মসজিদের জমিতে দোকান ঘর করে ভাড়া দেওয়া
প্রশ্ন
কুষ্টিয়া জেলায় হরীনারায়ণপুর গ্রামে সরকারী জায়গায় মসজিদ নির্মাণ করা হয়। এতে সরকারী কর্তৃপক্ষেরও সমর্থন ছিল। আর.এস.রেকর্ডেও মসজিদের স্থান বলে দেখানো হয়েছে। এখন উক্ত মসজিদের পাশে ও মসজিদের কিছু অংশ নিয়ে দোকানঘর করে তা ভাড়া দেয়া যাবে কিনা?
সরকারের নিকট থেকে এখন মসজিদের জন্য অনুমতি নিতে হবে কি-না?
উত্তর
সরকারী কোন জায়গায় মসজিদ করার প্রয়োজন হলে সে মসজিদ করার দ্বায়িত্ব সয়ং মুসলিম সরকারেরই। সরকারী কর্তৃপক্ষ নিজে মসজিদ না বানিয়ে জনগনকে বানানোর অনুমতি দিলে বা অনুমতি প্রাপ্ত হয়ে জনগণ মসজিদ বানালে বা প্রথমে বানিয়ে পরে অনুমোদন করিয়ে নিলে সেটাও শর‘ঈ মসজিদ হয়ে যাবে। শর‘ঈ দৃষ্টিকোন থেকে এ অনুমোদন মৌখিক হলেও যথেষ্ট, তবে লিখিত অনুমোদন নিয়ে নিলে আইনের দৃষ্টিতে বাঞ্ছনীয়।
যেহেতু প্রশ্নের বিবরণ উক্ত মসজিদ নির্মাণে সরকারী কর্তৃপক্ষের সমর্থনের কথা উল্লেখ রয়েছে। তাছাড়া আর.এস রেকর্ডেও মসজিদের স্থান বলে স্বীকার করা হয়েছে। সেহেতু উক্ত মসজিদ শর‘ঈ মসজিদ হিসাবেই গণ্য হবে। মসজিদের কাজে ব্যবহৃত তৎসংশ্লিষ্ট জায়গায়টিও সরকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত হলে তাও মসজিদেরই গন্য হবে। উপরোক্ত আলোচনার পর প্রশ্নগুলো পর্যায়ক্রমিক উত্তর নিম্মরূপ।
খালি জায়গায় মসজিদের উন্নয়নেকল্পে দোকানঘর করা যাবে। তবে সেগুলোর পজিশন বিক্রি করা বা দীর্ঘ মেয়াদী চুক্তিতে ভাড়া না দেওয়া চাই। বরং অনুর্ধ এক বছর মেয়াদের চুক্তি করা চাই। অতঃপর মেয়াদ শেষে পুনরায় চুক্তি নবায়ন করে নিবে।
যে স্থান জুড়ে পূ্র্বে মসজিদ ছিল, সেটা চিরকাল মসজিদ থাকবে। সুতরাং সেখানে দোকান করা যাবে না বরং তা মসজিদ হিসাবে বহাল রাখতে হবে। সরকারী কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে মসজিদ নির্মিত হওয়ার পর এবং মসজিদ হিসাবে সরকারী রেকর্ডভুক্ত হওয়ার পর শরী‘আতের দৃষ্টিতে বাড়তি অনুমতির প্রয়োজন নেই। যদিও আইনী দৃষ্টিতে কাগজপত্র করে নেয়া বাঞ্ছনীয়। [মিশকাত ২৫৪; ফাতাওয়া শামী ৪:৩৮৫, ৩৫৬; ফাতাওয়া আলমগীরী ২:৪১৯]