আত্মীয়তার বন্ধন টিকিয়ে রাখা

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব১৩ আগস্ট, ২০২৫সামাজিকতা আচার ব্যবহার ও রাজনীতি

প্রশ্ন

ইসলামে আত্মীয়তার বন্ধন টিকিয়ে রাখার ব্যাপারে জোর দেয়া হয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আমার আত্মীয় কে? বা কারা? আর তাদের সাথে কিভাবে আত্মীয়তা বন্ধন- টিকিয়ে রাখতে পারি?

উত্তর

এক্ষেত্রে আত্মীয় দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে, যাদের সাথে রক্তের সম্পর্ক রয়েছে। সে হিসেবে কেউ হন নিকটাত্মীয়, আর কেউ হন দুর সম্পর্কের আত্মীয়। যেমন, পিতা-মাতা, দাদা-দাদী, নানা-নানী, প্রমুখ হলেন নিকটাত্মীয়। আর অন্যান্যরা হলেন দূরের আত্মীয় যেমন- মামা, খালু, ফুফা ইত্যাদি। এক্ষেত্রেও আত্মীয়তার বন্ধন ঠিক রাখা খুবই জরুরী। আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখার জন্য বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করা যেতে পারে, যেমন- সকল আত্মীয়-স্বজনের সাথে সুযোগমত যোগাযোগ রক্ষা করা, সামর্থনূযায়ী তাদের খিদমত করা, আপদে-বিপদে তাদের খোঁজ-খবর নেয়া এবং যথাসম্ভব তাদের সাহায্য-সহযোগিতা করা। তাদের জন্য দু‘আয়ে খায়ের করা ইত্যাদি। আর আল্লাহ না করুন, যদি কখনো কোন কারণে তাদের কারো সাথে মনোমালিন্য হয়, তাহলে প্রথমতঃ নিজে আপোস করার চেষ্টা করতে হবে। এ পর্যায়ে কোন ভাবে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেলে নতুন ভাবে সস্পর্ক স্থাপন করতে হবে। সষ্পর্ক ছিন্নকারী আত্মীয়ের সঙ্গে আত্মীয়তা জুড়ে রাখার বেশী ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। কাছে ও দূরে অবস্থানের কারণে হক আদায়ে তারতম্য হয়ে থাকে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানার জন্য এবং কার কি হক, তা জানার জন্য হাকীমুল উম্মত মুজাজ্জিদে মিল্লাত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. কর্তৃক লিখিত ‘হুকুকুল ইসলাম’ নামক পুস্তিকাটি দেখা যেতে পারে। [প্রমাণঃ তিরমিযী শরীফ ২:১৩, মিশকাত শরীফ ২:৪১৯, তাকমিলায়ে ফাতহুল মুলাহিমঃ ৫:৩২৭]

আত্মীয়তার বন্ধন টিকিয়ে রাখা | ইসলামী যিন্দেগী