সন্তানকে সম্পত্তি দান করে পুনরায় ফেরত নেওয়া
প্রশ্ন
আমাদের মাতা আমাদের সহোদর তিন ভাইকে নিজের সম্পত্তি দান করে দিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন পর্যন্ত সকলে উক্ত জমি ভোগ করার পর বড় ভাইয়ের অবাধ্যতা ও ভরণ-পোষণ না দেয়ার কারণে, মা তার সম্পত্তি কোর্ট মারফত পুনরায় ফিরিয়ে নেন। মা তাকে বহুবার সতর্ক করেন। কিন্তু তাতে সে মোটেও কর্ণপাত করেনি। অতঃপর তিনি আমাদের দুই ভাইয়ের নামে তার জমি লিখে দেন। তখন থেকেই আমরা উক্ত জমি ভোগ করছি। উল্লেখ্য যে মা জীবিত থাকাবস্থায় মায়ের সাথে বড় ভাইয়েরও এ বিষয়ে মামলা-মুকাদ্দমা হয় এবং উক্ত মামলায় ভাই পরাজিত হয়। এমতাবস্থায় আমাদের জানার বিষয় হচ্ছে, আমাদের দুই ভাইকে মা তার নিজের জমি লিখে দেয়া এবং আমাদের তা ভোগ করা বৈধ কি-না?
উত্তর
জীবদ্দশায় যদি কেউ নিজ সম্পত্তি সন্তানদের মাঝে বন্টন করে দিতে চায়, তাহলে এটা যেহেতু মীরাছ নয়; বরং হেবা হিসেবে পরিগণিত, তাই ছেলে-মেয়ে সকলকে সমপরিমাণ দিতে হবে। সন্তানদের মাঝে হেবার ক্ষেত্রে কাউকে কম আর কাউকে বেশী এরূপ করা যাবে না। তবে কোন সন্তান যদি দ্বীনদার না হয় এবং পিতা-মাতার অবাধ্য হয় তাহলে পিতা-মাতার জন্য তাকে সম্পত্তি না দেয়ার অধিকার আছে। কিন্তু সকলের দ্বীনদারীও কর্মক্ষমতা সমান থাকাবস্থায় কাউকে কম আর কাউকে বেশী দেয়া ঠিক হবে না। সমষ্টিগত কোন জিনিসের হেবা সহীহ হওয়ার জন্য শর্ত হল যাকে যে পরিমাণ দেয়ার ইচ্ছা হয়, তা ভাগ করে সম্পূর্ণরূপে তার মালিকানায় দিতে হবে।
অতএব, উল্লেখিত বর্ণনা মুতাবিক যদি আপনার মাতা উল্লেখিত শর্ত অনুযায়ী স্বেচ্ছায় সকলকে সমান ভাগে হেবা করে থাকেন, তাহলে তার হেবা তথা দান করা সহীহ হয়েছে এবং আপনারা তিন ভাই উক্ত সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। হেবা করার পর পুনরায় তা ফেরত নেওয়া যায় না। সুতরাং, দ্বিতীয়বার আপনার বড় ভাই থেকে সম্পত্তি ফিরিয়ে নিয়ে সেই অংশ আপনাদের দুই ভাইকে দেয়া জায়িয হয়নি এবং তিনি গুনাহের কাজ করেছেন। তাই এক্ষেত্রে আপনার মাতাকে গুনাহ থেকে নিষ্কৃত দেয়ার জন্য আপনাদের দুই ভাইয়ের কর্তব্য হচ্ছে, বড় ভাইয়ের অংশ তাকে ফিরিয়ে দেয়া। কেননা, তার ভাগের সম্পত্তি ভোগ করা আপনাদের জন্য কোনভাবেই জায়িয হবে না। তবে আপনার বড় ভাইয়ের জন্য আপনার মায়ের সাথে এরূপ আচরণ করা মোটেই ঠিক হয়নি; বরং মারাত্মক গুনাহের কাজ করেছেন। এজন্য আল্লাহর নিকট তার তাওবা করতে হবে এবং মাতার জন্য দান-খয়রাত করে সাওয়াব পৌঁছাতে হবে এবং দু`আ করতে হবে [প্রমাণঃ আদ-দুররুল মুখতার, ৫:৭০৪, #খুলাসতুল ফাতাওয়া ৪:৪০০ #আল বাহরুর রায়িক্ব, ৭:২৮৮ #আহসানুল ফাতাওয়া ৭:২৫৪]