মুসলমানের খৃষ্টান ভাড়াটে রাখা

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব১২ আগস্ট, ২০২৫লেনদেন কামাই রোজগার

প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় জনৈক বাড়ীওয়ালা খৃষ্টান লোকদের নিকট বাড়ী ভাড়া দিয়েছে। বাড়িটির চার ভিটায় চারটি ঘর; ২টি খৃষ্টানদের নিকট ভাড়া দিয়েছে। তাদের এবং মুসলমানদের মাঝখানে কোন প্রকার পর্দা নেই। একই টিউবওয়েল ও একই পায়খানা তারা সকলে ব্যবহার করে। ছেলে-মেয়েদের খেলা-ধুলা, মেলা-মেশা তাদের সাথে হয়ে থাকে। ইসলামী শরী‘আতের দৃষ্টিতে মুসলিম সমাজে এভাবে খৃষ্টান ভাড়াটে রাখা জায়েয আছে কি-না?

উত্তর

বর্তমানে খৃষ্টান-মিশনারীরা সেবার নামে কুরআন, সুন্নাহ ও দীন ইসলামের বিরুদ্ধে যে জঘন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তা কারো অজানা থাকার কথা নয়। প্রতিদিনের পত্র প্রতিকায় তাদের ষড়যন্ত্রের কথা শোনা যাচ্ছে। তারা সেবার নামে অনেক সরল প্রাণ গরীব মুসলমানদেরকে বিভিন্ন ভাবে ধোকা দিয়ে, প্রলোভন দিয়ে, অনেক ক্ষেত্রে চাপ সৃষ্টি করে খৃষ্টান ধর্মে দীক্ষিত করছে। ধ্রুব সত্য যে, অদুর ভবিষ্যতে তারা এ দেশকে খৃষ্টান অধ্যুষিত দেশ করার জন্য পাঁয়তারা চালাচ্ছে। যেমন করেছে তারা লেবাননে।

কিছু সাহায্য-সহায়তা ও সেবার পরই তারা খৃষ্টান ধর্মের ফযীলত ও ইসলামের অসরতা বর্ণনা ও হুযূর ﷺ এর কুৎসা রটনা করছে। এমনকি তারা বলছে, “মুহাম্মদ ﷺ মূর্খ। তার ধর্মে কিছু নেই, তার ধর্মের প্রতি তার কোন আর্শিবাদ নেই। তাই মুসলমানরা গরীব। আরবের লোকেরা জাহিল ছিল বলে মুহাম্মদ ﷺ তাদেকে ধোকা দিতে পেরেছিল (নাউযুবিল্লাহ)। আর ঈসা আ. এর আর্শিবাদ আছে তাই খৃষ্টানরা ধনী। কাজেই ধনী হতে চাইলে তোমরাও খৃষ্টান হয়ে যাও।” যারা তাদের সেখানে চাকুরী করে, তাদেরকে জোরপূর্বক বাইবেল পাঠে বাধ্য করেছে। এহেন অবস্থায় এ সমস্ত সংস্থার কোন ধরণের সাহায্য- সহযোগিতা করা যেমন, এ সমস্ত খৃষ্টান লোকদের ঘড়-বাড়ী ভাড়া দেয়া তাদের নিকট জমি বিক্রি করা তাদের ষড়যন্ত্র মিশনে চাকুরী করা বা অন্য যে কোন ভাবে তাদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করা ইসলামের দৃষ্টিতে কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ ও নাজায়েয। বরং এদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করা ইসলামের দৃষ্টিতে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ও নাজায়েয। বরং এদেরকে সর্বোতভাবে বয়কট করা জরুরী। এতদ্ব্যতীত শর‘ঈ উযর ছাড়া কাফিরদের সাথে উঠা বসা চলা ফেরা, খাওয়া-দাওয়া, আত্মীয়তা বন্ধুত্ব সৃষ্টি করা শরী‘আতের দৃষ্টিতে নাজায়েয ও হারাম।

মোটকথা, উক্ত বাড়ীওয়ালা খৃষ্টানদেরকে ঘর ভাড়া দিয়ে নাজায়েয ও হারাম কাজ করেছে। তাই তার জন্য ভাড়া চুক্তি বাতিল করা এবং অতীত নাজায়েয কৃতকর্মের জন্য খালিস দিলে তাওবা ও ইস্তিগফার করা অপরিহার্য। (প্রমাণঃ সূরা আল ইমরান ২৮, #সূরা মুমতাহিনাহ ১ #ইমদাদুল মুফতীন ১০২৪, #ইমদাদুল ফাতাওয়া ৪:২৭১)

মুসলমানের খৃষ্টান ভাড়াটে রাখা | ইসলামী যিন্দেগী