ঘুষ দিয়ে ট্যাক্স কমানো
প্রশ্ন
সরকারী কর্মচারীকে ঘুষ দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের উপর আরোপিত নির্ধারিত ট্যাক্স এর পরিমাণ কমিয়ে সরকারী খাতে জমা দেয়া সম্পর্কে শরী‘আতের বিধান কি?
উত্তর
সরকারের প্রয়োজনীয় যাবতীয় খরচাদি ও ব্যয় প্রথমতঃ সরকার রাজস্ব আয় থেকে বহন করবে। আর যদি অপচয় ও প্রয়োজনাতিরিক্ত খরচ ব্যাতিরেকে জরুরী ব্যয়ের খাত আয়ের তুলনায় বেশী হয়, তাহলে যে পরিমাণ বাড়তি অর্থের প্রয়োজন ঠিক সেই পরিমান অর্থের জন্য নিম্নবর্ণিত শর্তাবলী সাপেক্ষ সরকার ধণী ব্যাক্তিদের প্রতি ট্যাক্স আরোপ করতে পরাবে।
(ক) ট্যাক্সের হার সম্পূর্ণ ইনসাফের ভিত্তিতে, জনগনের বহন ক্ষমতার ভিতরে ও যুক্তিযুক্ত হতে হবে।
(খ) ট্যাক্স নিরুপণ পদ্ধতি হতে হবে একবারে সাদাসিধে, যা বুঝতে সাধারণ লোকের কষ্ট না হয় এবং কতৃপক্ষের ঘাপলা করার সুযোগ না থাকে।
(গ) ট্যাক্স এর আদায় পদ্ধতির হতে হবে অত্যন্ত সহজ ও ঝামেলা মুক্ত, যেন তা আদায়ের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের কোন প্রকার সমস্যার সম্মুখীন হতে না হয়।
উল্লেখিত শর্তাবলীর মধ্য থেকে একটি শর্তও বাদ দিয়ে অথবা সঠিকভাবে পালন না করে যদি ট্যাক্স আরোপ করা হয়, তবে সেটা নিশ্চিতরূপে জনগনের উপর জুলুম ও অত্যাচার হিসাবে বিবেচিত হবে এবং তা হবে সম্পুর্ণভাবে শরী‘আতের পরিপন্থী। আর বর্তমানে উল্লেখিত শর্তসমূহের অনুস্মরন করা হয় না; বরং সরকারী আমলাদের যাবতীয় ভোগ-বিলাস, অপচয় ও অপব্যয় এবং আত্মসাতের সকল বোঝা ট্যাক্স আকারে জনসাধারণের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়। আর ট্যাক্স নির্ধারণকারী ও ট্যাক্স আদায়কারীও সাধারণতঃ জুলমের কোন সুযোগ হাত ছাড়া করতে রাজি হয় না। আর এ জন্য আইনের আশ্রয় নিতে গেলে ভোগান্তি আরো কয়েকগুণে বেড়ে যায়। এ জুলুম থেকে বাঁচার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো এবং ঘুষ দেয়া থেকে যথাসাধ্য বিরত থাকতে চেষ্টা করা উচিত। এর ফলে আর্থিক কিছু ক্ষতি হলেও তা বরদাশত করে নিতে হবে। এতটুকু করার পরও যদি জুলুম থেকে বাঁচার কোন পথ না থাকে এবং একান্ত অপারগ হয়ে জুলুম থেকে বাঁচার জন্য হিলা-বাহানা করে, তাহলে সে ব্যক্তি গুনাহগার হবে না। অবশ্য গ্রহিতার ক্ষেত্রে তা সর্বাবস্থায় সম্পূর্ণ হারাম হবে।
[প্রমাণঃ ফাতওয়া মাহমুদিয়াহ, ৫:১১৭ #ফাতওয়া শামী, ৬:৪২৩-২৪]