনাকে কেন্দ্র করেই হোক বা অন্য কোন জিনিসকে কেন্দ্র করেই হোক, শরী‘আতে এর কোন প্রমাণ বা নযীর পাওয়া যায় না। কাজেই এমনটি করা গর্হিত হবে।

মসজিদ পরিচালনার ক্ষেত্রে স্থানের এমন কোন দখল নেই যে, বিশেষ স্থানের বা বিশেষ মহল্লার অধিবাসী হতে হবে। বরং এ ক্ষেত্রে গুণাবলীর দখল রয়েছে যেমন, আক্বীদাগতভাবে সঠিক ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের আক্বীদা যা প্রকৃতভাবে কুরআন-হাদীসের বর্ণিত আক্বীদা সেই আক্বীদা পোষনকারী হওয়া, দ্বীনদার, আমানতদার, শরী‘আতের বিশেষতঃ সুন্নাতের পাবন্দ, আল্লাহভীরু ও পরিচালনার যোগ্যতা সম্পন্ন হওয়া ইত্যাদি। কাজেই উক্ত গুণের অধীকারী লোকজন যে এলাকার বা যত দূরবর্তী এলাকার লোকই হোক না কেন, তারাই পরিচালনার দায়িত্ব বহন করবে। পক্ষান্তরে যে সকল লোক ফাসিক, (যেমন নামাযে পাবন্দ নয় বা জামা'আতের পরওয়া করে না, দাড়ি মুন্ডায় ইত্যাদি) খিয়ানতকারী বিশেষ করে সুন্নাতের খিলাফ চাল-চলনে অভ্যস্ত তাদের জন্য মসজিদে এমনকি কোন দ্বীনী প্রতিষ্ঠানের পরিচালনার দায়িত্ব বহন ভরা জায়িয নেই। চাই তারা মসজিদের অতি নিকটতম প্রতিবেশীই হোক না কেন।

মোটকথা, পরিচালনার জন্যে চৌহদ্দী নির্ধারণ শরী‘আতের দৃষ্টিতে প্রমাণিত নয়। হারাম শরীফের চৌহদ্দী নির্ধারণ, এটা তার পরিচালনার জন্য নয় বরং সেই এলাকার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য। যার কারণেই সেখানে মারামারি, কাটাকাটি, শিকার করা, শত্রুর উপর আক্রমণ করা ইত্যাদি হারাম। এতদ্ব্যতীত হারাম শরীফের চৌহদ্দী জিব্রাঈল আ.-এর মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা অন্য কোন মসজিদের জন্য প্রমাণিত নেই। এমনকি মসজিদে নববীরও হারাম শরীফের মত সেই পর্যায়ের চৌহদ্দী নির্ধারিত নেই। কাজেই বাইতুল্লাহ শরীফ ব্যতীত অন্য কোন মসজিদকে হারাম শরীফের উপর কিয়াস করা দূরস্ত হবে না। যদি কেউ এরূপ করে, তবে তা শরী‘আত পরিপন্থী হওয়ার কারণে গ্রহণযোগ্য হবে না।

একক ব্যক্তির পক্ষ থেকে ওয়াকফকৃত মসজিদের মুতাওয়াল্লী হওয়ার ক্ষমতা ওয়াকফকারীর বা তার মনোনীত ব্যক্তির থাকতে পারে যা শর্তসাপেক্ষ। যেমন-ওয়াকফ করার সময় ওয়াকফনামায় উল্লেখ থাকতে হবে এবং মুতাওয়াল্লির ভিতরে তাওলিয়তের যোগ্যতা থাকতে হবে। এ ছাড়া অন্য কোন মসজিদের তাওলিয়াত বা পরিচালনার ক্ষমতা কোন ব্যক্তি, গোষ্ঠি, বা খাস মহল্লাবাসীর জন্য ধরে রাখা, বিশেষ করে যদি তার বা তাদের ভিতরে মসজিদ পরিচালনা জন্য যে গুণাবলীর কথা বলা হয়েছে, সে গুণগুলো না পাওয়া যায় তাহলে কখনও তা জায়িয হবে না। [প্রমাণঃ ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ২খ.৪০৮পৃঃ ফাতাওয়ায়ে মাহমূদিয়া, ২খ. ৪৫২ পৃষ্ঠা]

সরকারী জায়গায় নির্মিত (কমিটি পরিচালিত) মসজিদের চৌহদ্দী নির্ধারণ | ইসলামী যিন্দেগী