ভ্রমণের জন্য বা হাওয়া খাওয়ার জন্য মহিলাদের বাইরে যাওয়া
প্রশ্ন
মহিলা এবং তরুণী-যুবতী মেয়েদের বোরকা পরে পর্দা সহকারে ভ্রমণের জন্য, কোন জায়গা পরিদর্শনের জন্য যেমন চিড়িয়াখানা, সমুদ্র সৈকত, বোটানিকাল গার্ডেন বা পার্ক ইত্যাদিতে যাওয়া জায়েয আছে কি? হজ্বের জন্য যেমন মহিলাদের সফর জায়েয আছে অনুরূপ ভাবে বেড়ানোর জন্য যেতে কোন অসুবিধা আছে কি? আজকাল অনেক দ্বীনদার সুফি ধরনের লোকদেরকেও দেখা যায়, স্ত্রী-কন্যাদেরকে বোরকা পরিয়ে বেড়ানোর জন্য নিয়ে যায়, সেখানে খাওয়া দাওয়া করে। সেটাকে এক ধরনের পিকনিক বলা যায়। এর কি হুকুম?
উত্তর
কুরআন হাদীসে মহিলাদের পর্দা সম্পর্কে কঠোর তাকীদের পরিপ্রেক্ষিতে এবং বাইরে বের হলে অসংখ্য ফেৎনা-ফাসাদের সম্ভাবনা রয়েছে বিধায় তাদের এধরনের ভ্রমণ-বিনোদনের জন্য ঘর থেকে বের হওয়া জায়েয নেই। যদি বের হয় তাহলে সে সহ তার স্বামী এবং অন্যান্য অভিভাবকগণও গুনাহগার হবে। তাদের সকলকে এধরনের ফাসেকী কাজ থেকে তাওবা করতে হবে।
কেননা, মহিলারা যদি বোরকা পরেও বাইরে বের হয় তাহলেও পর পুরুষের উপর তো তাদের নজর পড়বেই। পুরুষের জন্য যেমন মহিলাকে দেখা নিষেধ তেমনি ভাবে মহিলাদের জন্যও গর পুরুষকে দেখা নিষেধ। তাছাড়া বাইরে বের হওয়ার দ্বারা বাইরের বিভিন্ন অশ্লীল দৃশ্য, সিনেমার পোস্টার ইত্যাদি তার চোখে পড়বে। যাতে করে তার দিলে এর একটা প্রভাব দীর্ঘক্ষণ যাবৎ বিরাজমান থাকবে।
মহিলারা পর্দা সহকারে বের হওয়া সত্ত্বেও ফাসেক বদমায়িশরা কিন্তু তাদের দিকে দেখতে থাকে এবং সেদিকে আকর্ষণ অনুভব করে আর এই মহিলা তার কারণ হচ্ছে বিধায় সেও গুনাহগার হবে।
এখন যদি প্রশ্ন হয় যে, এসব খারাবী তো পুরুষদের ক্ষেত্রেও পাওয়া যায়। তাহলে মহিলাদের মত পুরুষদেরও বাইরে বের হওয়া নিষিদ্ধ হওয়া চায়।
এর উত্তর হল, পুরুষ ও মহিলাদের বাইরে বের হওয়ার মধ্যে দুইদিক দিয়ে পার্থক্য রয়েছে।
(ক) দ্বীনী ও দুনিয়াবী প্রয়োজনে পুরুষদের বাইরে বের হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বিধায় আল্লাহ পাক তাদেরকে হেফাযত করেন। পক্ষান্তরে মহিলাদের বেড়ানোর জন্য বের হওয়া কোন প্রয়োজনের মধ্যে পড়ে না।
(খ) স্বাস্থ্য রক্ষার জন্যও পুরুষদের বাইরে বের হওয়া জরুরী। কিন্তু মহিলাদের এটার প্রয়োজন নেই। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বিভিন্ন মাখলুক সৃষ্টি করেছেন এবং প্রত্যেকের স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য যেমন পরিবেশ প্রয়োজন তার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
আরো লক্ষ্যণীয় বিষয় হচ্ছে যে, প্রত্যেক মাখলুকের সদস্যদের মধ্যেও ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। যার যেমন তবীয়ত আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য ওরকম পরিবেশের ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন।
যেমন দেখা যায় অনেক উলামা-মাশায়েখ যারা এক জায়গায় একাগ্রতার সাথে কোন খিদমতে লিপ্ত আছেন তারা সেখানেই সুস্থ থাকেন, আর বাইরে সফরে গেলে অসুস্থ হয়ে পড়েন। আবার অনেক মুবাল্লিগ আছেন যারা দেশ বিদেশে ঘুরে ঘুরে দ্বীনের দাওয়াত দিচ্ছেন তারা এতেই ভাল থাকেন। কোথাও এক জায়গায় অবস্থান করলে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
অনুরূপ ভাবে মহিলাদেরকে আদেশ দিয়েছেন "তোমরা ঘরকে আঁকড়ে ধর।" আর তাদের জন্য ঘরের পরিবেশকেই মানানসই করে দিয়েছেন। এখন যদি এমন হয় যে, কোন মহিলার ঘরে মন টেকেনা, ভাল লাগেনা, তাহলে বুঝতে হবে অতিরিক্ত গুনাহর কারণে তার ফিতরত আর প্রকৃতি পরিবর্তন হয়ে গেছে। এটা তার বেদ্বীন হওয়ার আলামত। দ্বীনদার মহিলা যারা তাদের স্বাস্থ্য ঘরের চার দেয়ালের মধ্যেই ঠিক থাকে। এটা একটা বাস্তব ও পরীক্ষিত বিষয়।
একথা সত্য যে, সুস্বাস্থ্যের জন্য ব্যায়াম করা জরুরী। মহিলারা ঘরে যে কাজ কাম করে সেটাই তাদের জন্য উত্তম ব্যায়াম। পুরুষের মত বাইরে বের হয়ে জগিং করার প্রয়োজন নেই। ব্যায়ামের মাপকাঠি হল শ্বাস- নিঃশ্বাস দ্রুত প্রবাহিত হওয়া, ঘাম বের হওয়া, ক্লান্তি অনুভূত হওয়া। ঘরের কাজকর্ম ঠিক মত করলে মহিলাদের পৃথক কোন ব্যায়ামের দরকার হয় না। কিন্তু এখন সমস্যা হল মহিলারা ঘরে কোন কাজ করেনা, লোক দিয়ে সব করায়। তাই স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য বাইরে বের হওয়ার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। আল্লাহ পাক আমাদেরকে সহীহ বুঝ দান করুন। (আহসানুল ফাতাওয়া। ৮-৪৭)