গ্রামীণ ব্যাংক থেকে লোন নেয়া
প্রশ্ন
এদেশে খৃষ্টান মিশনারীদের অসংখ্য সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে। এর মধ্যে গ্রামীণ ব্যাংকসহ আরো অনেক সংস্থা-গরীব লোকদেরকে সুদ ভিত্তিক লোন বা ঋণ দেয়। অনেকে ঠেকায় পড়ে ওদের থেকে ঋণ নেয়, অনেকে অর্থলোভে মিথ্যা ভাবেও ওদের থেকে ঋণ নেয়। আমার জিজ্ঞাসা, ওদের থেকে ঋণ নেয়া শরী‘আতের দৃষ্টিতে জায়েয কি-না?
উত্তর
ঋণ নেয়াটাই শরী‘আতের দৃষ্টিতে নেহায়াত অপছন্দনীয়। পরিবার পরিজনের খাওয়া বা চিকিৎসার মত জরুরী দরকারে নিরুপায় হলে, ঋণ গ্রহণ করতে পারে। আনন্দ-উৎসব কিংবা অনর্থক ব্যয় ও নাজায়েজ কাজের জন্য ঋণ গ্রহণ নিষেধ। ঋণ দাতার জন্যও বেহুদা কাজে ও অন্যায় কাজের সহযোগিতা উদ্দেশে ঋণ দেয়া নাজায়েয। তাই ঋণ কি কাজে দিচ্ছে, এ ব্যাপারেও তাহ্কীক করা প্রয়োজন।
আর সুদের শর্তে ঋণ গ্রহণ সম্পূর্ণ হারাম। অবশ্য জরুরী দরকারে ঠেকায় পড়ে কেউ যদি একান্ত সুদবিহীন ঋণ কোথাও না পায়, তাহলে তার জন্য ঠেকা দূর করা পরিমাণ সুদভিত্তিক ঋণ নেয়া জায়েয হবে। তবে মিথ্যা বলে আত্মতুষ্টি বা পয়সা বাড়ানোর জন্য যারা খৃষ্টান এন.জি.ও বা মিশনারীদের থেকে সুদভিত্তিক লোন বা ঋণ নিচ্ছে, তারা উল্লেখিত গুনাহ ছাড়াও আরো কয়েকটি গুণাহে কবীরা করছে,
(ক) ধোকা ও মিথ্যার আশ্রয়,
(খ) বিনা অপরাগতায় সুদভিত্তিক ঋণ গ্রহণ,
(গ) বেদীনদের করুণাধীন হওয়া ইত্যাদি।
সুতরাং তাদের উচিৎ মাসআলা জানার সাথে সাথে ঐ লোন ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা করা এবং আল্লাহর দরবারে তাওবা করে নেয়া। আর যারা অপারগ হয়ে নিচ্ছে, তাদেরও উচিত ছিল, যদি একান্ত সুদের শর্তে ঋণ নিতেই হয়, তাহলে এমন ব্যক্তি বা সংস্থা থেকে নেয়া যারা অন্ততঃ কখনো ঈমান হরণ করার চেষ্টা চালাবে না। আমেরিকা, অষ্ট্রেলিয়া, সুইডেন, বৃটেন, ডেনমার্ক ও নেদারল্যান্ড-এর যে সব সেবা সংগঠন সেবার নামে এদেশে কাজ করছে, তাদের উদ্দেশ্য মুসলমানদের শুধু সেবা করা নয়; বরং তারা একটি সম্মিলিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে মুসলমানদের ঈমান হরণ ও এ দেশের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে ইয়াহুদী রাষ্ট্র ইসরাইলের ন্যায় একটি খৃষ্টরাজ্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তারা এদেশে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে। তাদের এই উদ্দেশ্যকে ত্বরান্বিত করার জন্য এখন তারা সাহায্য-সহানুভূতি সরকারীভাবে না দিয়ে এদের মাধ্যমে দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করছে। এরা মসলার ব্যবসা করতে এসে নিকট অতীতে পুরা ভারতবর্ষের শুধু মালিক নয়, বরং বিধানদাতা সেজে বসেছিল। প্রায় দু-শ বছর এদেশের মুসলমানদেরকে গোলাম বানিয়ে রেখেছিল। অসংখ্য উলামাকে শহীদ করেছিল। সে ইতিহাস বড়ই করুণ। দ্বিতীয়বার তারা সেই একই উদ্দেশ্য নিয়ে এদেশে এসেছে। তবে শুধু পলিসি বদল করেছে। যাতে মুসলমানগণ তাদের পুরাতন দুশমন দেখে চিনতে না পারে ।
যা হোক, তারা তাদের উদ্দেশের পথে অনেক এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশে স্বাধীনতা লাভের মুহুর্তে এদেশে খৃষ্টানদের সংখ্যা ছিল আড়াই লাখ। বর্তমানে তাদের সংখ্যা দাড়িয়েছে ২৫ লাখে। বিগত চেয়ারম্যান নির্বাচনে অনেক এলাকা থেকে তাদের লোক ইলেকশন করেছে। আর এসব এনজিওগুলো তাদের সংশ্লিষ্ট সমর্থকদেরকে তাকীদ করে বলে দিয়েছে তাদেরকেই ভোট দিতে অন্য কোন প্রার্থীকে ভোট না দিতে। এমনিভাবে জাতীয় নির্বাচনেও তারা লোক সেট করার চিন্তা