জমি এগ্রিমেন্টের বৈধ পদ্ধতি

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব১২ আগস্ট, ২০২৫লেনদেন কামাই রোজগার

প্রশ্ন

আমাদের দেশের প্রচলিত নিয়মানুযায়ী জমি এগ্রিমেন্ট রাখা জায়েয আছে কি-না? এগ্রিমেন্ট রাখার সহীহ,পদ্ধতি কি জানতে ইচ্ছুক।

উত্তর

প্রচলিত পন্থায় জমি এগ্রিমেন্ট রাখার অর্থ হচ্ছে, জমি বন্ধক রাখা। আমাদের দেশে জমি বন্ধক দেয়া-নেয়ার যে সকল পদ্ধতি প্রচলিত আছে, তা হচ্ছে নিম্নরূপ- প্রতি বছর মূল টাকা থেকে খাজনা বা তার ক্ষতিপূরণ স্বরপ কিছু টাকা কর্তন দিয়ে জমি ভোগ করা অথবা বন্ধক গ্রহণকারী জমির ফসল খেয়ে যাবে, আর তার বিনিময়ে প্রতি বছর মূল টাকা থেকে স্বল্প পরিমাণ টাকা কমে যেতে থাকবে অথবা মোটেও কর্তন না দিয়ে জমি ভোগ করা। এ ধরনের সকল লেন-দেনই শরী‘আতের দৃষ্টিতে নাজায়েয ও হারাম। কেননা, বন্ধক গ্রহণকারীর জন্য বন্ধকের জিনিস ভোগ করা বা তার থেকে উপকৃত হওয়া সুদী কারবারের অন্তর্ভুক্ত।

এ ধরনের লেন-দেনে টাকা কর্য দেয়া হয়ে থাকে বলেই নাম মাত্র কিছু খাজনা আদায় বা একশত টাকা কর্তনের বিনিময়ে অনেক জমি ভোগ করার সুযোগ লাভ হয়। অথচ টাকা কর্য না দিয়ে এত অল্প টাকায় ঐ পরিমাণ জমি ভাড়া নেয়া সম্ভব ছিল না। হাদীস শরীফে আছে কর্যের বিনিময়ে যে লাভ আসে, তা সুদের অন্তর্ভুক্ত। (প্রমাণঃ ফাতাওয়া শামী ৬:৪৮২ #বাদায়িউস সানায়ি ৬:১৪৫ #আযীযুল ফাতাওয়া ৬৬১ #ফাতাওয়ায়ে রশীদিয়া ৫০৬)

তবে জায়েয পদ্ধতিতে এ ধরনের লেন-দেন করতে হবে প্রথমে জমি (ইজারা) ভাড়া স্বরূপ গ্রহণ করতে হবে। এই পদ্ধতিতে জমির মালিক থেকে বাৎসরিক ভাড়ার পরিমাণ ও সময়সীমা নির্ধারিত করে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকার বিনিময়ে জমি ভাড়া নিয়ে শর্তানুযায়ী নির্ধারিত বছর পর্যন্ত জমি ভোগ দখলের চুক্তি কররে। এক্ষেত্রে জমির মালিকের বেশী টাকার প্রয়োজন হলে এক সঙ্গে কয়েক বৎসরের ভাড়া ঠিক করে তাকে উক্ত বছর সমূহের টাকা অগ্রিম দিয়ে দিতে পারে। (প্রমাণঃ ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ৪:৪১৩ #ফাতাওয়ায়ে মাহমূদিয়া ১৩:৮১)

জমি এগ্রিমেন্টের বৈধ পদ্ধতি | ইসলামী যিন্দেগী