সুদখোর মায়ের বাড়িতে খাওয়া

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব১২ আগস্ট, ২০২৫লেনদেন কামাই রোজগার

প্রশ্ন

আমার মা সুদ খায়। অথচ আমি জানি সুদখোরদের জন্য আল্লাহ বিরাট আজাব রেখেছেন। আমি আমার মাকে অনেক বুঝিয়েছি, কিন্তু আমার মা তা থেকে বিরত হচ্ছে না। এ জন্য আমি রাগ করে কয়েকবার বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। তবু্ও আমার মা তা থেকে বিরত হয়নি। এখন আমি বাড়ীতে খাওয়া-দাওয়া না করার কারণে আমার মা আমার উপর রাগ করে কথা-বার্তা বলেন না। এখন প্রশ্ন হলো, এমতাবস্থায় আমার মাকে-খুশী করার জন্য আমি বাড়ীতে খাওয়া-দাওয়া করতে পারব কি না?

উত্তর

সন্তানের জন্য পিতা-মাতার আনুগত্য করা বা তাদের আদেশ মেনে চলা ওয়াজিব। তবে তারা শরী‘আত বিরোধী কোন কাজের নির্দেশ দিলে সন্তানের জন্য তা পালন করা জরুরী নয়, বরং তা মান্য না করাই জরুরী। কারণ কুরআন শরীফে সূরা লুকমানের ১৫ নং আয়াতে উল্লেখ্য রয়েছে- “পিতা-মাতা যদি তোমাকে আমার সাথে এমন বিষয়কে শরীক স্থির করতে পীড়াপীড়ি করে যার জ্ঞান তোমার নেই, তাহলে তুমি তাদের কথা মানবে না, কিন্তু দুনিয়াতে তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে”। এ ছাড়া একটি হাদীসে বর্ণিত আছে- “সৃষ্টিকর্তার নাফরমানী করে কোন মাখলূকের আনূগত্য করা যাবে না”। সুতরাং, নাজায়েয কাজের ব্যাপারে মায়ের হুকুম মান্য না করলে, আপনি গুনাহগার হবেন না।

আপনার মা যদি সুদ খায়, সুদের উপরই সংসারের খরচ নির্বাহ করে থাকে, তাই আপনার জন্য (আপনি আক্বেল, বালেগ এবং বিবেক-বুদ্ধি সম্পন্ন হলে) মায়ের সুদী টাকার খানা খাওয়া আদৌ জায়েয হবে না। আপনার খানা-পিনা তার থেকে পৃথক করতে হবে। নতুবা আপনিও সুদখোর হিসেবে গুনাহগার হয়ে শাস্তির উপযোগী হবেন। তবে দুনিয়ার জীবনে অবশ্যই পিতা-মাতার সাথে সদাচারণ ও সদ্ভাব বজায় রাখতে হবে। আর্থিক সহযোগিতা সহ যতদূর সম্ভব তাদের খিদমত করতে হবে। সাথে সাথে সুদ গ্রহণের মত জঘন্য অপরাধ থেকে বেঁচে থাকার জন্য আদবের সাথে নরম ভাষায় বুঝাতে হবে। কুরআনে কারীমের একাধিক আয়াতে সুদ খাওয়া, নেয়া-দেয়া হারাম ঘোষনা করা হয়েছে এবং এর উপর কঠোর শাস্তির হুশিয়ারী উচ্চারণ করা হয়েছে। একটি হাদীসে বর্ণিত আছে হুজুর ﷺ সুদ দাতা, সুদ-গ্রহীতা, সুদের লেখক ও সুদের সাক্ষ্যদাতা সকলের উপর অভিশাপ করেছেন। (প্রমাণঃ ফাতাওয়ায়ে মাহমূদিয়া ৪:২৪৪)

সুদখোর মায়ের বাড়িতে খাওয়া | ইসলামী যিন্দেগী