হিলফুল ফুজুল পাঠাগারের নামকরণ
প্রশ্ন
আমি একটি ইসলামী পাঠাগার প্রতিষ্ঠিত করেছি। এর নামকরন করা হয়েছে “হিলফুল ফুজুল ইসলামী পাঠাগার”। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, পাঠাগারের সাথে এ নামটির প্রয়োগ যথার্থ হয়েছে কি-না? আর হিলফুল ফুজুল এর অর্থ কি? বিস্তারিত জানতে ইচ্ছুক।
উত্তর
আপনি একটি উত্তম কাজ করেছেন। সেজন্য আপনি অবশ্যই ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। বর্তমান বাজারে নোংড়া ও বিকৃত রুচির পত্র-পত্রিকার ব্যাপক ছড়াছড়ি রোধে ইসলামী পাঠাগার প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। সুতরাং, আপনি আল্লাহর উপর ভরসা করে কাজ চালিয়ে যেতে থাকুন। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে, আপনার পাঠাগারে যেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের আক্বীদা পরিপন্থী কোন বই-পুস্তক স্থান না পায়। কারন, বর্তমান বাজারে ধর্মের নামে এমন অনেক বই-পুস্তক প্রকাশিত হয়েছে, যেগুলো মানুষের ঈমান-আক্বীদার জন্য মারাত্নক হুমকী স্বরূপ। তাই আপনি আপনার পাঠাগারের পুস্তকগুলো কোন একজন বিজ্ঞ ও হক্কানী আলিমকে দেখিয়ে নেবেন। আর আপনার পাঠাগারের নামকরন যথার্থই হয়েছে। কারন, হিলফুল ফুজুল অর্থ হচ্ছে কল্যানের অঙ্গীকার। নবুওয়াত প্রাপ্তীর পূর্বে রাসূল ﷺ এ নামে একটি সেবাসংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। উল্লেখ্য যে, রাসূল ﷺ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এ সংগঠনের সদস্যগণ মহান আল্লাহর নামে শপথ করে, প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে ছিলেন যে, তারা উৎপীড়িত অত্যাচারিতদের পক্ষ নিবেন। এবং অত্যাচারীর নিকট থেকে অত্যাচারীতের প্রাপ্য আদায় করে দিবেন। যেহেতু আরবী ভাষায় প্রতিজ্ঞাকে ‘হিলফ’ এবংঅত্যাচারীর নিকট অত্যাচারিতের প্রাপ্য অধিকার ‘ফুজুল’ বলা হয়। এজন্যই এই সেবা সংঘের নামকরণ করা হয়েছিল ‘হিলফুল ফুজুল’। [বিদায়াহ নিহায়াহ ২:২৭১ হযরত মুহাম্মদ ﷺ সমকালীন পরিবেশ ও জীবন ২০১ পৃষ্ঠা]