শরী‘আতের দৃষ্টিতে মহিলাদের চাকুরী

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব১৪ আগস্ট, ২০২৫লেনদেন কামাই রোজগার, মেয়েদের বিষয়, মহিলাদের বিষয়

প্রশ্ন

বর্তমান যুগে পুরুষের পাশাপাশি মহিলারাও উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে চলছে। আমাদের দেশে সরকারীভাবে চাকুরী ক্ষেত্রেও মহিলাদেরকে, অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। শরী‘আতের দৃষ্টিতে মহিলাদের চাকুরী করার ব্যাপারে কোন নিষেধাজ্ঞা আছে কি? কুরআন ও হাদীসের আলোকে তা বিস্তারিত ভাবে জানতে চাই।

উত্তর

ইসলাম নারী ও পুরুষ প্রত্যেকের যিম্মাদারী ও দায়িত্ব পৃথকভাবে বন্টন করে দিয়েছে। বাইরের সকল দায়িত্ব স্বামীর কাঁধে অর্পিত, আর ঘরের কাজ বা আভ্যন্তরীন দায়িত্বগুলো স্ত্রীর কাঁধে অর্পিত। বস্তুতঃ মহিলাদের জন্যে যথাসম্ভব ঘরে অবস্থান আবশ্যক, বেগানা পুরুষদের সঙ্গে সম্মিলন ঘটে এমন যে কোন পরিস্থিতি থেকে দুরে থাকা জরুরী।

শরী‘আতের মূলনীতির আলোকে নারীর জন্য পর পুরুষের সাথে অফিস-আদালতে, কোর্ট-কাচারীতে চাকুরী করা একেবারেই গর্হিত এবং নাজায়েয কাজ। তাছাড়া এর দ্বারা পর্দা প্রথা, যা শি‘আরে ইসলাম এবং একটি ফরয আমল তারও মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে। এছাড়াও আরো বিভিন্নভাবে শর‘ঈ আহকাম লংঘিত হয়। এসব কারণেই মেয়েদের জন্য পর পুরুষদের সঙ্গে কাজ করতে হয় এমন কোন চাকুরী করা নাজায়েয।

তবে রুজী-রোজগারের ব্যাপারে কোন মহিলার যদি কোন ব্যবস্থাই না থাকে যেমন উপার্জনক্ষম কোন পিতা, ভাই বা স্বামী না থাকে, তাহলে পর্দার সাথে অন্য কোন হালাল পেশা অবলম্বন করতে পারে, যেমনঃ সেলাই মেশিনের কাজ বা হাঁস-মুরগী পালন বা মেয়েদের দীনী তালীম বা কুরআনী শিক্ষা দানের কাজ বা মেয়েদের দুনিয়াবী বৈধ তালীমের কাজ করে বিনিময় নেয়া ইত্যাদি। (সূরা নিসা-৪৩, মিশকাত শরীফ-২৬৯, ফিকহী মাকালাত-১:২৪৮ আপকে মাসাইল আওর উনকা হল-৭:৪০৭)

শরী‘আতের দৃষ্টিতে মহিলাদের চাকুরী | ইসলামী যিন্দেগী