ইজাবের দ্বারা বিবাহ
প্রশ্ন
আজকাল অনেক ইউনিভার্সিটিতে দেখা যায় যে, দুই তিন জন বন্ধু এক সাথে বসে একজন মেয়েকে সামনে নিয়ে এরূপ বলে যে, বন্ধু তুই স্বাক্ষী আমি একে বিয়ে করেছি। এভাবে বিবাহ করা শরী‘আত অনুযায়ী বৈধ হবে কি-না? আরো দেখা যায় যে, কিছু দিন পর লেখাপড়া শেষ করে দু’জন নিজ নিজ যায়গায় চলে যায়। তাদের ব্যাপারে শরী‘আত কি হুকুম রাখে, তা জানালে খুবই উপকৃত হব।
উত্তর
বিবাহের শর্তগুলোর মধ্যে বিশেষ শর্ত হল, ঈজাব, কবুল এবং দু’জন মুসলমান সজ্ঞান সাবালক স্বাক্ষীর ঈজাব- কবুলের শব্দ শুনতে পাওয়া। যদি এ শর্তগুলো পাওয়া যায়, তাহলে শরী‘আত অনুযায়ী বিবাহ সম্পন্ন হয়ে যাবে এবং এ মেয়ের বিবাহ অন্য কারো সঙ্গে আর জায়েয হবে না। আর যদি এ শর্তগুলো না পাওয়া যায়, তাহলে বিবাহ সহীহ হয় না। উল্লেখিত প্রশ্নের বর্ণনায় যেহেতু মেয়ের পক্ষে থেকে ‘কবুল’ বলার উল্লেখ নেই, তাই এরূপ বিবাহ সহীহ হবে না।
উল্লেখ্য যে, অভিভাবক ব্যতিত ছেলে মেয়েদের এভাবে বিবাহ করাও শরী‘আতের দৃষ্ঠিতে গর্হিত কাজ। বিবাহ মুরুব্বীদের মাধ্যমে হওয়া উচিৎ। কারণ তারাই সন্তানের কল্যান বেশি বুঝেন, ইংরেজদের অনুকরণে বর্তমান ছেলে-মেয়েরা যেভাবে নিজেরা বিবাহ করেছে, তা মুসলমানদের জন্য মোটেই সমীচিন নয়। তাছারা একজন বেগানা মেয়েকে সামনে এনে এমন আচারণ করা চরম বেপয়াপনা ও গুনাহের কাজ। তাই এমন কাজ থেকে বেঁচে থাকা এবং তাওবাহ- ইস্তিগফার করা উচিত।
উল্লেখ্য যে, বর্তমানে দেশের জেনারেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের অধিকাংশগুলো বেহায়াপনার আখড়ায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে যেখানে সহশিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে সেখানে শিক্ষার নামে সভ্যতাকে জলাঞ্জলি দেয়া হচ্ছে। এ ধরনে প্রতিষ্ঠানে কোন বিবেকবান ব্যক্তি তার সন্তানদেরকে পাঠাতে পারে না। তেমনিভাবে কোন বালেগ ছেলে এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারে না। বিশেষ করে মেয়েদের তো এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া মোটেই জায়েয নয়। সুতরাং, যে সব স্কুল, কলেজ ও ইউনির্ভাসিটিতে সহশিক্ষা চালু রয়েছে, মুসলিম ছেলে-মেয়েদের জন্য সেগুলোতে ভর্তি হওয়া থেকে সম্পূর্ণরূপে দুরে থাকা উচিত। অন্যথায় বেহায়াপনা যে কোন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছতে পারে তার একটি সাধারণ দৃষ্টান্ত এ প্রশ্নেই বিদ্যমান রয়েছে।
[প্রমাণঃ মিশকাত শরীফ, ২:২৮৬ #আদ দুররুল মুখতার, ৩:৯-২১-২২ #ফাতাওয়া আলমগীরী ১:২৬৮-২৬৯ #তাতার খানিয়া- ২:৬১১ #বাদায়িউস সানায়ি, ২:২২৯ #দারুল উলূম,৭:৭৮-৮০#ফাতাওয়া মাহমূদিয়া ৭:৩৮৩]