স্ত্রী মুসলমান হয়ে গেল আর স্বামী কাফের থাকল
প্রশ্ন
স্বামী স্ত্রী উভয়ে কাফের ছিল, পরে স্ত্রী মুসলমান হয়ে গেল আর স্বামী কাফেরই রয়ে গেল, এমতাবস্থায় উক্ত মহিলার জন্য ঐ স্বামীর সাথে ঘর-সংসার করা জায়েয হবে কি?
উল্লেখ্য যে, মহিলা এ ব্যাপারে আশাবাদি যে, স্বামীর সাথে সম্পর্ক বহাল রাখলে একদিন তাকেও মুসলমান বানানো যাবে, তাছাড়া ঐ স্বামীর ঘরে মহিলার সন্তানাদীও রয়েছে। এখন স্বামীকে ছেড়ে আসলে ছেলেমেয়েরা বিগড়ে যাওয়া এবং দ্বীন থেকে সরে যাওয়ারও আশংকা রয়েছে। এমতাবস্থায় উক্ত মহিলার জন্য স্বীয় স্বামীর সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক বজায় রাখার কোন সুযোগ আছে কি?
আর যদি এমন হয় যে, ঐ স্বামীর মুসলমান হওয়ার তো কোন আশা নেই। কিন্তু তার আখলাক-চরিত্র ভাল, স্ত্রীর অধিকার সে আদায় করছে, পরন্ত ঐ মহিলা এটাও ভয় পাচ্ছে যে, এই স্বামীকে ছেড়ে গেলে কোন মুসলমান তাকে বিবাহ করবে না, এমতাবস্থায় এই মাসআলার মধ্যে কোন পার্থক্য হবে কিনা?
উত্তর
কোন মহিলা যদি মুসলমান হয়ে যায় তাহলে অধিকাংশ উলামায়ে কেরামের মত হচ্ছে শুধুমাত্র মুসলমান হওয়ার কারণেই তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে। তবে ইমাম আবু হানীফা রহ. বলেন শুধুমাত্র মুসলমান হওয়ার কারণে বিবাহ নষ্ট হবে না বরং মহিলা ইসলাম গ্রহণের পরে তার স্বামীকেও ইসলামের দাওয়াত দেয়া হবে, যদি সে ইসলাম গ্রহণ করে তাহলে বিবাহ বাকি থাকবে আর যদি ইসলাম গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায় তাহলে বিবাহ ভেঙ্গে যাবে।
পক্ষান্তরে স্বামী যদি কিছুদিন পরে মুসলমান হয় তাহলে দেখতে হবে উক্ত মহিলার ইদ্দত পালন করা শেষ হয়েছে কি হয় নাই। যদি মহিলা এখনো ইদ্দতের মধ্যে থাকে তাহলে স্বামীর ইসলাম গ্রহণের দ্বারা পূর্ববর্তী বিবাহ আবারো বহাল হয়ে যাবে, আর যদি মহিলার ইদ্দত পালন শেষ হয়ে গিয়ে থাকে তাহলে এমতাবস্থায় উভয়ের মধ্যে নতুন করে বিবাহ পড়াতে হবে। বিবাহ পড়ানোর পরে তারা স্বামী স্ত্রী হিসাবে জীবন যাপন করতে পারবে। সুতরাং স্বামীর ইসলাম গ্রহণের কাল্পনিক আশায় শরী‘আতের অকাট্য হুকুমে কোন পরিবর্তন হবে না। (ফিকহী মাকালাত-১-২৩৮)