যাকাতে ঋণ প্রসঙ্গ

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব৯ জানুয়ারি, ২০২৫যাকাত

প্রশ্ন

(১) যাকাতের মধ্যে কোন ধরনের ঋন মূল টাকা থেকে বাদ দিতে হবে? স্বল্প মেয়াদী ঋণ, না দীর্ঘ মেয়াদী ঋণ?

(২) যারা বড় বড় ব্যবসা করে, তারা ব্যাংক থেকে যে লোন নেয় তার একটা অংশ নিয়ে শিল্প-কারখানা তৈরী করে। বাকী টাকা দিয়ে মাল কিনে। এখন প্রশ্ন হলো, এই দুই প্রকার ঋণের হুকুম কি? অর্থাৎ যাকাত দেয়ার সময় উভয় প্রকার ঋণ মূল টাকা থেকে বাদ দিবে? না উভয় মধ্যে পার্থক্য আছে?

উত্তর

যদি কেউ হাজাতে আসলিয়া অর্থাৎ নিত্য প্রয়োজনীয় বস্তু যথা বাসস্থান, পরিদেয় বস্ত্র, ঘরের আসবাবপত্র, যানবাহন ইত্যাদি বাবদ ঋণ করে তাহলে এই ঋণ স্বল্প মেয়াদী হোক আর দীর্ঘ মেয়াদী হোক পুরোটাই যাকাতের নিসাব থেকে বাদ দেয়া হবে। আর যদি নিত্য প্রয়োজনীয় বস্তুর জন্য নয় বরং ব্যবসা-বানিজ্য, মিল-কারখানার জন্য শিল্প ঋন নেয়া হয়, তখন দেখতে হবে ঐ টাকা কোথায় লাগানো হয়েছে। যদি ঐ টাকা দিয়ে এমন কিছু করা হয় যার উপর যাকাত আসে না, যেমন মিল-কারখানা, মেশিনরী বস্তু ইত্যাদি তাহলে ঐ ঋণ তথা যাকাতের নিসাব থেকে বাদ দেয়া যাবে না। কারন, ঋন নিয়ে যেহেতু সম্পদ তথা মিল-কারখানা করা হয়েছে, সুতরাং একদিকে ঋণ আছে অপর দিকে তার পরিবর্তে সম্পদ আছে। মালিক কখনও ঋণ আদায়ে ব্যর্থ হলে এ সম্পদ থেকে ব্যাংক তার প্রাপ্য ঋণ উসুল করে নিবে। সুতরাং এ ধরনের ঋণ যাকাতের নেসাব থেকে বাদ দেয়া হবে না। কাজেই এ ধরনের ঋণ থাকা সত্বেও কারো নিকট যদি নিসাব পরিমাণ স্বর্ণ-রূপা বা নগদ ক্যাশ কিংবা ব্যাবসার মাল থাকে, তাহলে তার উপর যাকাত ফরয হবে। আর যদি উক্ত ঋণ দিয়ে ব্যবসার মালমাল ক্রয় করা হয়, তাহলে সেই ঋণ থেকে চলতি বত্সরের পরিশোধযোগ্য কিস্তি পরিমাণ যাকাতের নিসাব থেকে বাদ দেয়া হবে। এমনিভাবে প্রতি বছর যে পরিমাণ কিস্তি পরিশোধ করতে হবে সে পরিমাণ ঋণ বাদ দিয়ে বাকী সম্পদের উপর ঐ বছরের যাকাত দিতে হবে। [প্রমাণঃ আলমগীরী, ১:১৭২ #ফাতহুল কাদীর, ২:১২০, জাদীদ মাইশাত]

যাকাতে ঋণ প্রসঙ্গ | ইসলামী যিন্দেগী