কি ধরনের আচারণে পিতা-মাতার অবাধ্য সাব্যস্ত হয়?

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব১৩ আগস্ট, ২০২৫সামাজিকতা আচার ব্যবহার ও রাজনীতি

প্রশ্ন

সন্তান তার মাতা-পিতার কোন ধরনের আদেশ অমান্য করলে এবং তাদের সাথে কি ধরনের আচার-আচরণ করলে ইসলামের দৃষ্টিতে সে মাতা-পিতার অবাধ্য সন্তান হবে সাবস্থ্য হয়?

উত্তর

পিতা-মাতার প্রতি সম্মান ও আনুগত্য প্রদর্শনের গুরুত্ব অপরিসীম, যা বর্ণনা করে শেষ করা সম্ভব নয়। কেননা, এ ব্যাপারে কুরআনের অসংখ্য আয়াত ও হাদীস বিদ্যমান রয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে কারীমের অনেক আয়াতে নিজের হক আদায়ের নির্দেশের সাথে পিতা-মাতার হক আদায় করতে বলেছেন এবং নিজের কৃতজ্ঞতার নির্দেশের সাথে সাথে মাতা-পিতার কৃতজ্ঞতা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন। তাই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে সকল মুফাসসিরীন কিরাম ও ফুকাহায়ে ইজাম এর উপর একমত পোষণ করেছেন যে, সকল বৈধ কাজের মধ্যে পিতা-মাতার আদেশ সাধ্যমত পালন করা ওয়াজিব। আর তাদের আদেশ পালন না করা চরম অবাধ্যতা হিসেবে স্বীকৃত। তাই কেউ পিতা-মাতার কোন বৈধ আদেশ নিজের শক্তি সামর্থ্য অনুযায়ী না মানলে সেই ব্যক্তি পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান বলে বিবেচিত হবে। আর যদি তারা কোন দ্বীনী কাজের নির্দেশ করেন তখন তা অমান্য করলে আরো অধিকতর অবাধ্য সন্তান বলে গণ্য হবে। যেমন, কোন লোক তার ছেলেকে নির্দেশ করে যে, তুমি ইলমে দ্বীন শিক্ষা কর তখন উক্ত ছেলে ইলমে দ্বীন শিক্ষা করল না, তাহলে তা পিতা-মাতার অবাধ্যতার অন্তর্ভুক্ত হবে। কারণ হাদীসে ইরশাদ হয়েছে যে, এক সাহাবী যুদ্ধে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করলে তার পিতা-মাতা তাকে যুদ্ধে যাওয়া থেকে বারণ করেছিলেন, এ সমস্যা নবীজী ﷺ-কে অবগত করালে তিনি উক্ত সাহাবী রাযি.-কে জিহাদে যাওয়ার অনুমতি প্রদান না করে বললেন যে, তোমার পিতা-মাতার খিদমতের জিহাদে শরীক হও। উল্লেখ্য, তখন নফীরে আম বা সকলের উপর জিহাদে যাওয়া জরুরী ছিল না। [মা আরিফুল কুরআন, ৫/৪৬৪]

এর দ্বারা বুঝা গেল যে, বৈধ কাজে, এমনকি নিজের চাহিদার বিপরীত হলেও পিতা-মাতার আদেশ পালন করা কতর্ব্য। [মুসলিম শরীফঃ ২:৩১৩, তাকমিলায়ে ফাতুহুল মলহিমঃ ৫:৩২৮]

কি ধরনের আচারণে পিতা-মাতার অবাধ্য সাব্যস্ত হয়? | ইসলামী যিন্দেগী