চান্দ্র মাসের ক্যালেন্ডার

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব৬ জানুয়ারি, ২০২৬বিবিধ

প্রশ্ন

আমরা মুসলমান হিসাবে ইবাদতের সময় নির্ধারন করে থাকি চন্দ্র মাসের হিসাবে, অথচ চান্দ্র মাসের কোন ক্যালেন্ডার নাই। তাহলে ইসলামী মাসের আমল হিসাব কী?

উত্তর

কুরান-হাদিসের দৃষ্টিতে ইসলামী মাসের আসল হিসাব চাঁদের দ্বারাই নির্ধারিত। আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন ইরশাদ করেন, “তোমার নিকট তারা জিজ্ঞাসা করে নতুন চাঁদের বিষয়। (তাহলে) বলে দাও যে, এটি মানুষের জন্য সময় নির্ধারন এবং হজ্জের সময় ঠিক করার মাধ্যম।” [ সূরা বাকারাহ ১৮৯]

এই আয়াত দ্বারা একথা বুঝা গেল যে, চন্দ্রের দ্বারা আমরা তারিখ ও মাসের হিসাব জানতে পারব, যার উপর আমাদের লেনদেন,আদান-প্রদান প্রভৃতির ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত। এ প্রসঙ্গটিই সূরা ইউনুসে বিবৃত হয়েছে, “অতঃপর নির্ধারিত করেছেন চাঁদের জন্য মনযিল সমূহ, যাতে করে তোমরা চিনতে পারো বছরগুলোর সংখ্যা ও হিসাব। [ সূরা ইউনুসঃ ৫]

এই আয়াত দ্বারা প্রতীয়মান হল যে, বিভিন্ন পর্যায় ও বিভিন্ন অবস্থার মধ্য দিয়ে চন্দ্রের পরিবর্তনের উপকারিতা এই যে, এর দ্বারা বছর, মাস ও তারিখের হিসাব জানা যায়। হাদীস শরীফে ও প্রিয়নবী ﷺ শরী‘আতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন আহকামকে চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল করেছেন। প্রিয়নবী ﷺ ইরশাদ করেছেন, “তোমরা চাঁদ না দেখে রোযা রেখো না এবং চাঁদ না দেখা পর্যন্ত ঈদও করো না। আর যদি চাঁদ দেখা না যায়, তাহলে তোমরা হিসাব ত্রিশ দিন পূর্ন করো”। [বুখারী শরীফ ১:২৫৬]

সুতরাং প্রমাণিত হল যে, হজ্জ ইত্যাদি ইবাদত চাঁদের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ায় শরী‘আতের এ সকল ইবাদত আমাদের চান্দ্র মাসের হিসাবেই পালন করতে হবে। এজন্য ক্যালেন্ডারের প্রয়োজন নেই। বাজারে চাঁদের তারিখ সম্বলিত অনেক ক্যালেন্ডার পাওয়া যায়, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে চাঁদ দেখার পর তা ঠিক থাকে না। বরং প্রত্যেক মাসের শুরুতে চাঁদ দেখে সেই হিসাবে আমরা ইসলামী বিধান পালন করব। এ জন্যই চাঁদের হিসাব রাখা ফরজে কিফায়া। [প্রমাণঃ মা‘আরিফুল কুরআন ১:৪১২]

চান্দ্র মাসের ক্যালেন্ডার | ইসলামী যিন্দেগী