ছাত্রদের দ্বারা মাদরাসার কাজ নেয়া

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব৩ জানুয়ারি, ২০২৬মসজিদ মাদরাসা

প্রশ্ন

কোন কউমী মাদরাসার মুহতামিম (প্রিন্সিপাল) মাদরাসার উন্নতির জন্য অনেকগুলো পুকুর ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করেন এবং কয়েকটি ডিপ টিউবওয়েলে শেয়ারে শরীক হন। মাছ চাষ ও ধানের ফসলের সময় কয়েকদিন পরপরেই ছাত্রদের দ্বারা (ক্লাশ না থাকাবস্থায়) কাজ করানো হয়। মাদরাসার আর্থিক উন্নতির জন্য মৌসুমে মৌসুমে ধান কালেকশন করা হয়।

উত্তর

মাদরাসা, মসজিদ বা কোন দ্বীনী প্রতিষ্ঠানের সাহায্য-সহযোগিতা করা জরুরী। বর্তমান যুগে মাদরাসা বাকী থাকার অর্থ পূর্ণ দ্বীনী বাকী থাকা। মাদরাসা বাকী থাকলে মসজিদ, খানকা, তাবলীগ ইত্যাদি বাকী থাকবে। সুতরাং মাদরাসাকে বাকী রাখা সকলের জন্য জরুরী। আর সেজন্য মাদরাসার যত ধরনের কাজ আছে সবগুলোতে আনন্দের সাথে অংশগ্রহণ করা এবং সেখানে শারীরিক ও আর্থিক সাহায্য- সহযোগিতা করাও অপরিহার্য।

আর এসব কাজ কোন বিশেষ শ্রেণীর জন্য নির্ধারিত নয়। বরং সকলের জন্যই জরুরী। সুতরাং, মাদরাসার কোন কাজে যদি কোন ছাত্রকে লাগানো হয়, তাহলে সেটা উক্ত ছাত্রের জন্য আনন্দের সাথে গ্রহণ করা উচিত। সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত মাদরাসার ছাত্রদের দ্বারা ক্লাসের অবসরে মাদরাসার যে কোন কাজ নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তাতে কোন অসুবিধা নেই। বরং ছাত্ররা যদি এরূপ কাজে আনন্দের সাথে অংশগ্রহণ করে, তাহলে তারাও দ্বীন বাকী রাখার সহযোগিতা করার দরুন সাওয়াব লাভ করবে। তবে মাদরাসার কর্তৃপক্ষ, মুহতামিম ও শিক্ষকগণের এদিকেও লক্ষ্য রাখা জরুরী যে, তারা যেন ছাত্রদের দ্বারা এত বেশী কাজ না নেন, যাতে তাদের অধিক কষ্ট হয় বা পড়া-লেখার ক্ষতি হয়। কারণ, মাদরাসা তো ইলমে দ্বীন শিক্ষা করাই জন্যই। আর সেটাই যদি নষ্ট হয়ে যায় বা বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়, তাহলে সেই মাদরাসা কালেকশন করে বাকী রাখায় লাভ কি? [প্রমাণঃ সূরা বাকারাহ ১৪৮; সূরা মায়িদাহ ২; বুখারী শরীফ ১:১৯; আল ইলমু ওয়াল উলামা ৫৭-৬০]

ছাত্রদের দ্বারা মাদরাসার কাজ নেয়া | ইসলামী যিন্দেগী