প্রচলিত মহিলা মাদরাসা

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব৩ জানুয়ারি, ২০২৬মসজিদ মাদরাসা

প্রশ্ন

বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে যে নিয়ম-পদ্ধতিতে মহিলা মাদরাসামূহের প্রচলন রয়েছে, এ নিয়ম অনুযায়ী মহিলা মাদরাসা করা, শিক্ষকতা ও শিক্ষাগ্রহণ করা কুরআন ও হাদীসের আলোকে জায়িয কিনা?

যদি প্রচলিত পদ্ধতিতে মহিলা মাদরাসা জায়িয না থাকে তাহলে মহিলা মাদরাসা জায়িযের পদ্ধতি কি?

উত্তর

ইলম শিক্ষা করা প্রত্যেক নর-নারীর উপরই ফরয। বিশেষ করে ইমাম বুখারী রহ. বুখারী শরীফে মহিলাদের শিক্ষাদান প্রসঙ্গে একটি অধ্যায় কায়েম করেছেন। এর মধ্যে ঐ সব হাদীস উল্লেখ করেছেন যে গুলোর মধ্যে মহিলাদের একটি স্থানে একত্রিত করে ইলম দ্বীন শিক্ষা দেওয়ার প্রতি গুরত্বারোপ করা হয়েছে। এতে প্রমাণিত হয় যে, মহিলাদের জন্য দ্বীনী ইলম শিক্ষা করা জরুরী।

বর্তমানে আমদের দেশে যে সকল মহিলা কওমী মাদরাসা চালু আছে সাধারণত অধিকাংশ মাদরাসায় মহিলা শিক্ষিকা দ্বারা পড়ানো হয়। যেখানে পুরুষ শিক্ষক রয়েছে তারা পর্দা রক্ষা করে শিক্ষা দিয়ে থাকেন। সুতরাং বাস্তবিক এভাবে পড়ানোর ব্যবস্থা করে থাকলে তা জায়িজ আছে। তবে মহিলা দ্বারা পড়ানোই ভাল। আর যদি মহিলা শিক্ষিকা না পাওয়া যায় তাহলে পর্দার আড়াল থেকে বিবাহিত, বয়স্ক, খোদাভীরু, মুত্তাকী পুরুষও বালিগা মেয়েদের পড়াতে পারবেন ।

উল্লেখ্য যে, আমাদের দেশে অধিকাংশ মহিলা মাদরাসাগুলো আবাসিক, সেখানে ছাত্রীবাসে রেখে ছাত্রীদের পড়ানো হয় এবং শিক্ষা শেষ করে বাহির হওয়ার পর তাদেরকেও মাওলানা বলা হয় বা মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড থেকে তাদেরকে পরীক্ষা নিয়ে সনদও দেওয়া হয়। এগুলো তাদের অনেকের ক্ষেত্রে ক্ষতিকর হয়।

এ ব্যাপারে আমাদের পরামর্শ হলো মহিলা মাদরাসা করা খুবই ঝুকিপূর্ণ কাজ। এতে লাভের চেয়ে অনেক ক্ষতি বেশী হয়ে যায়। এ জন্য হক্কানী, বিচক্ষন ও বিজ্ঞ উলামাদের তত্ত্বাবধানে তা করা উচিত এবং মহিলাদের উপযোগী সিলেবাস অনুযায়ী পড়ানো উচিত। পুরুষদের ন্যায় লম্বা সিলেবাস তাদের জন্য প্রযোজ্য নয়।

মুত্তাকী পরহেযগার পুরুষ শিক্ষক দ্বারা পড়াতে হলেও পূর্ণ পর্দা ব্যবস্থা থাকা উচিত যাতে বের্পদার কোন সুরত না হতে পারে এবং প্রত্যেক এলাকায় মহিলা মাদরাসা থাকবে, যাতে দূর থেকে না আসতে হয় এবং মাদরাসা অনাবাসিক হবে। মেয়েরা আশ-পাশ থেকে এসে পড়ে যাবে। বিভিন্ন স্বভাবের মেয়েরা দীর্ঘ সময় একত্রে থাকা তাদের চরিত্রের উপর মারাত্মক বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এতে করে অনেক মেয়ে চরিত্রহীনাও হয়ে যেতে পারে এবং দাম্পত্য জীবনে স্বামীর অনুগত হয়ে চলা তার জন্য সম্ভবপর হয় না। সে কারণে স্বামী-স্ত্রীর অনেক পেরেশানী উঠাতে হয়।

এসব কারণে অনেক উলামাগণ মহিলা মাদরাসা প্রতিষ্ঠা না করার পক্ষে মত দিয়ে থাকেন এবং মহিলাদেরকে নিজের মাহরাম আত্মীয়ের নিকট দ্বীন শিক্ষা করতে উৎসাহিত করেন। [প্রমাণঃ বুখারী শরীফ ১:২০;কিফায়াতুল মুফতী২:২৬ ও ৩৫]

প্রচলিত মহিলা মাদরাসা | ইসলামী যিন্দেগী