সুদী ব্যাংকের চাকুরীজীবিদের উপার্জন

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব১২ আগস্ট, ২০২৫লেনদেন কামাই রোজগার

প্রশ্ন

আমার বাবা একজন ব্যাংকের ম্যানেজার। বিগত ১০-১২ বছর যাবত চাকুরিরত অবস্থায় আছেন। আমার বাবা শুধুমাএ সরকারী বেতন ব্যতীত অন্য কোন টাকা যেমন সুদ-ঘুষ মোটেও গ্রহণ করেন না। এখন অনেক লোক বলে থাকেন, ব্যাংকের টাকায় সুদ আছে। তাই তার বেতনের টাকা পবিত্র উপার্জন নয়। আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে যতটুকু সম্ভব মানুষকে এই বলে বুঝিয়ে থাকি, আমাদের এই বাংলাদেশে এমন কোন ক্ষেত্র-নাই যেখানে সুদের কিঞ্চিত আঁচড় নেই। কিন্তু কোন ব্যক্তি যখন তার মাসিক মুজুরি বা বেতন সরকারীভাবে পেয়ে থাকে সেই টাকা যে উৎস থেকেই আসুক না কেন তা উক্ত ব্যক্তির জন্য হালাল হবে। আমার বক্তব্য সঠিক কিনা জানতে চাই।

উত্তর

শরী‘আতের দৃষ্টিতে সুদের লেন দেন একটি বড় ধরনের গুনাহ। এই সুদী লেন দেন কোন প্রকার সহযোগিতা করা বৈধ নয়। বরং হারাম। আর সুদী ব্যাংকে চাকুরীর পয়সাটা যে হারাম কাজেরই বিনিময়। হারাম কাজের বিনিময়ও হারাম। সুতরাং, সুদী প্রতিষ্ঠানে যেমন চাকুরী করা বৈধ হবে না, তেমনি তার বেতনও হালাল হবে না। জানা সত্ত্বেও অন্যদের জন্যে এ বেতন থেকে কোন অংশ ভোগ করা জায়েয নয়। তবে আপনার পিতা যদি শুধুমাত্র এ চাকুরীর উপর নির্ভর করে তাহলে তিনি এ মূহূর্তেই চাকুরী না ছেড়ে ইস্তেগফার করতে থাকবেন। এবং হালাল পন্থা তালাশ করতে থাকবেন। জীবিকা নির্বাহের মত কোন হালাল পন্থা পেলেই ব্যাংকের চাকুরী ছেড়ে নতুন উপার্জনের পথ গ্রহণ করবেন। ব্যাংকের চাকুরীর বেতন বাবদ গৃহীত টাকাগুলো বা তার সমপরিমাণ সাধ্যমত সাওয়াবের নিয়্যত ছাড়াই গরীবদেরকে ছদকা করতে থাকবেন। উল্লেখ্য আপনি যে যুক্তি পেশ করেছেন তা শরী‘আতের দৃষ্টিতে ঠিক হয় নয়। (সূরায়ে মায়িদাহ -২ দুররে মুখতার, ৬:৫৫ # আহসানুল ফাতাওয়া ৮:৯১)

সুদী ব্যাংকের চাকুরীজীবিদের উপার্জন | ইসলামী যিন্দেগী