মসজিদের ওয়াকফকৃত স্থানে ইমামের লাশ দাফন
প্রশ্ন
আমাদের এলাকার একটি জামে মসজিদের ইমাম সাহেবে মারা গেলে মসজিদ কমিটি মসজিদের পার্শ্বে মসজিদের জায়গায় মৃত ইমামকে দাফন করার জন্য তার বাবা-মার কাছে অনুমতি চায়। তখন মৃত ইমামের বাবা-মা মসজিদ কমিটিকে শর্ত দেন যে, যদি মৃত ইমামের ছোট ভাই (হাফেজ)-কে উক্ত মসজিদের ইমামতীর চাকুরী দেয়া হয়, তাহলে ইমামের লাশ দাফন করার জন্য মসজিদ কমিটিকে অনুমতি দেয়া হবে। উক্ত প্রস্তাবে মসজিদ কমিটি রাজি হয়ে মৃত ইমামকে মসজিদের জায়গায় দাফন করেন এবং তার ছোট ভাইকে উক্ত মসজিদে ইমাম নিয়োগ করেন। উল্লেখিত ঘটনার আলোকে আমাদের জিজ্ঞাসা, (১) মসজিদের ওয়াকফকৃত জায়গায় মৃত ইমামের লাশ দাফন করা জায়িয হয়েছে কি-না?
(২) যদি জায়িয না হয়, তাহলে উক্ত ইমামের কবর মসজিদের জায়গায় থাকবে, না লাশ স্থানান্তর করতে হবে?
উত্তর
(১) মসজিদের নামে ওয়াকফকৃত জায়গায় মৃত ইমামের লাশ দাফন করা জয়িয হয়নি। তবে হ্যাঁ, যদি ওয়াকফকারী ওয়াকফ করার সময় মসজিদের জায়গায় কিছু অংশ লাশ দাফন করার অনুমতি দিয়ে থাকে, তাহলে ভিন্ন কথা, অর্থাৎ তখন জায়িয হবে, অন্যথায় নয়।
(২) যদি মাসআলা না জানার কারণে কাউকে ওয়াকফকৃত জায়গায় দাফন করে থাকে, তাহলে কবর খনন করে লাশ বাহির করে স্থানান্তর করার প্রয়োজন নেই। কেননা, তাতে মৃত ব্যক্তির লাশের অবমাননা হয়। অবশ্য জমিনে তার অনুমতি ছাড়া লাশ দাফন করলে এবং আসল মালিক তার জমিনে লাশ রাখার অনুমতি না দিলে, লাশ স্থানান্তর করা জরুরী। সেরূপ ক্ষেত্রে কবর খনন করে লাশ বাহির করে অন্যত্র দাফন করা জায়িয। কারণ এক্ষেত্রে না সরালে অন্যের হক নষ্ট হয়।
বর্ণিত সুরতে যেহেতু কারো হক বা প্রাপ্য নষ্ট হচ্ছে না, ওয়াকফকারীরও না। এই জন্য যে, তার মালিকানা নেই। আর সাধারণ মুসলমানের হক নষ্ট এই জন্য হচ্ছে না যে, তারা উক্ত স্থানে নামায পড়ে না। তাই সেই কবর সেখানেই থাকতে পারে। তবে ভবিষ্যতের জন্য মসজিদের জায়গা সংরক্ষন করবে, যেন কোন মৃত ব্যক্তিকে দাফন না করা হয়।
বর্তমানে দাফনকৃত ব্যক্তির লাশ বাহির করবে না। তবে ১০/১২ বছরের মধ্যেই যখন লাশ মাটি হয়ে যাবে, তখন কবরটিকে জমিনের সমান করে দিবে। অতঃপর তাতে চলাফেরা, নামায পড়া এবং প্রয়োজনের সময় সেখানে মসজিদ সম্প্রসারণ করা জায়িয হবে। [প্রমাণঃ কিফায়াতুল মুফতীন৭৮৮; ফাতাওয়ায়ে রাহিমীয়া৬:৯৩; মাহমূদীয়া ৬:১৭৫; আলমগীরী ১:১৬৭]