ভালবাসা করা জায়েয কি-না?

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫বিবাহ তালাক

প্রশ্ন

ভালবাসা করা জায়েয কি-না?

উত্তর

ভালোবাসা দুই প্রকার, (১) ইশকে হাকীকী অর্থাৎ প্রকৃত ভালোবাসা যা আল্লাহ তা‘আলা ও বান্দার মধ্যে হয়ে থাকে। (২) ইশকে মাজাযী অর্থাৎ কৃত্রিম ভালবাসা, প্রচলিত এই ভালবাসা যা সাধারণত পুরুষ -মহিলার মাঝে হয়ে থাথে।

প্রকৃত ভালবাসা যা আল্লাহ ও বান্দার মাঝে হয়ে থাকে, তা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও প্রশংসনীয়। কুরআন ও হাদীসের বর্ণনা দ্বারা এ ধরণের ভালোবাসার কারণে ঈমানের সাথে মৃত্যুবরণ করার নিশ্চয়তা পাওয়া যায়। হক্কানী আল্লাহ ওয়ালা বুজুর্গদের সাথে ইসলাহী সম্পর্ক করে এ ধরনের ভালবাসা অর্জন করা আমাদের সকলের জন্য কর্তব্য।

দ্বিতীয় প্রকার ভালবাসা অর্থাৎ পুরুষ-মহিলার পরস্পর যা হয়ে থাকে, এটা যদি বৈধ ভাবে হয় যেমন পিতা-মাতার সাথে, স্বামী-স্ত্রীর মাঝে তাহলে এটাও জায়েয এবং জরুরী। স্বয়ং আল্লাহ তা‘আলা এর হুকুম দিয়েছেন। কিন্তু প্রেম ভালবাসা যা সাধারণতঃ বেপর্দার কারণে অবৈধ ভাবে ছেলে-মেয়ের মধ্যে হয়ে থাকে তা সম্পূর্ণ নাজায়েয ও হারাম। এর কেউ দেখা-সাক্ষাৎ প্রেমালাপ-প্রেমপত্র বিনিময় সবই নাজায়েয ও হারাম। যদি কেউ দেখা-সাক্ষাৎ ও কথাবার্তা নাও বলে তবুও অন্ততপক্ষে প্রেমিক-প্রেমিকাকে মনে মনে কল্পনা করে আনন্দ অনুভব করে যা শরী‘আতের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম। সর্বদা তার ধ্যানে মগ্ন থাকার দরুণ শরী‘আতের বিধান লংঘনের পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও মস্তিস্ক দুর্বল হয়ে পড়ে। এবং দাম্পত্য জীবনে স্ত্রীর হক আদায় করতে ব্যর্থ ও লজ্জিত হয়। হাদীস শরীফে আছে মানুষের অন্তরও যিনা করে। এবং তা এভাবে যে, সে মনে মনে প্রেমাস্পদকে চায় ও কল্পনা করতে থাকে। অতএব, প্রচলিত প্রেম-ভালবাসা সম্পূর্ণরূপেই অবৈধ, নাজায়েয ও হারাম। এ প্রেম জায়েয বা বৈধ হওয়ার কোন উপায়ে নেই। অনেকে যে লাইলী-মজনু ও শিরী-ফরহাদ প্রভৃতির উপমা টেনে প্রেমকে বৈধ করতে সচেষ্ট হয় এটা নিতান্তই জাহালতী ও মূর্খতা।

[প্রমাণঃ সূরা বাকারা ১৬৫ #মায়িদা ৫৪ #নিসা ১৯ #বাওয়াদিরুন নাওয়াদির ২:৬৯৮#মিশকাত শরীফ ২৬৯ #আপকে মাসাইল আওর উনকা হল ৮:৪৮]

ভালবাসা করা জায়েয কি-না? | ইসলামী যিন্দেগী