অমুসলিম এন. জি ও. গুলি ইসলামের দুশমন

মুফতী মীযানুর রহমান কাসেমী সাহেব (রাহমানিয়া)১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫উলামা তোলাবা, বাতিল সম্প্রদায় ও গোমরাহ দল

প্রশ্ন

উলামায়ে কিরামগণ অমুসলিম এন. জিও. সমুহের বিরোধীতা করেন কেন? এন. জি ও দের ব্যপারে কুরআন-হাদীসের দৃষ্টি ভঙ্গি কি?

উত্তর

আমাদের দেশে অমুসলিম এনজিও বলতে মূলতঃ ইয়াহুদী ও খৃষ্টান দেশ সমূহের অর্থে পরিচালিত এন, জি ও সমুহই বুঝায়। আর কুরআন-হাদীসের আলোকে এবং ইসলামের আবির্ভাবের পর হতে এ পর্যন্ত ইসলাম ও মুসলমানদের সাথে ইয়াহুদী ও খৃস্টানদের আচরণের ইতিহাসের দিকে তাকালে এটা দিবালোকের চেয়ে সুস্পষ্ট হয়ে উঠে যে, ইয়াহুদী- খৃষ্টানরা কখনও মুসলমানদের হিতাকাঙ্খী হতে পারে না। তাই কুরআন মাজীদে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেনঃ হে মুমিনগণ! তোমরা ইয়াহুদী ও খৃস্টানদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করোনা। তারা একে অপরের বন্ধু। (সূরাহ মায়িদাহ) অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে: তোমরা মুমিনদের ব্যতীত অন্য কাউকে অন্তরঙ্গ রূপে গ্রহণ করো না। তারা তোমাদের অমঙ্গল কামনায় কোন ত্রুটি করে না। তোমরা কষ্টে থাক তাতেই তাদের আনন্দ। শত্রুতা প্রসুত বিদ্বেষ তাদের মুখ ফুটে বেরোয়। আর যা কিছু তাদের মনে লুকিয়ে রয়েছে তা আরো বেশী জঘন্য। তোমাদের জন্য নিদর্শন বিশদভাবে বর্ণনা করে দেয়া হলো যাতে তোমরা তা অনুধাবন করতে সমর্থ হও। দেখ! তোমরাই তাদের ভালবাস কিন্তু তারা তোমাদের প্রতি মোটেও সদভাব পোষণ করে না। আর তোমরা সমস্ত কিতাবেই বিশ্বাস কর। অথচ তারা যখন তোমাদের সাথে এসে মেশে বলে আমরা ঈমান এনেছি পক্ষান্তরে তারা যখন তোমাদের হতে পৃথক হয়ে যায় তখন তোমাদের উপর আক্রোশ বশতঃ আঙ্গুল কামড়াতে থাকে। বলুন, তোমরা আক্রোশে মরতে থাক, আল্লাহ মনের কথা ভালই জানেন। তোমাদের যদি মঙ্গল হয় তাহলে তাদের খারাপ লাগে। আর তোমাদের যদি অমঙ্গল হয় তাহলে তাতে তারা আনন্দিত হয়, আর যদি তোমরা ধৈর্য্য ধারণ কর এবং তাকওয়া অবলম্বন কর তবে তাদের প্রতারণায় তোমাদের কোন ক্ষতি হবে না। নিশ্চয় তারা যা কিছু করে, সে সমস্তই আল্লাহর আয়ত্তে রয়েছে। (সূরাহ আল-ইমরানঃ ১১৮-১২০)

