আবাদকৃত জমিতে মসজিদ স্থানান্তর ও সেখানে নামাজের হুকুম
প্রশ্ন
বৃটিশ আমল থেকে আমাদের এলাকায় ওয়াকফবিহীন জমিতে একটি মসজিদ ছিল। সত্তর গজ মাটি খুদে মসজিদ স্থানান্তরিত করা যায় জেনে সেই সুবিধার জন্য পাকিস্তান আমলে উক্ত কায়দায় মসজিদখানা সুদ ও চক্রবৃদ্ধি সুদের দায়ে আত্মসাৎকৃত জমিতে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে মসজিদটি বৈধ ও অবৈধ টাকায় বিল্ডিং এ রুপান্তর করা হয়। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, উক্ত মসজিদে নামায আদায় বৈধ হবে কি না?
উত্তর
প্রশ্নে উল্লেখিত বৃটিশ আমলের মসজিদটি ওয়াকফকৃত জমিতে না হওয়ার কারণে, সেটা শরী‘আতের দৃষ্টিতে মসজিদ ছিল না। আর শর‘ঈ মসজিদ না হলে সেটা স্থানান্তর করা দোষণীয়ও নয়। তবে ‘সত্তর গজ মাটির খুদে নিলে কোন মসজিদ স্থানান্তর করা যায়’ -এরূপ উক্তি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কেননা, মসজিদ বরাবর মাটির নীচে পাতাল থেকে উপরের আসমান পর্যন্ত সম্পূর্ণ জায়গা মসজিদের হুকুমের শামিল।
এখন লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে এই যে, প্রশ্নে বর্ণিত পাক আমলে যে জমিনে মসজিদটি সুদের জমিতে স্থানান্তর করা হয়, তা সম্পূর্ণই সুদের দায়ে আত্মসাৎকৃত, না-কি সেটার সঙ্গে হালাল মালের বিনিময়ে ক্রয়কৃত জমিও ছিল। যদি সম্পূর্ণ জমিন সুদের দায়ে আত্মসাৎকৃত বা অন্য কোন হারাম পন্থায় অর্জিত মূল্য দ্বারা ক্রয়কৃত হিসেবে সাব্যস্ত হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে উক্তমসজিদ শর‘ঈ মসজিদ হবে না এবং উক্ত মসজিদে নামায পড়া মাকরূহ তাহরীমী হবে। তবে মাকরূহ তাহরীমী থেকে বাঁচার জন্য এলাকাবাসীর কর্তব্য হবে মসজিদের জন্য এলাকার লোকদের নিকট থেকে চাঁদা গ্রহণ করা এবং উক্ত জমির মালিক জীবিত না থাকলে, বাজার দর হিসেবে তাকে জমির মূল্য পরিশোধ করা। আর মালিক জীবিত না থাকেলে, তার উত্তরাধিকারীগণকে উক্ত টাকা প্রধান করতে হবে।মালিক বা ওয়ারিশগনণ সে টাকা গ্রহণ করে যেহেতু এ টাকা তাদেরজন্য হালালনয়সুতরাং তারা আবার মুল মালিকদের ফিরিয়ে দেবে। আর মালিক বা ওয়ারিশগণ মধ্যে কেউ জীবিত না থাকলে, মূল মালিককে সাওয়াব পৌঁছানোর নিয়্যতে উক্ত পরিমাণ টাকা গরীব-মিসকীনদেরকে সদকা করে দিবে। এ পদ্ধতি অবলম্বনের ফলে সেটা শর‘ঈমসজিদরূপে পরিগণিত হবে। তখন আর উক্ত মসজিদে নামায আদায় করা মাকরূহ হবে না। প্রকাশ থাকে যে, উক্ত মসজিদে নামায পড়া মাকরূহ হওয়া থেকে বাঁচার জন্য উল্লেখিত পদ্ধতি বাস্তাবায়িত হওয়ার আগে পর্যন্ত পার্শ্ববর্তী অন্য যে কোন মসজিদে জামা‘আতের সাথে নামায পড়া সম্ভব হলে, সেখানে নামায আদায় করবে। আর তা সম্ভব না হলে অবৈধ টাকায় নির্মিত উক্ত অবস্থাতেই জামা‘আত পরিত্যাগ করা যাবে না। পক্ষান্তরে উক্ত মসজিদের জমিতে যদি হালাল মাল দ্বারা ক্রয়কৃত কিছু জমি মিশ্রিত আছে বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে উক্ত মসজিদ শর‘ঈ মসজিদ হিসেবে গণ্য হবে। এমতাবস্থায় উক্ত মসজিদে নামায় আদায় করার কোন প্রকার অসুবিধা থাকবে না। তবে হারাম টাকার সমপরিমাণ অর্থ মালিককে ফেরত দিবে এবং অবৈধ পন্থায় গ্রহণ করেছে, তাদের অর্থ তাদের নিকট অথবা ওয়ারিশগণের নিকট ফেরত দিয়ে হক্কুল ইবাদ থেকে দায়মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করা। [প্রমাণঃ ফাতাওয়া শামী১:৬৫৮; ফাতাওয়া শামী৫:২৩৫; ফাতাওয়া মাহমূদিয়া৬:১৬৯; আযীযুল ফাতাওয়া১:৫৮৯; কিফায়াতুল মুফতী৭:৬৪; আহসানুল ফাতাওয়া৩:৪২৮; ইমদাদুল মুফতীন৮০০]