ইসলামী রাষ্ট্রের অনুপস্থিতিতে যিনাকারীদের সালিস
প্রশ্ন
(ক) যিনার ক্ষেত্রে প্রথম দোষী কে? বিবাহিতা মেয়ে ও অবিবাহিতা ছেলে যদি যিনা করে তাহলে শরী‘আত মুতাবেক বর্তমানে তাদেরকে কি ধরনের শাস্তি দেয়া যাবে?
(খ) যদি এক তরফা বিচার করা হয় অর্থাৎ ছেলের পক্ষ থেকে মেয়েকে ১ বিঘা জমি লিখে দিতে বাধ্য করা হয় এবং তা কার্যকর করা হয়। তাহলে বিচারকগন হাদীসের দৃষ্টিতে অপরাধী বলে বিবেচিত হবেন?
উত্তর
(ক) যিনার ক্ষেত্রে পুরুষ মহিলা উভয়ই সমপরিমাণ দোষী। যিনাকারী মহিলা পুরুষ যদি বিবাহিত হয় এবং তাদের এ কু-কাজের চারজন স্বাক্ষী থাকে এবং দেশে ইসলামী হুকুমত চালু থাকে, তাহলে শর‘ঈ বিধান হল তাদেরকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করা। আর যদি অবিবাহিত হয়, তাহলে একশত বেত্রাঘাত করা।
প্রকাশ থাকে যে, শর‘ঈ বিধান প্রয়োগ করার জন্য দেশে রাষ্ট্রিয়ভাবে ইসলামী হুকুমত থাকা আবশ্যক। যেহেতু আমাদের দেশে রাষ্ট্রিয়ভাবে ইসলামী হুকুমত শাসন ব্যবস্থা নেই, তাই শরী‘আতের উল্ল্যেখিত দণ্ড কার্যকর করা যাবে না। তবে তা’যীর বা সাধারণ শাস্তি হিসেবে শর‘ঈ পঞ্চায়েত সালিস বা স্থানীয় মুরুব্বী ও গণ্য মান্য ব্যক্তিবর্গ হক্কানী মুফতী আলেমের তত্ত্বাবধানে অনুর্ধ ৩৯ টি বেত্রাঘাত বা জুতা ইত্যাদি মেরে শাস্তি দিতে পারেন। পক্ষান্তরে স্থানীয় মুরুব্বী বা চেয়ারম্যানগণ অন্যায়কারীদের তাওবা ও ইস্তিগফার না করা পর্যন্ত তাদের সাথে সকল প্রকার সম্পর্ক ছিন্ন করে তাদেরকে বয়কট করবে। তারপর তাওবা করে চলাফেরা ইসলাম সম্মত হলে তখন তাদের সাথে সালাম কালামসহ সকল সম্পর্ক জারী করতে পারবে।
(খ) প্রশ্নে বর্ণিত এ ধরনের বিচারের কোন অবকাশ শরী‘আতে নেই। সুতরাং উক্ত জমি ছেলেকে ফেরত দিতে হবে এবং যারা শরী‘আতের বিধান না জেনে বিচার করেছেন, তারাও অপরাধী। [প্রমাণঃ ফাতাওয়ায়ে দারুল উলূম, ১২:১৮২]