মসজিদের ইমাম সাহেব
প্রশ্ন
আমাদের এলাকায় এক মসজিদের ইমাম সাহেব। তাকে অন্য ইমামদের মতোই বেতন দেয়া হয়। এছাড়া রমজান মাসে তার বেতন দ্বিগুণ দেয়া হয়। এছাড়া খতমে তারাবী উপলক্ষে মসজিদ কমিটি এলাকায় চাঁদা করে তাকে মোটা অংকের টাকা দেয়া হয়। যার পরিমাণ প্রায় পঞ্চাশ হাজার। এছাড়া তাকে কাপড় চোপড় ইত্যাদিও হাদিয়া দেয়া হয়।
১. আমার জানার বিষয় হলো, উক্ত ইমাম সাহেব বালেগা মেয়েদের এবং বিবাহিতা যুবতী মহিলাদের মাহরামের উপস্থিতি ছাড়া পর্দাবিহীনভাবে কুরআন শরীফ পড়ায়। কখনো কখনো তাদের গায়েও হাত দেয়। এছাড়া অশ্লীল ঠাট্টা মশকরাও করে থাকে।
এসব মহিলাদের স্বামীরা হারাম উপার্জন করে জানা সত্বেও তাদের থেকে পড়ানোর ফিস গ্রহণ করে থাকে।
২. উক্ত ইমাম সাহেব কিছু লোকদের থেকে হজ্জ করার অর্থ সংগ্রহ করে হজ্জের প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদিও তার উপর হজ্জ ফরজ নয়।
৩. উক্ত ইমাম সাহেব বিভিন্ন হোটেল উদ্বোধনে কুরআনখানী করে হাদিয়া গ্রহণ করেছে। এটা জেনে রাখতে হবে যে, হাদিয়াদাতা হোটেল মালিক মানুষের চুল বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করেছে। হোটেলও সেই উপার্জন দিয়েই নির্মাণ করেছে। আর উক্ত হোটেল বেশিরভাগ অশ্লীল কাজেই ব্যবহৃত হয়।
৪. শবে বরাতে ঘরে ঘরে গিয়ে কুরআন তিলাওয়াত করে এবং হাদিয়া হিসেবে পয়সা গ্রহণ করে। এছাড়া শবে বরাত ছাড়াও অন্যান্য সময়ে বিভিন্ন ঘরে গিয়ে খতমে কুরআন ও তিলাওয়াতে কুরআন করে টাকা উপার্জন করে।
৫. মোবাইলে ‘ড্রিম এলিভেন’ নামক জুয়ার সাইটে বাজিও ধরে।
৬. প্রায় সময়ই মিথ্যা বলে, অন্যের গীবত করে থাকে।
উপরোক্ত চরিত্র ও আখলাকের অধিকারী ইমামের কোন আমলটি হালাল ও কোন আমল হারাম স্পষ্ট করবেন। সেই সাথে এটাও জানাবেন যে, উল্লেখিত চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তির ইমামতী করার হুকুম কী? এবং ভবিষ্যতেও যদি অবস্থা এমনি থাকে, তাহলে তার পিছনে নামায কি শুদ্ধ হবে?
উত্তর
গায়রে মাহরাম মেয়ে ও মহিলাদের সাথে পর্দা ছাড়া কথা বলা, সামনে যাওয়া, স্পর্শ করা, বাজী ধরা, মিথ্যা বলা, গীবত করা, হারাম টাকা জানার পরও তা গ্রহণ করা ইত্যাদি সকল কাজ ফাসেকী এবং হারাম ও নাজায়েজ। এহেন ঘৃণিত পাপকর্ম যিনি করে থাকেন, তিনি ফাসিকে মু’লিন বা প্রকাশ্য পাপী। এমন ব্যক্তির ইমামতী করা মাকরূহে তাহরীমি।
সুতরাং এমন ব্যক্তিকে ইমামতীর মতো সম্মানিত মসনদে রাখা কোনভাবেই উচিত হবে না। অতিদ্রুত তাকে বরখাস্ত করে শরীয়তের পাবন্দ কাউকে ইমাম নিয়োগ দেয়া মসজিদ কমিটির উপর আবশ্যক। আর যদি সে তওবা করে উপরোক্ত সকল গোনাহ পরিত্যাগ করে তাহলে তাকে ইমাম হিসেবে রাখা যেতে পারে। অন্যথায় সুযোগ নেই।