ঘুষ দিয়ে বিল পাশ করানো
প্রশ্ন
আলেম সাহেবদের মুখে শুনি ঘুষ খাওয়া ও দেয়া উভয়ই হারাম, কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশ তথা অন্য রাষ্ট্রেও ঘুষের কালো হাত থেকে বাঁচা দুস্কর। এমতাবস্থায় আমি একজন কন্টাক্টার ঘুষ না খেলেও কমপক্ষে ২ লাখ টাকার বিল পাশ করতে হলে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়। অন্যথায় ৬ মাস-এক বছরেও বিল পাশ করানো সম্ভব হয় না। এমতাবস্থায় ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দেয়া আমার জন্য জায়েয কি না? যদি না হয়, তবে এই জগতে বাঁচার কি উপায় আছে, যা ইসলাম সম্মত হবে।
উত্তর
সুদ-ঘুষ গ্রহণ শরী‘আতের দৃষ্টিতে হারাম। কোন অবস্তায়ই ঘুষ গ্রহণ বৈধ নয়। তেমনিভাবে সুদ-ঘুষ দেয়াও হারাম। তবে শরী‘আতে অপারগতার ক্ষেত্রে যেমন জান-মাল, ইজ্জত-আবরু, অন্য কোন ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য এবং নিজের থেকে জুলুম দূর করার জন্য ঘুষ দেয়ার অনুমতি আছে। এক্ষেত্রে দাতা গুনাহগার হবে না, কিন্তু গ্রহিতা গুনাহগার হবে। ঘুষের পয়সা গ্রহিতার জন্য সর্বাবস্থায়ই হারাম হবে। তবে কাজ ঠিক মত না করে যদি অহেতুক বেশী বিল করেন, আর তা পাশ করানোর জন্য ঘুষ দিতে হয় তাহলে দেয়া নাজায়েয।
সুতরাং, প্রশ্নকারী যদি ঘুষ এড়িয়ে অন্য কোন হালাল উপায়ে তার বিল পাশ করানোর ব্যবস্থা করতে পারেন, তাহলে তার জন্য ঘুষ দিয়ে বিল পাশ করানো জায়েয হবে না। আর যদি অন্য কোন হালাল উপায়ে বিল পাশের ব্যবস্থা সম্ভব না হয়, তাহলে তার ন্যায্য হক আদায়ের জন্য ঘুষ দিতে পারবে। তবে যেহেতু প্রশ্ন উল্লেখিত কাজে আপনার বর্ণনা মতে, সাধারণতঃ ঘুষ ছাড়া বিল পাশ হয় না, তাই সম্ভব হলে উক্ত কাজ না করে অন্য কোন হালাল ব্যবসা অন্বেষণ করে জীবিকা নির্বাহ করার ফিকির করা বাঞ্ছনীয়। (প্রমাণঃ আল-বহরুর রায়িক, ৬:৪৪১)