সুদী ব্যাংকে চাকুরী
প্রশ্ন
বিভিন্ন সুদী ব্যাংক যেমন জনতা, সোনলী, রূপালী, অগ্রণী, তথা যে সকল ব্যাংকে সুদ লেন-দেন হয়, সেগুলোতে চাকুরী করা জায়েয কি না? এবং উক্ত ব্যাংকসমূহে চাকুরির দ্বারা উপার্জিত অর্থ হালাল হবে কি না? যদি তা হালাল না হয় তাহলে যারা হক্ব পথে থেকে হালালভাবে উপার্জন করে জীবিকা নির্বাহ করতে চায়, তাদের জন্য উল্লেখিত ব্যাংকসমূহ চাকুরীরত ব্যক্তিদের ঘরে খাওয়া বা তাদের নিকট থেকে কোন হাদিয়া বা উপটোকন গ্রহণ করা জায়েয হবে কি না?
উত্তর
ইসলাম সুদকে অনুমোদন করে না। পবিত্র কুরআনে ব্যবসাকে হালাল ও সুদকে হারাম করতঃ ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহ তা‘আলা ব্যবসাকে হালাল করেছেন, আর সুদকে হারাম করেছেন (সূরা বাকারা আয়াত-২৭৫)
সুদের ভয়াবহতা ও এর করুণ পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে পবিত্র হাদীসে ইরশাদ করেছেন, “সুদ সংক্রান্ত গুনাহের তিয়াত্তরটি স্তর রয়েছে। তম্মধ্যে সর্বনিম্ম স্তর হল নিজের মায়ের সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার সমতুল্য।” (মিশকাত ১:২৪৬)
যেমনিভাবে সুদ হারাম ও নাজায়েজ হওয়ার কারণে ইসলাম সেটাকে অনুমোদন করে না, তেমনিভাবে সুদ ভিত্তিক কোন লেন-দেনে জড়িত হওয়া বা এ কাজে সাহায্য সহযোগিতা করাও জায়েয নয়। সুতরাং, যে সকল ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানে সুদী কাজ-কারবার হয়, সেসব ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করা বা সেগুলোর গ্রাহক হওয়া কিংবা অপারগতা ব্যতীত সেসব ব্যাংকে একাউন্ট খোলা কোনটাই জায়েয নয়।
সুদভিত্তিক ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানে যারা চাকুরী করেন, গুনাহের কাজে সহযোগিতা করার দরুন তারাও গুনাহগার হবেন এবং এর বিনিময়ে অর্জিত অর্থও হালাল নয় বরং হারাম। সে অর্থ দ্বারা কাউকে খাওয়ালে বা হাদিয়া দিলে অপরের জন্যে তা গ্রহণ করা জায়েয নাই। অবশ্য তার অধিকাংশ উপার্জন হালাল হলে বা হালাল অর্থ থেকে দাওয়াত বা হাদিয়া দিলে তা গ্রহণ করা যবে । (অবশ্য তার যদি অন্য কোন হালাল উপার্জন থাকে এবং সেখান থেকে তাকে দাওয়াত বা হাদিয়া দিলে তা গ্রহণ করা যাবে।)
(প্রমাণঃ সূরা মায়িদাহ, ২ #মিশকাত শরীফ ২৪৪ #আহসানুল ফাতাওয়া, ৭:২২ #ফাতাওয়া মাহমূদিয়া, ৪:২৪২ #ফাতাওয়া রাহীমিয়া, ১:১৯৪)