বিধর্মীদের মৃত্যুতে কুরআনখানী করা
প্রশ্ন
পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারলাম অনেক স্থানে মুসলমানগণ প্রিন্সেস ডায়না ও মাদার তেঁরেসার মৃত্যুতে কুরআনখানী বা মিলাদ-মাহফিলের আয়োজন করেছে। শরী‘আতের দৃষ্টিতে বিধর্মীদের জন্য এ ধরনের ধর্মীয় কোন অনুষ্ঠান করা জায়িয আছে কি-না? যদি কোন মুসলমান করে তাহলে তার সম্পর্কে শরী‘আতের মাসআলা কি?
উত্তর
জবাবঃ কোন মুমিন মুসলমানের জন্য কোন বিধর্মীর মৃত্যুতে তার মাগফিরাত বা সাওয়াব রিসানীর নিয়মে মীলাদ-মাহফিল, কুরআনখানি বা ধর্মীয় কোন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা বা তার অংশগ্রহণ করা জায়িয নয়। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন,
مَا کَانَ لِلنَّبِیِّ وَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اَنۡ یَّسۡتَغۡفِرُوۡا لِلۡمُشۡرِکِیۡنَ وَلَوۡ کَانُوۡۤا اُولِیۡ قُرۡبٰی مِنۡۢ بَعۡدِ مَا تَبَیَّنَ لَہُمۡ اَنَّہُمۡ اَصۡحٰبُ الۡجَحِیۡمِ
অর্থাঃ নবী ও মুমিনদের জন্য জায়িয নয় যে, তারা আল্লাহর দরবারে মুশরীকদের জন্য মাগফিরাত কামণা করবে, যদিও তারা নিকটতম আত্মীয় হয়, একথা সুস্পষ্ট হওয়ার পর যে, তারা (মুশরিকরা )দোষখী। [সূরা তাওবাঃ ১১৩]
অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে,
اِسۡتَغۡفِرۡ لَہُمۡ اَوۡ لَا تَسۡتَغۡفِرۡ لَہُمۡ ؕ اِنۡ تَسۡتَغۡفِرۡ لَہُمۡ سَبۡعِیۡنَ مَرَّۃً فَلَنۡ یَّغۡفِرَ اللّٰہُ لَہُمۡ ؕ ذٰلِکَ بِاَنَّہُمۡ کَفَرُوۡا بِاللّٰہِ وَرَسُوۡلِہٖ ؕ وَاللّٰہُ لَا یَہۡدِی الۡقَوۡمَ الۡفٰسِقِیۡنَ
অর্থঃ হে নবী! আপনি তাদের (কাফির ও মুশরীকদের) জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন আর নাই করুন, তাদের কোন উপকারে আসবে না। যদিও আপনি তাদের জন্য সত্তর বার অর্থাৎ অসংখ্য বার ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তথাপি আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করবেন না। তা এজন্য যে, তারা আল্লাহকে এবং তার রাসূলকে অস্বীকার করেছে। আল্লাহ অবাধ্য লোকদেরকে হিদায়াতপ্রাপ্ত করেন না। [সূরা তাওবা -৮০]
এ ছাড়াও আরো অনেক আয়াতে স্পষ্টভাবে বিধর্মীদের মাগফিরাতের জন্য দু‘আ করতে নিষেধ করে দেয়া হয়েছে।
তবে জীবিত বিধর্মীদের হিদায়াতের জন্য দু‘আ করা জায়িয আছে। [প্রমাণঃ তাফসীরে মাযহারী ৪:৩০৬]
যেমন- স্বয়ং রাসূল কারীম ﷺ ওহুদের ময়দানে কাফিরদের হাতে আহত অবস্থায় কাফিরদের জন্য এই বলে দু‘আ করেছিলেন,
অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমার কাওমকে ক্ষমা করে দাও, তারা তো বুঝে না। হুযূর ﷺ এর উক্ত বাণীতে মাগফিরাতের দু‘আ দ্বারা উদ্দেশ্য ছিল আল্লাহ তা‘আলা যেন তাদেরকে ঈমান ও ইসলামের তাওফীক দিয়ে মাগফিরাতের উপযুক্ত করে নেন। (মা আরিফুল কুরআন ৪: ৪৭২ পৃঃ) সুতরাং, কোন অবস্থাতেই বিধর্মীদের মাগফিরাতের জন্য মীলাদ-মাহফিল, কুরআনখানী বা ধর্মীয় কোন অনুষ্ঠান করা বা তাতে অংশগ্রহণ করা জায়িয হবে না। এখন যদি কোন মুসলমান এরূপ করে থাকে তাহলে সে মারাত্মক কবীরা গুণাহের জড়িত হবে। এবং এ জন্য তার তাওবা-ইসতিগফার করা জরুরী।