ভাবনা করছে। যাতে করে তাদের নিজস্ব লোক সংসদ সদস্য হয়ে, মন্ত্রী মিনিস্টার হয়ে খৃস্টরাজ্যের পথ সুগম করতে পারে। জানা গেছে, ইতিমধ্যে তারা জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক লোকদের সমন্বয়ে একটা রাজনৈতিক দল তেরী করতে সমর্থ হয়েছে। এভাবে তারা তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে এবং সামনের পরিস্থিতি এমন জটিল আকার ধারণ করতে যাচ্ছে যে, কোন সরকারও তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলার ক্ষমতা রাখবে না। যে-ই বলতে যাবে, তার দেশ ছাড়া হয়ে ভিন্ন দেশে পাড়ি জমাতে হবে। বর্তমানে এরা প্রচুর জমি খরিদ করে মুসলমানদের সাথে মুকাবিলার উদ্দেশ্যে অফিস নামের কেল্লা তৈরি করে চলছে।
অস্ত্রে নয়, বুদ্ধি আর প্রচারণার মাধ্যমে ইসলাম বিদ্বেষী মনোভাব ছড়িয়ে দিচ্ছে। তাছাড়া যে সব গরীবদেরকে সুদের ভিত্তিতে ঋণ দিচ্ছে, ভবিষ্যতে অনাদায়ে এসব গরীবদের জমিনের মালিক হতেও এরা চেষ্টা করে। এসব কথা সামনে রেখে মুসলমানদের উচিত এসব এন,জি,ওর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া, এদের সেবায় প্রলুদ্ধ না হওয়া। নতুবা এদের ষড়যন্ত্রের জালে আবদ্ধ না হওয়া। নতুবা এদেশের ভবিষ্যৎ বড়ই তিমিরাচ্ছন্ন হবে, যা সাধারণ শিক্ষিত লোকেরা কল্পনাই করতে পারবে না। এদের সংখ্যা এভাবে বাড়তে থাকলে, খুব তাড়াতাড়ি এদেশের অবস্হা টলটলায়মান হতে বাধ্য। যেমন ঘটেছে ইন্দোনেশিয়ায়। অনেক দীনদার মুসলমান না বুঝে এদের সমর্থন করে থাকে যে, এরা গরীবদের খুব সাহায্য করছে। এ সাহায্য তো আর কেউ করছে না। ঐ সব দীনদার ভাইদের খিদমতে আরজ, মনে করুন, আপনি বড়ই তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়লেন। এক লোক আপনাকে এক গ্লাস পানি দিয়ে উপকার করতে তৈয়ার, কিন্তু আপনার একান্ত বন্ধু বলল যে, ঐ পানিতে ঘুমের ওষধ মিশ্রিত আছে, তখন সাময়িক তৃষ্ণা নিবারণের জন্য আপনি কি ঐ পানি পান করে ঘুমের কোলে ঢলে পড়ে সর্বস্ব হারাতে তৈরী হবেন? নাকি ঐ পানি গ্রহণ করতে অস্বীকার করবেন?
তেমনিভাবে ওরা এদেশের স্বাধীনতা ও মুসলমানদের ঈমানের বদলে সেবা করছে, সেই সেবা গ্রহণ করা কতটুকু উচিত হবে, তার ফায়সালা বিবেকবান মানুষদের উপরই ন্যস্ত। ইন্দোনেশিয়া মুসলমানদের সবচেয়ে বড় দেশ। সেখানে খৃস্টান মিশনারীদেরকে বাংলাদেশের ন্যায় সেবার অবাধ সুযোগ দেয়া হয়েছিল যার পরিণতিতে সেবার নামে প্রতারণা করে খৃষ্টানরা হাজার হাজার সরলপ্রাণ মুসলমানদের খৃষ্টাণ বানিয়েছে। যার কারণে এখন সে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্নের পথে। বিশ্ব মুসলিমের দরবারে সে দেশকে বাঁচানোর জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। এ মুহূর্তে বাংলাদেশের জনগণ যদি সচেতন না হয়। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন গ্রুপে যদি খৃষ্টানদের লাগাম চেপে না ধরেন এবং নিজেদের ক্ষমতার মোহে এদের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কথা না বলেন, বরং এদের সেবার নামে প্রতারণাকে দেশের কল্যাণ এবং তাদের কৃতিত্ব ভাবতে থাকেন, তাহলে এরা ইন্দোনেশিয়ার মত এদেশের স্বাধীনতা বিপন্ন করে দিবে। এদেশের মুসলমান দ্বিতীয়বার ইংরেজদের গোলামীর জিঞ্জিরে আবদ্ধ হবে, এর জন্য ক্ষমতাসীনরা ইয়াসির আরাফাতের মতই দায়ী হবেন, যে নিজের দেশ ও জাতিকে পদ ও অর্থের লোভে ইয়াহুদ ও নাসারাদের নিকট বিক্রয় করে, বাবাক হাফীয ও নজীবুল্লাহর মত ইসলামের দুশমনদের দালালী করে ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হচ্ছে।