বাই’য়ে সালাম তথা নগদ টাকায় বাকী মাল ক্রয়ের সঠিক পদ্ধতি
প্রশ্ন
আমাদের দেশে ধান ক্রয়-বিক্রয় অর্থাৎ, অর্থ লগ্নির একটি রিওয়াজ প্রচলিত আছে যে, বর্তমান বাজারে (আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে) মনে করুন, প্রতি মণ ধানের মূল্য ৩৫০ টাকা। কিন্তু ক্রেতা বিক্রেতাকে ৫০০০ টাকা দিল এই শর্তে যে, ধানের মৌসুমে (অগ্রহায়ন/ পৌষ মাসে) ঐ ৫০০০ টাকার বিনিময়ে ১২৫ টাকা মণ দরে ৪০ মণ ধান দিবে অথচ তখন প্রতি হাজারে টাকার বিনিময়ে ৬ মন করে ধান বাজারে বিক্রি হয়। শরী‘আতের দৃষ্টিতে উক্ত পদ্ধতিতে ধান ক্রয়-বিক্রয় জায়েয হবে কি?
উত্তর
প্রশ্নে উল্লেখিত পদ্ধতিতে ক্রয়-বিক্রয়কে শরী‘আতের পরিভাষায় বাই’য়ে সালাম (নগদ টাকায় বাকীতে মাল ক্রয় ) বলা হয়। যার সংজ্ঞা হল- দাম নগদ পরিশোধ করা এবং পরে নির্দিষ্ট সময়ে মাল গ্রহণ করা। বাই’য়ে সালাম সহীহ হওয়ার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে। শর্তগুলো নিম্নরূপঃ
(১) নগদ কত টাকার বিনিময়ে কি মাল-দ্রব্য দেয়া হবে, তার নাম নির্ণয় করতে হবে।
(২) উক্ত মালের প্রকার বা ধরণ বর্ণনা করতে হবে।
(৩) মালের গুণাগুণ বর্ণনা করতে হবে। অর্থাৎ উন্নত মানের, না মাঝারী ধরনের মাল হবে, শুকনা নাকি শুকানো ছাড়া তার বর্ণনা থাকবে।
(৪) মালের পরিমাণ নির্দিষ্ট করতে হবে।
(৫) দ্রব্য মাল কোন দিন, কোন সময়, কোথায় হস্তান্তর করা হবে, তা নির্ণয় করতে হবে।
(৬) যে মালের ব্যাপারে বাই’য়ে সালাম হবে, সে মালটি লেন-দেনের দিন থেকে পরিশোধের দিন পর্যন্ত বাজারে মজুদ থাকতে হবে।
উল্লেখিত শর্তসমূহ পূরণ সাপেক্ষে এ ধরনের লেন-দেন জায়েয হবে। উল্লেখ্য, আজকাল অনেকেই উল্লেখিত শর্ত অমান্য করে বাই’য়ে সালাম করে থাকেন। এটা শরী‘আতের দৃষ্টিতে নাজায়েয। এতে উভয়ে সুদী কারবারের গুনাহে অপরাধী সাব্যস্ত হবে। সুতরাং, উল্লেখিত শর্তসমূহ অক্ষরে অক্ষরে মানা সম্ভব না হলে, এ ধরনের লেন-দেন করা জায়েয হবে না। (হিদায়া, ৩:৯৫)