আরেক জায়গায় আল্লাহ তা‘আলা সতর্কবাণী উচ্চারণ পূবর্ক ইরশাদ করেন: ইয়াহুদী ও খৃস্টনরা কখনই আপনার (তথা মুসলমানদের) প্রতি সন্তুষ্ট হবে না যে পর্যন্ত না আপনি তাদের ধর্ম অনুসরণ করেন। ঐ জ্ঞান লাভের পর যা আপনার কাছে পৌঁছেছে কেউ আল্লাহর কবল থেকে আপনার (তথা মুসলমানদের) উদ্ধার কারী, সাহায্যকারী নেই। (সূরাহ বাকারাহ: ১২০) আরেক আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা স্পষ্ট বলেছেনঃ (ইয়াহুদী ও খৃস্টানরা) বলে তোমরা ইয়াহুদী অথবা খৃস্টান হয়ে যাও, তবেই সুপথ পাবে। (সূরাহ বাকারাহ: ১৩৫) আল্লাহ তা‘আলার এ সকল চির সত্য বাণী সমুহের প্রতি কারো দৃঢ় বিশ্বাস বা আস্থার অভাব থাকলে আমরা তাদের আহবান জানেই-আপনারা ইসলামের প্রায় সাড়ে চৌদ্দ শত বৎসরের ইতিহাসে এমন কোন নজীর পেশ করুন যা দ্বারা বুঝা যায় যে স্বার্থ ছাড়া তারা মুসলমানদের কোন কল্যাণ করেছে। আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি এমন দৃষ্টান্ত কেউ কখনও পেশ করতে পারবে না। বর্তমানে আমাদের এই ইসলামী ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশে এন, জিও দের নানা রকম প্রকাশ্য অশালীন অপকর্মসমূহ ছাড়াও সেবার নামে রোগীদেরকে ফ্রী ঔষধ প্রদান, শিশুদের বিনাবেতনে শিক্ষা ও শিক্ষা সামগ্রী প্রদান, গরীবদেরকে ঋণ প্রদান ইত্যাদি কর্মসূচীসমূহ পরিচালনায় তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে মুর্খ ও ধর্ম জ্ঞান শুন্য মুসলমান ও তাদের সন্তানদের মাঝে খৃষ্টীয় ভাব ধারা সৃষ্টি করা, খৃষ্টীয় ধর্ম প্রচার করে মুসলমানদের খৃস্টান বানানো এবং গরীব জনগণের মাঝে স্থায়ী ভাবে দারিদ্র লালন পালন করা। আমাদের দেশে উন্নয়ন প্রকল্প সমূহে সাহায্য করে তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে আমাদের দেশে প্রচুর সম্ভাবনাময় উন্নয়ন ও স্বনির্ভরতা অর্জনের সকল খাত ও পথ রুদ্ধ করে রাখা এবং বাংলাদেশকে স্থায়ীভাবে বিদেশী তথা ইংরেজদের সাহায্য নির্ভর রেখে এদেশের সরকারের উপর নজরদারী এবং রাষ্ট্রীয় ব্যাপারে খবরদারীর মাধ্যমে ক্ষমতাসীন শাসকবর্গকে চিরতরে নিজেদের আজ্ঞাবহ রেখে তাদের মাধ্যমে শতকরা ৯০% মুসলমানের দেশে পশ্চিমা ও খৃষ্টীয় কৃষ্টি কালচার ও সংস্কৃতির প্রসার ঘটিয়ে এবং মুসলমানদেরকে সেগুলোর অন্ধ অনুকরণে মোহিত করে রেখে এদেশের মুসলিম সমাজ হতে ইসলামী তামাদ্দুনকে চিরতরে দূরে সরিয়ে রাখা। যাতে মুসলমানরা কখনই তাদের ঈমানী শক্তিতে বলিয়ান হতে না পারে এবং এদের ইসলামী হুকুমত কায়েযমর কোন পরিবেশ বা সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে না পারে। এতে করে মুসলমানরা চির কাল ঘুনে ধরা কাঠের ন্যায় দুর্বল হয়ে থাকবে এবং তাদের গোলামীর জিঞ্জিরে চিরকাল আবদ্ধ থাকবে। তাই তাদের সাহায্য সহযোগীতায় বাহ্যিক কিছু উপকার দেখে নিজেদের চিরস্থায়ী বিপদের মুখে না ফেলে এবং স্থায়ীভাবে পর নির্ভরশীল না থেকে দেশের সম্পদ দিয়েই সম্ভব পরিমাণ স্বর্নিভরতা অর্জন করার চেষ্টা করাই বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক হবে।

অমুসলিম এন. জি ও. গুলি ইসলামের দুশমন | ইসলামী যিন্দেগী