সুন্নতি লেবাসের সংজ্ঞা
প্রশ্ন
পোশাক পরার ব্যাপারে শরী‘আতের দিক নির্দেশনা কি? কোন ধরনের পোশাক পরলে তাকে সুন্নতি পোশাক বলা যাবে?
উত্তর
যে পোশাক দ্বারা সতর ঢাকা যায় সেই পরিমাণ পোশাক পরা ওয়াজিব। যে ধরনের পোশাক পরার জন্য শরী‘আতে উৎসাহিত করা হয়েছে সে ধরনের পোশাক পরা মুস্তাহাব। যেমন ঈদ ও জুমু‘আর দিনে উত্তম পোশাক পরা। আর যে সকল পোশাক পরতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে তা পরা মাকরূহ। যেমন ধনী ব্যক্তির জন্য সব সময় ফাটা ছেড়া পোশাক পরা। শরী‘আতে যে সকল পোশাক পরার অনুমতি দেয়া হয়নি সেগুলি পরা হারাম.. যেমন পুরুষের জন্য রেশমী কাপড় পরা, নারী পুরুষ একে অপরের সদৃশ পোশাক পরা, অথবা বিধর্মী ও ফাসেকের পোশাক পরা। যে সব পোশাক পরা শরী‘আতের নিষেধাজ্ঞায় পড়ে না সেসব পর। মুবাহ। ইসলামী শরী‘আত নারী পুরুষকে সমান অধিকার দেয়নি। বরং ব্যাক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবন তথা দ্বীনের প্রতিটি ক্ষেত্রে উভয়ের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। অনুরূপভাবে শরী‘আতে উভয়ের পোশাকের মধ্যেও যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। নারী পুরুষ একে অপরের পোষাক বা সাদৃশ্যতা অবলম্বনকারীদের উপর আল্লাহ পাকের লানত ও অভিশাপের কথা বর্ণিত হয়েছে হাদীস শরীফে। স্মরণ রাখা দরকার যে, যেকোন কাপড় দ্বারা শরীর ঢাকলেই সুন্নত আদায় হবে না, বরং হুযুর ﷺ যে ধরনের পোশাক ব্যবহার করেছেন তার দ্বারাই সুন্নত আদায় হবে। কেননা হুযুর ﷺ এর অনুসরণ করার নামই সুন্নত। যারা প্যান্ট শার্ট পরে সুন্নত পালনের দাবী করতে চান তাদের দাবীর কোন মূল্য নেই। কেননা রাসূলুল্লাহ ﷺ জীবনে কখনও প্যান্ট শার্ট পরেন নি, সুতরাং তার দ্বারা কস্মিন কালেও সুন্নত আদায় হতে পারে না। উপরন্ত প্যান্ট, শার্ট ফাসেক কাজেরদের পোশাক বিধায় তা নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। ইসলামের শুরু লগ্ন থেকে উলামা সুলাহাগণ যে সব পোশাক পরিধান করে আসছেন সেটাই সুন্নতের অতি নিকটবর্তী। হুযুর ﷺ মৌসুমের চাহিদানুযায়ী যেমন পোশাক পেতেন পরতেন। তবে সাধারণত নিছফে সাক অর্থাৎ অর্ধহাটু পরিমাণ পর্যন্ত লম্বা জামা পরতেন এবং জুব্বা ও ফাড়া উভয়টাকেই পছন্দ করতেন। সুতরাং জামা সম্পর্কে সুন্নত হচ্ছে, সতর ঢাকা, অপচয় না হওয়া, ঢিলেঢালা এবং নিসফে সাক পর্যন্ত লম্বা হওয়া। (দারুল উলুম কাদীম-৭৬)