ক্রোধ বা রাগের চিকিৎসা

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব৫ জানুয়ারি, ২০২৬আত্মশুদ্ধি, বিবিধ

প্রশ্ন

হুজুর, আমার অবস্থা হল যেখানে সেখানে, কারণে অকারণে অযথা রাগ উঠে যায়, সামান্য সামান্য কারণে এমন ক্রোধ এসে যায় যে, সামলানো মুশকিল হয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে অনেক অঘটন ঘটে যায়। এমতাবস্থায় আমার করনীয় কি?

উত্তর

কুরআনে মুমিনের সিফাত বলা হয়েছে,

والكاظمين الغيظ والعافين عن الناس الخ

“তারা ক্রোধ দমন করে, মানুষকে মাফ করে।”

হাদীসে এসেছে,

ليس الشديد بالصرعة انما الشديد الذي يملك نفسه عند الغضب

“দুশমনকে ধরাশায়ী করার নাম বাহাদুরী নয় বরং রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখার নাম বাহাদুরী।” [বুখারী শরীফ]

তাই প্রকৃত মুমিন হতে হলে রাগ ক্রোধকে অবশ্যই দমন করতে হবে, ক্রোধ দমনের জন্য নিম্নে বর্ণিত কাজ করতে হবে।

(১) রাগের সময় প্রথমত আল্লাহ ও রাসূলের নির্দেশকে খেয়াল করবে, হাদীস অনুযায়ী রাগকে জাহান্নামের আগুন মনে করবে।

(২) দ্বিতীয়ত এ খেয়াল করবে যার উপর আমি রাগান্বিত হচ্ছি এ ব্যক্তি আমার বান্দা বা গোলাম নয়, অপরদিকে আমি যার গোলাম তার মরযী ও মতের বিরুদ্ধে কত কাজ আমি করছি কিন্তু তিনি আমাকে আযাব দিচ্ছেন না।

(৩) তারপর পূর্ণ আউযুবিল্লাহ কয়েকবার পড়বে।

(৪) অতঃপর অবস্থার পরিবর্তন করবে যেমন, দাড়ানো থাকলে বসে পড়বে।

(৫) এবং ঐ ব্যক্তির সম্মুখ থেকে সরে যাবে, এবং সুন্দরভাবে উযু করে জাহান্নামের আগুন নিভিয়ে ফেলবে, প্রয়োজনে জমিনে চোয়াল রেখে নিজের দীনতা ও হীনতা প্রকাশ করবে, এইভাবে আমল করার ২০/২৫ দিন পর অবস্থা শাইখকে জানাবে, ভবিষ্যতে অবৈধ রাগ প্রকাশ পেলে প্রতি একবারের জন্য ২০ রাকা`আত নফল নামাজ পড়ে নিজের নফসকে শাস্তি প্রদান করবে।

উল্লেখ্য, রাগের সময় যেহেতু আক্বল ঠিক থাকে না, সুতরাং ঐ অবস্থায় কোন সিদ্ধান্ত বা বিচার করবে না। ঐ অবস্থায় যা করবে সবই ভুল হবে এবং এর জন্য পরে লজ্জিত হতে হবে।

(বি.দ্রঃ প্রদত্ত জবাব নমুনা স্বরূপ পেশ করা হল। নতুবা প্রত্যেককেই তার মুর্শিদের পরামর্শ মুতাবিক আমল করতে হবে।)