সরকারী ফান্ড যাকাত দেয়ার হুকুম

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব১১ জানুয়ারি, ২০২৫যাকাত

প্রশ্ন

সরকারী যাকাত ফান্ডে যাকাত দেয়া যাবে কি-না?

উত্তর

যে সরকার নামায কায়িম করে না, ইসলামী রাষ্ট্রের ব্যাপারে যাদের কোন অবদান নেই, সে সরকারের যাকাত উসুল করার কোন অধিকার নেই। যাকাত কোন মামুলী জিনিস নয়। এটা কোন ছিনিমিনি খেলার বস্তু নয়। যাকাত আল্লাহ তা‘আলার বড় হুকুম এবং ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি। যাকাত একদিকে দান, অপরদিকে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। যাকাত আদায় করতে হলে পবিত্র কুরআনে বর্ণিত সুনির্দিষ্ট খাতে তা ব্যয় করা অপরিহার্য। যে সরকার কুরাআন সুন্নাহর ভিত্তিতে দেশে পরিচালনা করে না, সে সরকার শরীআতের দৃষ্টিতে যাকাত আদায়ের প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষমতা রাখে না। তাই এরূপ সরকারী ফান্ডে যাকাতের টাকা দেয়া জায়িয হবে না। বরং মুসলমানদের কর্তব্য নিজের হাতে সঠিক খাতে যাকাত দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত সম্পন্ন করতঃ আল্লাহর দরবারে দায়মুক্ত হওয়া, অথবা হক্কানী উলামায়ে কিরামের মাধ্যমে যাকাত বিতরণের দায়মুক্ত হওয়া।

বিগত কয়েক বছর যাবত সরকারী ফান্ডে যাকাত প্রদানের আবেদনের জন্য সরকার কতিপয় আলেমকে ব্যবহার করে আসছে। কিন্তু দেশের অধিকাংশ হক্বানী উলামায়ে কিরাম সরকারের ধর্মদ্রোহী ভূমিকার কারণে তাদের এ আবেদনের বিরোধীতা করে আসছেন। এবং সরকারী ফান্ডে যাকাত দেয়ার ব্যাপারে কঠোরভাবে নিষেধ করে আসছেন। সুতরাং, নিজের আখিরাতের ব্যাপারে ঝুঁকি নেয়া দ্বীনদার মুসলমানদের কাজ নয়। উল্লেখ্য, ধূর্ত ইংরেজ জাতির পাকাপোক্ত অভিজ্ঞতা, সমগ্র বিশ্বের উপরে কর্তৃত্ব ও প্রভুত্ব কায়েম করতে একমাত্র বাধা হক্কানী উলামায়ে কেরাম ও দ্বীনদার মুসলমান। এদের কেন্দ্র হল মসজিদ মাদরাসা সমূহ। সুতরাং এগুলো বন্ধ না করতে পারলে, তাদের প্রভূত্ব কায়িম হবে না।

কতিপয় আরবদেশে গরীব-মুসলমান দেশের জন্য এবং ঐসব মসজিদ-মাদরাসা সমুহের জন্য যথেষ্ট অবদান রাখতো, তা ইসলাম বিদ্বেষী ঐ চক্রের বরদাশত হয়নি। সেখানে এক পরিকল্পিত যুদ্ধের অভিনয় করে তারা ঐসব দেশের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিয়েছে। এর পরে সেসব দেশের দানবীদের একান্ত সংস্থা মসজিদ-মাদরাসা সমূহে সামান্য অবদান রাখতো, সেটাও বন্ধ করার জন্য তারা ষড়যন্ত্র করে চলছে। এরপরও তারা ক্ষান্ত হয়নি। মাদরাসাগুলোর গরীব ছাত্ররা যেহেতু অনেকটা যাকাতের উপর নির্ভরশীল। এ জন্য মাদরাসাসমূহের আমদানী বন্ধ করার জন্য তারা সরকারকে নসিহত করেছে গরীব- দুঃখীদের জন্য সরকারী পর্যায়ে যাকাত উসুল করতে। তাদের নসীহত বাস্তবায়নে যেহেতু গনবিক্ষোভের আশংকা আছে, এ কারণে তারা নিজেরা যাকাত চাচ্ছে না, বা সংসদেও বিল পাস করছে না, বরং কতিপয় আলেম দ্বারা আবেদন-নিবেদন পেশ করাচ্ছে।

যতদুর ধারনা করা যাচ্ছে, তাদের উদ্দেশ্য, এভাবে যখন পরিস্থিতি পক্ষে আসবে, তখন যাকাত উসুলের ব্যপারে কঠোরতা প্রয়োগ করবে। যাতে করে ধনীগন মাদরাসা সমূহ আর সাহায্য করার সুযোগ না পায়। ফলে মাদরাসা সমূহ এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে। এটাই ইসলাম বিদ্বেষী চক্রের খাহেশ এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনা। সুতরাং সরকারকে যাকাত দেয়ার অর্থই মাদরাসা সমূহ বন্ধ করার আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের সহযোগিতা করা।

[প্রমাণঃ আহসানুল ফাতওয়া, ৪:২৮৫ #জাওয়াহিরূল ফাতওয়া ২:৮৯ #মাআরিফুল কুরআন, ৪:২০০]

সরকারী ফান্ড যাকাত দেয়ার হুকুম | ইসলামী যিন্দেগী