যাকাত
প্রশ্ন
আব্দুর রহিম সাহেব একজন ব্যবসায়ী। তার প্রধানত ব্যবসা হল,নিজ জায়গাতে বাড়ী/দোকান নির্মান করা আর ভাড়া দেওয়া।এখানে আব্দুর রহিম সাহেবের এক বৎসরের আয়-ব্যয়ের হিসাব দেওয়া হল। অনুগ্রহ করে তার যাকাতের পরিমানটা বের করে দিন।
গত যাকাত বর্ষে আব্দুর রহিম সাহেব বাড়ী ভাড়া পান প্রতিমাসে ৭৭০,০০০/- টাকা করে। তার স্ত্রী ও কন্যাদের ব্যবহৃত স্বর্নের গহনার পরিমান ০৮ ভরি। ব্যাংকে ডিপিএস আছে ১৫০,০০০/-টাকার
আব্দুর রহিম সাহেবের গত বৎসরের ব্যয় সমূহ: (বাৎসরিক ব্যয়)
১। পারিবারিক খরচ : ৭০০,০০০/- টাকা
২। বিবিধ ব্যবসায়িক খরচ :১০,০০,০০০/-
৩। ব্যাংকের দীর্ঘ মেয়াদী ঋনের কিস্তি পরিশোধ :৬৬৪,০০০/-
# বাড়ী ও দোকানের এ্যাডভান্স হিসাবে গ্রহন করেন৫২,৫০,০০০/- টাকা। যার কিছু অল্প ও দীর্ঘ মেয়াদী।
# বাড়ী নির্মানের জন্য দীর্ঘ মেয়াদী ব্যাংক ঋণ গ্রহন করেছেন৫০,০০,০০০/- টাকা
# বর্তমানে মালামাল কিনতে দোকানে ঋন আছে ১৩,০০,০০০/-টাকা
# বর্তমানে বিভিন্নজনের কাছে ঋনী আছেন ১২,০০,০০০/- টাকা
মাসিক বাড়ী ভাড়ার ৭৭০,০০০/- টাকা থেকে পারিবারিক খরচবাদ দিয়ে সম্পূর্ন টাকাই তিনি নতুন বাড়ী নির্মানে ব্যয় করেন। এটাকা তিনি কখনও জমাতে পারেন না।
উত্তর
বছর শেষে যেদিন বছর পূর্ণ হবে, সেদিন এখনি পরিশোধযোগ্য ঋণ ছাড়া যত টাকা ব্যাংকে জমা আছে, এবং যে স্বর্ণ রয়েছে এর থেকে চল্লিশ ভাগের এক ভাগ যাকাত হিসেবে আদায় করতে হবে।
উপরোক্ত বিবরণে আব্দুর রহীম সাহেব বেশ কিছু টাকা ভাড়া পান, আবার তার স্ত্রীর স্বর্ণ আছে, আবার তিনি অনেক টাকার ঋণীও। কিন্তু সেই ঋণ এখনি আদায়ে তিনি বাধ্য নন। বরং তা দীর্ঘমেয়াদী কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধযোগ্য ঋণ। দীর্ঘমেয়াদী ঋণ যাকাত ওয়াজিব হবার জন্য প্রতিবন্ধক নয়।
সেই হিসেবে যাবতীয় খরচ বাদে বছরান্তে হাতে যত টাকা থাকবে, তত টাকার উপরই যাকাত আদায় করতে হবে। যদি এক লাখ টাকা থাকে, তাহলে আড়াই হাজার টাকা আদায় করে দিতে হবে।