মসজিদের মাইকে ক্বিরা‘আত গজল ও যিকির করা
প্রশ্ন
আমাদের এলাকার বেশ কিছু মসজিদে রমাযান মাসে সাহরীর সময় এবং রমাযানের বাহিরে ফজরের সময় মুসল্লীদেরকে ঘুম থেকে জাগ্রত করার জন্য মাইকে কুরআন তিলাওয়াত, যিকির ও গজল পাঠ করে। এ ব্যপারে বাধা দিলে সাধারণ পাবলিক তাদের উপর মনক্ষুন্ন হয় এবং তাদের বিভিন্ন রকম সমালোচনা করে হেয় প্রতিপন্ন করে। সাধারণ জনগণ লিখিত দলীলের মাধ্যমে এর সঠিক সমাধান চায়। আশা করি এ ব্যাপারে সঠিক সমাধান দিয়ে দুই দলের মতবিরোধ দূর করবেন।
উত্তর
সাহরীর সময় হলে ঘুমন্ত এলাকাবাসীকে জাগানোর জন্য সংক্ষিপ্ত এলান করা যাবে। তবে দীর্ঘ সময় নাত গযল বা তিলাওয়াত না করা চাই। আর যে কোন নামাজের আযানের আগে বা পরে মাইকে নিয়মিতভাবে নাত-গজল বা কুরআনর পরিবেশনের কোন বিধান ইসলামে নেই।
যেহেতু শরী‘আতে এ জাতীয় কোন বিধান নেই সেহেতু এ ধরনের কাজকে ভাল মনে করা এবং তা নিয়ম বানিয়ে নেয়া এবং যারা এ কাজকে অপছন্দ করে তাদের বিরুদ্ধাচারণ করা জায়েয হবে না। কেননা হুযূর ﷺ ইরশাদ করেন, যা দ্বীনের কোন কাজ নয় তা দ্বীনে অনুপ্রবেশ করা এবং তাকে দ্বীনের কাজ মনে করা বিদ‘আত।
মাইকে হামদ নাত ইত্যাদি পড়া কোন সাওয়াবের কাজ নয়। তেমনী ভাবে যিকির নিম্মস্বরে করাই উত্তম। অথবা এতটুকু হালকা আওয়াজে করতে পারে যাতে অন্য কারো ইবাদতে, যিকিরে বা কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি না হয়। সুতরাং এ কাজের জন্য অন্যকে কষ্ট দেওয়া বা অন্যের ইবাদতে ব্যাঘাত সৃষ্টি করা নিঃসন্দেহে অন্যায় এবং সম্পূর্ণরূপে বর্জনীয়। বিশেষতঃ ফজরের আযানের সময় মানুষ সুন্নাতে মশগুল থাকে। কেউ তিলাওয়াত করে কেউ নীরবে যিকির করে। মাযূর, অসুস্থ ও রুগ্ন ব্যক্তিগণ যাদের জন্য জামা‘আতে হাযির হওয়া জরুরী নয় তারা বিশ্রামে থাকে। এই অবস্থায় মাইকে যিকির হামদ বা নাত পরিবেশন উপরোক্ত ব্যক্তিদের জন্য অসুবিধার কারণ হয়, এই জন্য এগুলো বন্ধ করা অপরিহার্য। কারণ অন্যকে কষ্ট দেওয়া গুনাহের কাজ।
হাদীসে বর্ণিত হয়েছে প্রকৃত মুসলমান ঐ ব্যক্তি যার হাত এবং জিহ্বা থেকে মানুষ নিরাপদ থাকে। এবং কারো কারো ইবাদতে ব্যাঘাত সৃষ্টি করাও গুনাহের কাজ। [ প্রমাণঃ মিরকাত ২:১৬১; আহসানুল ফাকাওয়া ১:৩৬৯; মিশকাত শরীফ ১:২৭]