সন্তানকে বুকের দুধ পান করানো
প্রশ্ন
(ক) আজকাল অনেক মহিলা সন্তানকে বুকের দুধ পান করতে দেয় না। (খ) অনেক মহিলা পরকীয়ায় পড়ে কিংবা ভিন্ন কোন মতলবে নিজের স্বামীকে পর্যন্ত হত্যা করে ফেলে। (গ) স্বামীর অনুপস্থিতির সুযোগে বিভিন্ন বন্ধু-বান্ধব নিয়ে বাইরে ঘুরে বেড়ায়, আড্ডা দেয়। এই জাতীয় মহিলার সম্পর্কে ইসলামের কী বিধান রয়েছে জানালে কৃতজ্ঞ হব।
উত্তর
(ক) শিশুকে স্তন্যদান মাতার উপর ওয়াজিব। কোন অসুবিধা ব্যতীত ক্রোধের বশবর্তী হয়ে বা অসন্তুষ্টির দরুণ স্তন্যদান বন্ধ করলে পাপ হবে। এবং যত সময় পর্যন্ত বিবাহ বন্ধন বিদ্যমান থাকে, স্তন্যদানের জন্য স্ত্রী স্বামীর নিকট থেকে কোন প্রকার ভাতা বা বিনিময় নিতে পারবে না। কেননা এটা স্ত্রীরই দায়িত্ব। [প্রমাণঃ সূরা বাকারা, ২৩৩ # মাআরিফুল কুরআন, ১:৫২৫]
(খ) কোন মুসলমানকে ইচ্ছাকৃত হত্যা করা কবীরা গুনাহ। এ সম্পর্কে মহান রাব্বুল আ‘লামীন পবিত্র কুরআনুল কারীমের মধ্যে ইরশাদ করেছেন-“যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত মুসলমানকে হত্যা করে, তার শাস্তি জাহান্নাম। তাতে সে চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তার প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছেন। তাকে অভিশপ্ত করেছেন এবং তার জন্য ভীষণ শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন। [প্রমাণঃ সুরা নিসাঃ ৯৩]
(গ) মহিলাদের জন্য বিনা ঠেকায় সাধারণভাবে ঘর থেকে বের হওয়া নিষিদ্ধ। এছাড়া অন্য পুরুষদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করা, অযথা কথাবার্তা বলা সম্পূর্ণ কবীরা গুনাহ ও হারাম। আর একটা কবীরা গুনাহই মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যাবার জন্য যথেষ্ট। মহিলাদের পর্দার ব্যাপারে কুরআনে অসংখ্য আয়াত রয়েছে। এক আয়াতে আল্লাহ পাক মহিলাদের লক্ষ্য করে ইরশাদ করেছেনঃ “তোমরা গৃহাভ্যন্তরে অবস্থান করবে। মূর্খতার যুগের ন্যায় নিজেদেরকে প্রদর্শন করবে না।”সুতরাং অন্য পুরুষদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ কথাবার্তাই যখন হারাম তখন তাদের সাথে ঘুরে বেড়ানোর তো প্রশ্নই উঠে না। আজকাল ইংরেজী তা‘লীমের দরুন এ ধরনের বহু কুফল পরিলক্ষিত হচ্ছে। [প্রমাণঃ সূরা আল-আজহাবঃ ৩৩,৫২]