ব্যাংকের সুদের টাকা দ্বারা-মসজিদ মাদরাসা নির্মাণ
প্রশ্ন
ব্যাংক থেকে সুদের টাকা দ্বারা মসজিদ-মাদরাসা নির্মাণ করা যাবে কি-না? মসজিদের পায়খানায় সুদের টাকা খরচ করার জন্য তামলিকের প্রয়োজন আছে কি-না? মসজিদের পায়খানাও তো মসজিদের অংশ। সুতরাং মসজিদের পায়খানা নির্মানে উক্ত টাকা খরচ করা গেলে উক্ত টাকায় মসজিদ নির্মাণে অসুবিধা কি? সুদের টাকা দিয়ে মসজিদের বারান্দা বা ইমামের কামরা বানানো যাবে কি-না?
উত্তর
সুদী ব্যাংকে একাউন্ট খোলা নাজায়িয ও হারাম। তবে জান-মালের নিরাপত্তার জন্য একান্ত প্রয়োজনের ক্ষেত্রে ব্যাংকে চলতি একাউন্ট খোলা জায়িয আছে। কিন্তু সেভিংস একাউন্ট খোলা জায়িয নয়। তবে না জেনে কেউ এরূপ একাউন্ট খুলে থাকলে এতদসম্পর্কিত বিধান জানার পর একাউন্ট পরিবর্তন করা উচিৎ এবং এরূপ ক্ষেত্রে তার সুদের টাকা সাওয়াবের নিয়্যাত ছাড়া কোন গরীব মিসকীনদেরকে দিয়ে দিবে কিংবা জনসাধারণের কল্যাণমূলক কোন কাজে ব্যয় করবে। যেমন, রাস্তা-ঘাট, পুল-ব্রিজ, পানির হাউজ, নলকূপ ইত্যাদি।
সাওয়াবের নিয়্যাত ছাড়া সুদের টাকা দ্বারা মসজিদ-মাদরাসার বাথরুম তৈরি করা যেতে পারে। তামলীকে বা হিলার পন্থ্য অবলম্বনের কোন প্রয়োজন নাই। সুদের টাকা দিয়ে গরীব আত্মীয়দের সাহায্য করবে। এ ধরনের নিয়্যতে সুদি একাউন্ট খোলার জায়িয নেই, হারাম মাল দ্বারা দান খয়রাত করাও হারাম।
আর সুদের টাকা মসজিদ-মাদরাসা নির্মাণের কাজে ব্যবহার করা জায়িয হবে না। এমনকি তামলীক করেও তা মসজিদ-মাদরাসায় ব্যয় করা জায়িয হবে না। কেননা, আল্লাহ তা‘আলা মহা পবিত্র; অতএব, তাঁর ঘরও পবিত্র রাখার জন্য সেখানে হালাল মাল খরচ করতে হবে, হারাম মাল খরচ করা যাবে না। অবশ্য যদি কোন গরীব ব্যক্তি উক্ত টাকার মালিক হয়, তাহলে সে ব্যক্তি উক্ত টাকা তার দ্বীন-দুনিয়ার যে কোন বৈধ কল্যাণে ব্যায় করতে পারবে।
আর আপনি বলেছেন যে, মসজিদের পায়খানাও মসজিদের অংশ। এ কথা ঠিক নয়। কারণ, এটা যদি মসজিদের অংশ হত, তাহলে সেখানে নামায পড়াও জায়িয হত। বাথরুম ও পায়খানা শুধুমাত্র মাসালিহে মসজিদের মধ্যে গণ্য। সেটা মূল মসজিদের কোন অংশ নয়।
অতএব, মসজিদ এবং মসজিদের পায়খানা ও বাথরুমের হুকুমও ভিন্ন। আর মসজিদের জন্য কোন অবস্থায় সুদী টাকা ব্যয় করা যাবে না, কিন্তু মসজিদের পায়খানা ও বাথরুমের জন্য সাওয়াবের নিয়্যাত ব্যতীত তা খরচ করা যেতে পারে।
সুদের টাকা আপনি উপরোল্লিাখিত মাসরাফ তথা ব্যয়ের স্থানে খরচ করবেন। তবে মসজিদের বারান্দা বা ইমামের কামরা নির্মাণের কাজে ব্যয় করবেন না। [প্রমাণঃ আততারগীব ওয়াতারহীব ২:৫৪৫, রদ্দুলমুহতার ১:৬৫৮; ফাতাওয়া রাহীমিয়া ৩:১৭১; কিফায়াতুল মুফতী ৫:৫৮:৫৯]