আলেমগণের জন্যও কি আত্মশুদ্ধি জরুরী?
প্রশ্ন
মুহাক্কিক উলামায়ে কিরামের জন্য বাইয়াত হওয়াও কি জরুরী? তারা কি নিজের আত্মশুদ্ধি নিজেই করতে পারে? এসম্পর্কে বিস্তারিত সমাধান দিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
শরী‘আতের দৃষ্টিতে আত্মশুদ্ধি তথা নফসের সংশোধন করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরয। আর আত্মশুদ্ধি বা অন্তরের রোগের চিকিৎসা অতি সূক্ষ্ম বিষয় যা নিজে নিজে করা সম্ভব নয়। এর জন্য নির্দিষ্ট কোন হক্কানী কামিল ব্যক্তিদের স্মরণাপন্ন হয়ে ইসলাহী সম্পর্ক কায়েম করা জরুরী।
তাযকিয়া শব্দটিই متعدي যা শুধু কর্তা দ্বারা পূর্ণ হয় না। বরং–এর জন্য কর্মও জরুরী। কাজেই এ শব্দটিই প্রমাণ করে যে একজন আত্মশুদ্ধির ডাক্তার এবং একজন আত্মশুদ্ধির রুগী থাকবে। যিনি ডাক্তার হবেন তিনি রুগীর চিকিৎসা করবেন। রুগী কখনো নিজে নিজে চিকিৎসা করতে পারে না।
যদি বড় আলেম হয়ে একা আত্মশুদ্ধি সম্ভব হতো তাহলে যুগশ্রেষ্ঠ আলেম মুফতী রশীদ আহমদ গাংগুহী রহ. মাওলানা কাসেম নানুতুবী রহ. মত ব্যক্তিদের হযরত হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজেরে মক্কী রহ. এর হাতে নিজেকে সোপর্দ করার কোন প্রয়োজন পড়তো না।
অথচ দুনিয়া সাক্ষ্যি ইলমের সাগর তুল্য এসব আলেম তাদের থেকে বাহ্যিক ভাবে ছোট আলেমের নিকট আত্মশুদ্ধি করিয়েছেন এবং হাজী সাহেবের সুহবতের বদৌলতে সমগ্র দুনিয়াতে পরিচিত হয়েছেন। এবং স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে, হাজী সাহেবের হাতে আত্মশুদ্ধির আগে তাদের এই প্রসিদ্ধি কখনো অর্জিত হয়নি। সুতরাং এটাই বাস্তবতা যে, আলেম যত বড়ই হোক শুধু ইলমের দ্বারা কেউ নিজেও হেদায়াতের উপর কায়েম থাকতে পারেন না এবং দুনিয়াকে আলোকিত করতে পারেন না যতক্ষণ পর্যন্ত কোন আল্লাহওয়ালার সুহবত হাসিল না করেন এটা মাওলানা জালালুদ্দীন রুমী রহ. যিনি বিশ্ব বিখ্যাত কিতাব মসনবী শরীফের প্রণেতা তার জীবন আদর্শ থেকে প্রমাণিত যে, হযরত শামসে তাবরীয রহ. এর হাতে হাত দেয়ার পর তিনি দুনিয়াতে প্রসিদ্ধ হয়েছেন। আরো পরিষ্কার করে বলতে হয় যারা প্রচুর ইলমের অধিকারী হয়েছিলেন কিন্তু অহংকারের কারণে কোন আল্লাহওয়ালার সুহবত অবলম্বন করেন নাই, তাদের দ্বারা আল্লাহ তা`আলা মাখলূকের হেদায়েতের কাজ নেন নাই বরং তারা পরবর্তীতে বাতিল ফেরকাসমূহের ধারক বাহক হয়েছেন। আল্লাহর পানাহ। [প্রমাণঃ ফাতাওয়া মাহমুদিয়া ১৫/৮৮, তালীফাতে রশীদিয়া ১৯৬ পৃঃ, আহসানুল ফাতাওয়া ১/৫৪৫]