জরিমানার টাকা সুদে লাগানো
প্রশ্ন
কোন ব্যক্তি যিনা করার কারণে তার শাস্তির বদলে যে আর্থিক জরিমানা দিল। অর্থাৎ প্রতি জুতার/বেত্রাঘাতের পরিবর্তে ১০ টাকা করে দিল। পরে ঐ টাকা সুদে লাগানো হয়েছে। এখন ঐ সুদের টাকা কোন কাজে ব্যবহার করতে পারবে কি না? উল্লেখ্য, গ্রামের মধ্যে দু-দল হয়ে গিয়েছে। এক দল বলছে, এই টাকা দিয়ে ডেকোরেটরের জিনিসপত্র কিনে জনগণের স্বার্থে ভাড়া দেয়া হবে। আরেক দল বলেছে, এই টাকা দিয়ে মাদরাসার ইস্তিঞ্জাখানা তৈরী করা হবে। শরী‘আতের দৃষ্টিতে সঠিক সমাধান কি?
উত্তর
হানাফী মাযহাব অনুযাযী কোন অন্যায়ের প্রেক্ষিতে আর্থিক জরিমানা উসুল করা জায়েয নয়। যদি কোথাও অন্যায়কারী থেকে জরিমানা উসুল করা হয়, তাহলে ঐ টাকা ফিরিয়ে দেয়া ওয়াজিব। কারণ এই টাকার মালিক সেই অন্যায়কারী। আর হাদীসে এসেছে- কোন মুসলমানের মাল তার অন্তরের সন্তুষ্টি ব্যতিরেকে অন্যের জন্য হালাল নয়। (প্রমান: ফাতাওয়া মাহমূদিয়া ৫:১৮৪ # ইমদাদুল ফাতাওয়া ৪:৩৭২)
উপরন্তু সুদ কুরআন এবং হাদীস দ্বারা হারাম প্রমাণিত হয়েছে। কাজেই একবার তো জরিমানা উসুল নাজায়েয হয়েছে, তার পরে আবার ঐ টাকা সুদী কারবারে লাগানো হয়েছে। দ্বিগুণ হারাম হয়েছে। বস্তুত এ জন্যই শরী‘আতে ইলমে দীন অর্জন করা ফরয করা হয়েছে। কারণ- ইলম না থাকলে এভাবে একের পর এক ভুল হতে থাকে, অথচ বুঝতে পারে না।
এখন সুদে যে টাকা হয়েছে, ঐ টাকা অন্যায়কারী নিজের কোন কাজে ব্যবহার করতে পারবে না। তবে উচিত হবে যার থেকে সুদ নেওয়া হয়েছে সম্ভব হলে তাকে ফেরত দেওয়া। অন্যথায় ঐ টাকা সাওয়াবের নিয়্যত না করে মসজিদের বা মাদরাসার ইস্তিঞ্জা খানার নির্মাণে দিয়ে দেয়া, বা সাওয়াবের নিয়্যত ব্যতিরেকে কোন গরীবকে দিয়ে দেয়া। উক্ত সুদের টাকা দ্বারা ডেকোরেটরের জিনিসপত্র ক্রয়ের কথা বলা হয়েছে তা জায়েয হবে না।