পীরের ইন্তেকালের পর নতুন পীর ধরা

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব৫ জানুয়ারি, ২০২৬ঈমান আক্বাইদ, আত্মশুদ্ধি, বিবিধ

প্রশ্ন

পীরের যদি ইন্তেকাল হয়ে যায় তখন মুরীদের করনীয় কি? অন্য কোন বুযুর্গের সাথে নতুনভাবে সম্পর্ক করা বা বাইয়াত হওয়া জরুরী কিনা? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

যদি কারো ইসলাহী মুরব্বী ও পীরের ইন্তেকাল হয়ে যায় এমনকি তাকে যদি ইজাযত তথা খিলাফতও দিয়ে যায়, তাহলে সেক্ষেত্রেও তার জন্য অন্য কোন হক্কানী, শাইখ এবং পীরের সাথে পুনরায় ইসলাহী সম্পর্ক স্থাপন করত পরিপূর্ন আত্নিক পরিশুদ্ধি ও অন্তরের দশটি গুণাবলী অর্জন এবং বিভিন্ন নিত্য নতুন হালাতের ব্যাপারে তার পরামর্শ গ্রহণ করা জরুরী। কেননা শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু। মুরব্বী বিহীন থাকলে সে সুযোগ পেলেই লাইনচ্যুত করে ছাড়বে। চাই সে যত বড় আলেমই হোক না কেন। এ জন্যই রাসূলুল্লাহ ﷺ মৃত্যু পর্যন্ত নফসের নেগরানী করতে বলেছেন। তিরমিযী শরীফের এক হাদীসে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন, প্রকৃত মুমিন বান্দা ঘর্মাক্ত ললাট নিয়ে মৃত্যুবরন করে। অর্থাৎ নফসের বিরুদ্ধে মেহনত মুজাহাদার মধ্য দিয়ে মৃত্যুবরন করে।

হযরত হাকীমুল উম্মত মুজাদ্দিদুল মিল্লাত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. এর প্রসিদ্ধ কিতাব “শরীআত ও তরিকত”-এ মুসলিম শরীফের এক হাদীস যা হযরত আবু দারদা রা. সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন, আল্লাহর শত্রু অর্থাৎ ইবলীস একটি অগ্নি স্ফুলিঙ্গ আমার মুখে লাগাবার জন্য আনলো ......। ঐ হাদীসেই আছে আল্লাহ তাআলা নবীজীকে হেফাযত করেছেন) এর ব্যাখ্যায় উল্লেখ আছে যে, এ হাদীস দ্বারা বুঝা গেল, “কোন লোক যত বড় কামেলই হোক না কেন, শয়তান থেকে নিশ্চিত হওয়া উচিত নয়। [প্রমাণঃ মুসলিম শরীফ ১/২০৫ সুত্রঃ শরীআত ও তরীকত পৃঃ ৪১৬]

যখন কেউ তাযকিয়া তথা আত্মশুদ্ধি বিহীন থাকে তখন তার অন্তরের ভাণ্ডার থাকে খালি। আর খালি ভাণ্ডারের প্রতি শয়তান, চোর, ডাকাত এর দৃষ্টি পরে না। কিন্তু পরবর্তীতে তাযকিয়া করানোর দ্বারা তার খাযানায় যখন ধনদৌলত এসে যায়, তখন তার প্রতি শয়তানের দৃষ্টি বেশী পরতে থাকে। এমতাবস্থায় যদি তার উপর কোন শাইখ বা মুরব্বীর ছায়া না থাকে, তাহলে তার ধ্বংস ও পদস্খলনের আশংকা অনেক বেশী থাকে। সুতরাং প্রথম শাইখের মৃত্যুর পর দ্বিতীয় শাইখের সাথে ইসলাহি সম্পর্ক স্থাপন করা অত্যন্ত জরুরী।

হাকীমুল উম্মত মুজাদ্দিদুল মিল্লাত হযরত মাওলানা শাহ আশরাফ আলী থানভী রহ. লিখেছেন মৃত্যু পর্যন্ত নিজের মাথার উপর একজন মুরব্বীর ছায়া রাখা গোমরাহী থেকে বাঁচার জন্য রক্ষাকবজ। যদি বড় কাউকে না পাওয়া যায় তাহলে অন্তত নিজের সমকক্ষ কাউকে হলেও মুরব্বী মানবে। তাও যদি না পাওয়া যায়, তাহলে নিজের শাগরেদদের মধ্য থেকে যারা অন্যের সাথে ইসলাহী সম্পর্ক রাখে, তাদের সাথে পরামর্শ করে কোন সিদ্ধান্ত নিবে। নিজেকে কখনো স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করবে না। কারণ এটাই পদস্খলনের কারণ হয়।

[প্রমাণঃ সূরা তাওবা ১১৯, মুসলিম শরীফ ১/২০৫, তিরমিজী শরীফ ১/১৯২ এবং ১/৩০১, ফাতাওয়ায়ে মাহমূদিয়া ১৫/৯৫]