মহরের সর্ব নিম্ম পরিমাণ
প্রশ্ন
মধ্যম শ্রেণীর একজন মহিলার কি পরিমাণ মহর হওয়া উচিত ? সর্বনিম্ন মহরের পরিমাণ কত? বিবাহের সময় পুরা মহর আদায় করা জরুরী কিনা?
উত্তর
সাধারণত বিবাহের সময় কন্যার কর্তৃপক্ষ ও বর পরস্পরে মিলে যে মহর ধার্য করে, সেটাই মেয়ের মূল মহর। এক্ষেত্রে মহর কম বা বেশী ধার্য করার সম্পূর্ণ অধিকার কর্তৃপক্ষের আছে। তবে মহরে মিছল থেকে কম ধার্য করা উচিত নয়। অর্থাৎ মেয়ের বোন, ফুফু- ফুফাতো বোন ইত্যাদি এদের কারো মহরের সমান ধার্য করবে। এর থেকে কম ধরবে না। অবশ্য মহরে মিছল ধার্য করার ক্ষেত্রে সৌন্দর্য, সম্পদ, জ্ঞান, বিবেক-বুদ্ধি, কুমারীত্ব, ইত্যাদি বিষয়ে সমান সমান হতে হবে। এসব গুণগত বিষয়ে ব্যতিক্রম হলে, মহরে মিছলের মধ্যেও ব্যতিক্রম হবে।
অধিক পরিমাণে মহর নির্ধারণ জায়িয আছে। তবে খুব বেশী পরিমাণ মহর নির্ধারণ করা বা স্বামীর সামর্থ্যের বাহিরে মহরে ধার্য করা বাঞ্ছনীয় নয়। অনুরূপ ভাবে একবারে সামান্য বা তুচ্ছ পরিমাণ মহর ধার্য থেকেও শরী‘আত নিষেধ করেছে। তবে সর্বনিম্ন মহর কত হবে, সেটাও শরী‘আত নির্ধারণ করে দিয়েছে, অর্থাৎ দশ দিরহাম। হাদীসে আছে, হুযূর ﷺ বলেন, দশ দিরহামের কম মহর ধার্য করা যাবে না। বর্তমান বাজারে হিসাবে দশ দিরহামের পরিমাণ হল ২ তোলা সাড়ে ৭ মাশা। অর্থাৎ আড়াই ভরি রৌপ্য বা তার সমমূল্য। প্রতি দিরহাম= ৩ মাশা ১-৫/১ রতি। ৮ রতিতে ১ মাশা, ১২ মাশায় ১ তোলা। এই হিসাবে দশ তোলা সাড়ে ৭ মাশা (আড়াই ভরি) রূপা বা সমমূল্য টাকা সর্বনিম্ম মহর ধরা হবে। রূপার দাম বাজারে থেকে জেনে নিবেন।
[প্রমাণঃ আহসানুল ফাতওয়া ৪:৮৩২ #আযীযুল ফাতওয়া ৪৫১ #ফাতওয়া দারুল উলূম৮: ২৩০, ৮:২৬৪]
বিবাহের সময় তাৎক্ষণিকভাবে সম্পূর্ণ মহর আদায় করা জরুরী নয়। বরং কিছু অংশ পরেও আদায় করা যায়। তবে বিবাহের সাথে সাথে পুরা মহর আদায় করে দেয়াই উত্তম। একান্ত যদি কিছু পরিমাণ বাকী থাকে, তাহলে তা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হলে, যেমন ১মাস, ১বছর বা পাঁচ বছর ইত্যাদি, তবে উক্ত সময়সীমার মধ্যেই আদায় করে দিতে হবে। আর যদি অনির্দিষ্ট কালের জন্য বাকী থাকে, তাহলে সেটাও যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আদায় করে দিবে। মনে রাখবে এটা একটি দেনা। আদায় ছাড়া এর থেকে মুক্তি পাবে না। অপারগ বা অক্ষম অবস্থায় পাওনাদার যদি মাফ করে দেয়, তবে তা ভিন্ন কথা। আর যাদের কোন কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে যায়, তাদের বিবাহ বিচ্ছেদের সময় সমুদয় পাওনা মহর আদায় করে দিতে হবে।
[প্রমাণঃ আলমগীরী /৩০২ #ফাতওয়া দারুল উলূম ৮:২১৬/২১৯/২৭৫]