মসজিদ কমিটি কেমন হওয়া উচিত?

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব১ জানুয়ারি, ২০২৬মসজিদ মাদরাসা

প্রশ্ন

(ক) কোন মসজিদ অথবা দ্বীনী প্রতিষ্টানে পরিচালনার ক্ষেত্রে শরী‘আত সম্মত কমিটি কিরূপ হওয়া উচিত ? এবং বর্তমানে প্রচলিত পাশ্চাত্য পদ্ধতিতে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে পরিচালনা পরিষদ গঠন ইসলামী দৃষ্টিকোন থেকে কতটুকু গ্রগণযোগ্য?

(খ) নিয়মিত নামায আদায় ও জামা‘আতের পাবন্দ নয়, এমন ব্যক্তি মসজিদ পরিচানার দ্বায়িত্বে বহাল থাকা বৈধ কি-না?

(গ) মসজিদ সংকান্ত কোন বিষয়ে চূরান্ত ফায়সালা প্রদানের ক্ষমতা কার? প্রধান উপদেষ্টা, সভাপতি, না সংখ্যাগরিষ্ঠের? সেক্রেটারীর প্রাধান্য গ্রহণযোগ্য কি-না?

(ঘ) ইমাম সাহেবকে মসজিদ কমিটির অধীনস্থ কর্মচারী মনে করা সমীচীন কি-না?

উত্তর

(ক) মসজিদ অথবা যে কোন দ্বীনী প্রতিষ্টানের পরিচালক দ্বীনদার, আমানতদার, শরী‘আতের পাবন্দ, খোদাভীরু ও পরিচালনার যোগ্যতাসম্পন্ন হওয়া জরুরী। ফাসিক, খিয়ানতকারী শরী‘আতের খেলাফ চাল-চলনে অভ্যস্ত কোন ব্যক্তিকে মসজিদ বা কোন দ্বীনী প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বানানো জায়িয নয়। এমনিভাবে কমিটির সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে পাশ্চাত্য পদ্ধতি অনুসরন করা তথা শরী‘আতের দৃষ্টিতে যোগ্যতর লোক থাকা সত্ত্বেও সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের উপর ভিত্তি করে পরিচালনা পরিষদ বা অযোগ্য ব্যক্তিকে দ্বীনী প্রতিষ্টানের পরিচালক নিযুক্ত করা জায়িয নয়।

বলাবাহুল্য, মানুষের মাঝে দ্বীনী ইলম না থাকার দরুন প্রভাব-প্রতিপত্তি ও অর্থ-সম্পদের দিকে খেয়াল করে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসল্লীর রায় অনেক সময় অযোগ্য ব্যক্তির দিকে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। তাই সেরূপ নির্বাচন পন্থা পরিহার করে এলাকার বা আশ-পাশের উলামায়ে কিরাম ও দ্বীনদারগণের পরামর্শ অনুযায়ী কমিটি গঠন করতে হবে।

(খ) যে ব্যক্তি নিয়মিত নামায আদায় করে না, শর‘ঈ উজর ব্যতীত নামায কাজা করে অথবা প্রায়ই জামা‘আত তরক করে, সে ফাসিক বলে গণ্য হবে। ফাসিক ব্যক্তিকে মসজিদের পরিচালক নির্বাচন করা জায়িয নয়।

(গ) মসজিদ সংকান্ত বিষয়ে চুড়ান্ত ফায়সালা প্রদানের ক্ষমতার অধিকারী মুতাওয়াল্লী অথবা সভাপতি। যোগ্যতার ভিত্তিতে যিনি মুতাওয়াল্লী অথবা সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন, তিনি উপস্থিত সকলের পরামর্শক্রমে প্রতিষ্ঠানের জন্য যেটাকে অধিক কল্যাণকর মনে করেন, সে অনুপাতেই ফায়সালা প্রদান করবেন। চাই সেটা অধিকাংশ সদস্যের প্রস্তাব হোক বা স্বল্পসংখ্যক সদস্যের প্রস্তাব হোক, কিংবা সম্পূর্ণ নতুন দৃষ্টিভঙ্গি হোক। পাশ্চাত্য গণতন্ত্রের ন্যায় অধিকাংশের প্রস্তাব বা ভোটের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ইসলামী শরী‘আতে জরুরী নয়। বরং চুড়ান্ত ফায়সালা মুতাওয়াল্লী বা সভাপতির স্বাধীন রায়ের উপর নির্ভরশীল। তিনি মুনাসিব মত ফায়সালা দিবেন, শরী‘আতের খেলাপ না হলে সেটা গ্রহণ করা সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য জরুরী।

তবে যদি কোন বিষয় এমন হয় যে, উভয় পক্ষের নিকটই মজবুত যুক্তি ও প্রমাণ আছে এবং উভয় পক্ষের দাবীর মধ্য থেকে কোনটিই প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতিকর নয়, তাহলে এমন ক্ষেত্রে সভাপতির জন্য অধিকাংশের রায়ের ভিত্তিতে ফায়সালা প্রদান করা উত্তম। উল্লেখ্য যে, শরী‘আতের দৃষ্টিতে কোরাম কোন বিষয় নয়। যারা উপস্থিত হবেন। তারাই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। কিছু লোকের অনুপস্থিতির কারণে অযথা কষ্ট করে ও সময়ের অপচয় করে যারা উপস্থিত হয়েছেন, তাদের শ্রম ও মেহনত ব্যর্থ হতে পারে না। যার উপস্থিত হতে পারেনি, প্রয়োজনে এ সিদ্ধান্তের ব্যপারে পরবর্তীতে তারা নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেবেন। সভাপতির অনুমোদনের সময় তাদের কথা গ্রহণযোগ্য হলে, তা বিবেচনায় রেখে চূড়ান্ত ফায়সালা প্রদান করবেন।

(ঘ) ইমাম সাহেবকে কর্মচারী মনে করে তার সাথে নিজেদের কর্মচারীর ন্যায় আচরণ করা জায়িয নয়। কারণ, তিনি নবী ﷺ এর ওয়ারিশ। তাঁকে সম্মান প্রদর্শন করা ঈমানের অঙ্গ। শর‘ঈ কোন কারণ ছাড়া তাকে হেয় প্রতিপন্ন করা ঈমানের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। [প্রমাণঃ হিনদিয়্যাহ ২:৪০; ফাতাওয়া মাহমীদিয়া ২:৪৫২]

মসজিদ কমিটি কেমন হওয়া উচিত? | ইসলামী যিন্দেগী