শেয়ার ব্যবসা জায়েয কি-না

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব১২ আগস্ট, ২০২৫লেনদেন কামাই রোজগার

প্রশ্ন

শেয়ার ব্যবসা জায়েয কি-না? জায়েয না হলে, যার কাছে পূর্বে থেকে ক্রয় করা আছে, এখন তিনি উহা কি করিবেন?

উত্তর

(ক) যে কোন কোম্পানীর শেয়ার বিক্রয় জায়েয হওয়ার জন্য প্রথম শর্ত হলো সে কোম্পানীর প্রতিষ্ঠা হারাম বা অবৈধ কারবার যেমন মদ তৈরীর কারখানা, সুদী ব্যাংক বা বীমা কোম্পানী ইত্যাদির জন্য না হওয়া বরং মূল কারবার সম্পূর্ণ হওয়া সেমন বস্ত্রকল, সুতার কল বা অটোমোবাইল শিল্প ইত্যাদি।

(খ) Face value তথা গায়ের মূল্যে চেয়ে কম বেশীতে শেয়ার বেচা কেনা জায়েয হওয়ার জন্যে প্রথম শর্তসহ দ্বিতীয় শর্ত হলো কোম্পানীর স্থায়ী সম্পত্তি যেমন মেশিন, বিল্ডিং বা কোন কাচাঁমালও থাকতে হবে যাতে নগদ অর্থ সমপরিমাণ মূল্যের বিনিময়ে ও অবশিষ্ট মূল্য অন্য সম্পদের বিনিময়ে হলে সুদ হওয়ার আশংকা মুক্ত হওয়া যায়।

তেমনি ভাবে উক্ত সুরতে শেয়ারের বিক্রয় মূল্য কোম্পানীর নগদ ক্যাশ ও উসুলযোগ্য ঋণের সমষ্টি থেকে বেশী হতে হবে।

(গ) যদিও কোম্পানীর মূল কারবার হারাম নয় বটে, কিন্তু কোন কোন আনুসাঙ্গিক পর্যায়ে তারাও শরী‘আত পরিপন্থী লেন-দেন করে থাকে যেমন সুদভিত্তিক লোন গ্রহণ করে থাকে এবং পরিবর্তিতে সুদের বা অতিরিক্ত অর্থ ব্যাংকে জমা রাখে ও সুদ গ্রহণ করে। (আজকাল কোম্পানী সাধারণত এমনই হয় ) তাহলে কোম্পানী যেহেতু আনুষাঙ্গিক পর্যায়ে হিসাবে শেয়ার হোল্ডারের উপরেও এর দায়িত্ব বর্তাবে। তবে দু’টি কাজ করলে এ দায়িত্বে এড়ানো সম্ভব হবে।

প্রথম কাজ: কর্তৃপক্ষকে সুদের খারাবী বুঝাতে হবে। সুদভিত্তিক লেন-দেনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে এবং এ জাতীয় লেন-দেন বন্ধের দাবী জানাতে হবে। যদিও তার এ দাবী প্রত্যাখ্যাত হয়। আর বাৎসরিক জেনারেল মিটিংয়ে এ দাবী জানানোর মোক্ষম সুযোগ।

দ্বিতীয় কাজ: প্রতিবাদ ও বন্ধের দাবী করা সত্বেও যদি কর্তৃপক্ষ সুদী লেন-দেন বর্জন করে তাহলে মুনাফা বন্টনের সময় আয়-ব্যয়ের তালিকা দেখে বা যে কোন উপায়ে সুদী লেন-দেনের মাধ্যমে অর্জিত মুনাফার আনুপাতিক হার জেনে নিবে এবং লাভের অংশ থেকে সে পরিমাণ অর্থ নিজে ব্যবহার না করে সাওয়াবের নিয়্যত ছাড়াই গরীবদেরকে দিয়ে দিবে।

(ঘ) যে সকল কোম্পানীর মূল কারবার হারাম নয় বলে জানা সত্বেও যাবতীয় লেন-দেন শরী‘আত সম্মত হয় বলে সম্পূর্ণ নিশ্চিত না হওয়া যায় সে সব কোম্পানীর শেয়ার একমাত্র অংশীদার হয়ে মুনাফা লাভের উদ্দেশে ক্রয় করা যাবে। পুঁজি লাভের উদ্দেশে কেনা-বেচা করা যাবে না। কারণ পুঁজি লাভের উদ্দেশে হলে স্বল্প সময়ে শর্ত নাম্বর "গ" এ বর্ণিত কাজ দ্বয়ের উপর আমল করা সম্ভব হবে না।

(ঙ) সম্পূর্ণ বা আংশিক মূল্য বাকী রেখে স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে শেয়ার ক্রয়ের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কমিশন আদায়ের শর্তেই শেয়ার ক্রয় করা যাবে পরবর্তিতে পরিশোধ যোগ্য মূল্যের উপর সুদ দেয়ার শর্তে নয়।

(চ) শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের সময় বেচা-কেনার সকল শর্ত যথাযথভাবে পালন করা, যেমন কেউ শেয়ার ক্রয় করার পর অন্যের নিকট তা বিক্রয় করতে চাইলে প্রথমে তা পুরোপুরি ভাবে নিজের মালিকানায় ও আয়ত্বে আসা জরুরী।

এসকল শর্তাবলীর ভিত্তিতে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করা জায়েয হবে। অন্যথায় জায়েয হবে না।

তাই কোম্পানীর শেয়ার গ্রহণে আগ্রহীদের করণীয় হচ্ছে প্রথমে কোম্পানীর কার্যক্রম ও তার সকল খুটিনাটি বিষয় এবং নিয়ম-কানুন কোন বিজ্ঞ মুফতীর সহায়তায় ভালভাবে অবহিত হওয়া। অতঃপর যদি উপরোক্ত শর্তাবলী পরিপন্থী কোন বিষয় না পাওয়া যায় তাহলে শেয়ার গ্রহণ করা যাবে। শরী‘আতের দৃষ্টিতে কোন কোম্পানীর সকল খুটিনাটি বিষয় অবহিত না হয়ে তার শেয়ার গ্রহণ জায়েয হবে না।

শেয়ার ব্যবসা জায়েয কি-না | ইসলামী যিন্দেগী